সাইকোগিরি Part 04 NOVA 

সাইকোগিরি Part 04 NOVA


(নিচের কথাগুলো সবার পড়ার অনুরোধ রইলো)


শেইখ বাড়ির ডাইনিং টেবিলে সবাই রাতের ডিনার করতে ব্যস্ত। রেদোয়ান প্লেটে টুংটাং আওয়াজ করছে।কিছুই মুখে দিচ্ছে না।আসলে তার এত জলদী খাবার খেতে ভালো লাগে না। কিন্তু বড় ভাই রিজুয়ানকে মুখ খুলে সেই কথাটা বললে ঠাস করে গালে দুটো পরবে।সবাই ভয়ে ভয়ে খাবার খাচ্ছে। বাঘের সাথে খাবার খেতে নিলে এমনি তাদের কলিজা শুকিয়ে আসে।রুবিনাও আজ আশেপাশে কোথাও নেই। অন্য সময় হলে বাসার যাওয়ার জন্য পিড়াপিড়ি শুরু করতো।


তুলিঃ রিজুয়ান বাবা,আরেকটু ভাত দিবো।


রিজুয়ানঃ না,আমার যা দরকার তা আমি নিয়েই খেতে পরবো।তোমরা খাও।


আয়নাঃ বউমা,আমার খাবারটা তো আমার রুমেই দিতে পারতে।এখানে বসে খাওয়ার কি আছে?এমনি আমি হুইল চেয়ারে যাতায়াত করি।আমার তো আসতে কষ্ট  হয়ে যায়।(ভয়ে ভয়ে)


রিজুয়ানঃ কেন দাদূ?আমার সাথে খেতে তোমার কষ্ট হয়ে যায়?অন্য দিন তো তুমি অসুস্থ থাকলে তোমার খাবারটা রুমে দিয়ে এলে আম্মুর চৌদ্দ গুষ্টি নিয়ে বকা শুরু করো।আর আজ এই কথা কেন?আমার মাকে নানা বাহানায় শুধু কথা শোনানোর জন্য সুযোগ খুঁজো। এক পা কবরে আরেক পা পৃথিবীতে। তারপরেও তো তোমার, আমার মাকে নিয়ে ধারণা পাল্টালো না।তোমার জায়গায় অন্য কেউ হলে আমি তাকে ঘাড় ধাক্কা দিয়ে বাড়ি থেকে বের করে দিতাম।তোমার ভাগ্য ভালো তুমি আমার দাদু।তাই কিছু বলি না।তবে সারাদিন আজাইরা থেকে যদি আমার মা-কে কথা শোনাও।তাহলে তোমায় আমি ছাড় দিয়ে কথা হবো না।আমার আম্মু কারো বান্দী-দাসী নয়।


আয়না বেগম ভয়ে খাবার গিলতে পারছে না। তার বড় নাতী তাকে ঠান্ডা গলায় কিরকম করে হুমকি দিলো।অনেকক্ষণ ধরে রিজুয়ান খেয়াল করছে রেদোয়ান কিছু মুখে তুলছে না।শুধু খাবারগুলো নাড়ছে।তাই রিজুয়ান বাসা কাঁপিয়ে একটা ধমক দিলো রেদোয়ানকে।


রিজুয়ানঃ কখন থেকে দেখছি তোকে?খাবার খাচ্ছিস না কেন?বাড়িতে কয়টা চাকর রেখে দিয়েছিস?কিছু সময় পর পর তোর জন্য খাবার গরম করবে।তুই যদি এখন খাবার না খাস তাহলে আগামী এক সপ্তাহ তোর বাড়িতে খাবার নেই। তুই ভালো করে জানিস।আমার কথাই এই বাড়ির শেষ কথা।(রেগে)


রেদোয়ান এই বকার আশায় ছিলো।এখন গলা দিয়ে খুব সহজে খাবার নেমে যাবে।ভয়ার্ত মুখে গপগপিয়ে  একের পর এক খাবার খেতে লাগলো।ওকে দেখে মনে হচ্ছে জীবনেও খাবার খায়নি।


রিজুয়ানঃ আস্তে খা।গলায় আটকাবে।


রিজুয়ান বলতে দেরী কিন্তু রেদোয়ানের গলায় খাবার আটকাতে দেরী নেই। রেদোয়ান কাশতে লাগলো।তুলি শেইখ উঠে পানি দিতে নিলে।রিজুয়ান কড়া গলায় বললো।


রিজুয়ানঃ আম্মু, তুমি বসে তোমার খাবার খাও।ও পানি খাওয়ার প্রয়োজন মনে করলে ও নিজে নিয়ে খেতে পারবে।


তুলিঃ কিন্তু-----


রিজুয়ানঃ কোন কিন্তু নয়।ওকে সবাই সবকিছু এগিয়ে দিয়ে ওকে আরো অলস করছো।ও এখন থেকে নিজের কাজ নিজে করবে।কেউ ওকে সাহায্য করবে না।আমার কথার অবাধ্য কেউ হয়ো না। তাহলে অনেক খারাপ হয়ে যাবে। 


রিজুয়ানের কথা শুনে তুলি শেইখ নিজের চেয়ারে বসে পরলো।রেদোয়ান নিজে জগ থেকে গ্লাসে পানি ঢেলে খেয়ে নিলো।রিজুয়ান এবার ওর তীক্ষ্ম দৃষ্টি ওর বাবার দিকে দিলো।সেটা দেখে সাজিদ শেইখ চেচিয়ে রুবিনাকে ডাকলো।


সাজিদঃ রুবিনা, আমার বিপির ঔষধটা দিয়ে যাস তো।আমার বিপিটা বোধহয় এবার অনেক লো হয়ে যাবে।আমার ছেলে এবার আমার দিকে তাকিয়েছে। তার মানে এবার আমার হিসেব নিবে।(ভয়ে ভয়ে)


রুবিনাঃ আইতাছি খালুজান।


রুবিনা ঔষধের কৌটা নিয়ে দৌড়ে টেবিলের কাছে চলে এলো।রুবিনার হাত-পা অলরেডি কাঁপছে। মুখে যতই সে পটর পটর করে বলুক। রিজুয়ানকে সে ভয় পায় না।কিন্তু সামনে দেখলেই ভয়ে হাত-পা কাঁপা-কাঁপি শুরু করে।


রিজুয়ানঃ আব্বু খাবার খেয়ে তারপর ঔষধ খাও।প্লেটে আমি কোন এঁটো খাবার দেখতে চাই না। 


কথাগুলো বলে রিজুয়ান টিস্যু দিয়ে মুখ, হাত মুছতে মুছতে নিজের রুমের দিকে হাঁটতে লাগলো।ওর খাবার খাওয়া শেষ। সবাই এবার হাফ ছেড়ে বাচলো।এতক্ষণ মনে হচ্ছিলো বাঘের সাথে খাবার খাচ্ছে। 


🎭🎭🎭


সন্ধ্যা ঘনিয়ে আসছে। দ্রুত পথ চলছে অনামী।হাঁটার গতি বাড়িয়ে দিয়েছে। পশ্চিম দিগন্তে সূর্য ডুবু ডুবু হয়ে আছে।সবকিছু অন্ধকারে ছেয়ে গেছে। কিন্ডারগার্ডেন থেকে ফিরতে এতটা যা দেরী হবে বুঝতে পারেনি।রিমিকে ওর নানা এসে নিয়ে গেছে। অনামীর আরেকটা টিউশনি ছিলো।হঠাৎ করে একজন ঝড়ের গতিতে এসে অনামীর দুই বাহু শক্ত করে ধরে পেছনের গাছের সাথে ওর পিঠ ঠেকিয়ে ফেললো।অনামী ঠিক এই ব্যক্তিটার ভয় পাচ্ছিলো।


----- রাত করে চলাফেরা করার অভ্যাস তোমার গেলো না।আমি মানা করেছিলাম একা বেরুতে।আমার ম্যাসেজগুলো এখন সিন করো না।এত সাহস তোমাকে কে দিয়েছে। আমাকে ইগনোর করার সাহস হয় কোথা থেকে তোমার? 


ছেলেটার কথায় স্পষ্ট রাগ বোঝা যাচ্ছে। কিন্তু অনামীর সেদিকে খেয়াল দেওয়ার কোন প্রয়োজন মনে করছে না।কারণ ওর দুই বাহু এত জোরে শক্ত করে ধরেছে যে মনে হচ্ছে ব্যাথায় আজ মরেই যাবে।চোখ দুটো দিয়ে দুই ফোঁটা পানি গড়িয়ে পরলো।তারপরেও মানুষটা ওকে ছাড়লো না।


---- কথা বলছো না কেন?আই সে এন্সার মি!!! তুমি চুপ করে থাকলে সেটা তোমার জন্য আরো কষ্টদায়ক হয়ে দাঁড়াবে বেবিডল।তাই কথার উত্তর দেও।


অনামীঃ আমার হাত দুটো ছাড়ুন প্লিজ। আমার অনেক লাগছে।আমি ব্যাথা সহ্য করতে পারছি না। 


---আমি আমার কথার উত্তর চেয়েছি।তোমার কথা শুনতে নয়।আমি ছাড়বো না তোমায়।আরো জোরে ধরবো।তুমি যদি আমার কথার উত্তর না দেও।


অনামীঃ আজ টিউশনি করে ফিরতে দেরী হয়ে গেছে। মোবাইল ব্যাগে ছিলো।সাইলেন্ট করে থাকার কারণে আমি শব্দ শুনতে পাইনি।


ছেলেটা ভ্রু কুঁচকে ওর দিকে তাকিয়ে আছে। মুখটা কালো রুমালে বাঁধা। 


অনামীঃ আআআমমমি সসসত্যি বলছি।


----- তাহলে তোলাচ্ছো কেন?


অনামীঃ প্লিজ আমার হাতটা ছাড়ুন।আমার হাত অবশ হয়ে আসছে।


ছেলেটা অনামীর কথায় নিজের হাত দুটো ছাড়িয়ে নিলো।অনামী দুই হাত দিয়ে ব্যাথার জায়গাগুলো ডলতে লাগলো।প্রচন্ড জ্বালা করছে।মানুষ নামক কলঙ্ক ছেলেটা।মনে মনে হাজারটা গালি দিচ্ছে অনামী।


---- আমাকে গালি দিলেও তোমার জীবন থেকে আমি সরবো না। তোমার জীবনে শুধু আমার অস্তিত্ব থাকবে।অন্য কোন ছেলের নয়।যদি অন্য কেউ আসে তাহলে তাকে খুন করে ফেলবো।আমার কথার যদি আর কখনো অবাধ্য হও তাহলে তোমার আদরের রিমিকে সারাজীবনের জন্য হারাবে।


রিমির কথা শুনে আৎকে উঠলো অনামী।কোন কারণ ছাড়াই ওর সাথে রিমিকে জুড়ে দিচ্ছে ছেলেটা।ওই বাচ্চা মেয়েটা কি দোষ করেছে।ও তো পৃথিবীর সম্পর্কে কোন জ্ঞান নেই।বাচ্চা মেয়েটার মা নেই। বাবা থেকেও নেই। তার সাথে কেন লাগছে এই অমানুষটা।একটা বাচ্চা নিয়ে যে এসব কথা বলতে পারে।সে আর যাই হোক কোন মানুষের কাতারে পরে না।


অনামীঃ আমার সাথে ওর কোন রক্তের সম্পর্ক নেই। তাহলে কেন বাচ্চা মেয়েটার সাথে আমাকে জোড়া দিচ্ছেন।ওকে ওর মতো ভালো থাকতে দিন না।


ছেলেটা অনামীর গাল দুই আঙুলে স্লাইড করতে করতে বললো।


--- তুমি তো আমাকে ভালো থাকতে দিচ্ছো না।তোমার নেশায় আমাকে পাগল করে দিচ্ছো।ইচ্ছে করে বক্ষপিঞ্জিরায় বন্দী করে রেখে দেই।তুমি যদি বেশি তিড়িং বিরিং করে উড়ো।তাহলে সেটা করতেই আমি বাধ্য হবো।আমি মোটেও ভালো মানুষ নই।


অনামীঃ সেটা আমি আরো আগের থেকেই জানি।অমানুষ কোথাকার?তোর শাস্তি নিশ্চয়ই হবে।আল্লাহ তোকে মাফ করবে না। যদি তুই রিমির কোন ক্ষতি করিস।(মনে মনে)


---- কি ভাবছো বেবীডল?আজ কি বাসায় যাবে না। নাকি আমার সাথেই থাকতে ইচ্ছে করছে।যদি এমনটা হয় তাহলে আমার কোন সমস্যা নেই। তোমার জন্য আমি হাজার রাত এভাবে তোমার দিকে তাকিয়ে কাটিয়ে দিতে পারি। 


অনামীঃ আমমমি বববাসায় যাবো।(কাঁপা কাঁপা গলায়)


---- নিশ্চয়ই। চলো আমি তোমাকে পৌঁছে দিয়ে আসছি।খবরদার মানা করবা না। তাহলে আজ আর তোমার বাড়ি ফেরা হবে না। 


ছেলেটার হাব-ভাব সুবিধার মনে হচ্ছে না অনামীর।তাই বাসার দিকে হাটতে লাগলো।ছেলেটাও ওর সাথে সাথে চলছে।অনামী কিছু বলতেও পারছে না। যদি তুলে নিয়ে গিয়ে গুম করে দেয়।এই অমানুষটাকে দিয়ে বিশ্বাস নেই। এমনটা করতেও পারে।


#চলবে


আসসালামু আলাইকুম। কেমন আছেন সবাই? আজকে একটা মতামত নিতে চাইছি আপনাদের থেকে।আসলে আমি শখের ঠেলায় দুটো গল্প দিলেও এখন আমার শখ মিটে গেছে। আমার পক্ষে দুটো গল্প কন্টিনিউ করা সম্ভব হচ্ছে না। রমজানের মাসে আমি এক গল্প লেখার জন্য সময় বের করতে পারছি না।অনেক কষ্ট করে পুতুল ছেলেটি লেখার সময় বের করি।যার কারণে আপনারা দেখবেন আমার গল্পের পার্ট আগের থেকে অনেক ছোট হয়ে গেছে। ছোট করে দিলেও ১ ঘন্টার বেশি সময় লাগে এক পার্ট লিখতে।আর ১ ঘন্টায় আমি ২ পারা কোরআন শরিফ পড়তে পারি।আজকে এটা লিখতে গিয়ে কোরআন পড়তে পারি নি।তাহলে এবার আপনারাই বলেন এটাকে আমি কন্টিনিউ কিভাবে করি?আর এই মাসে আমার কাছে সবচেয়ে বড় হলো আমার ইবাদত। আমি এর আগে কিন্তু মেঘকন্যা ও বোনু দুটোই একসাথে চালাতে পেরেছি।কারণ তখন আমার হাতে পর্যাপ্ত সময় ছিলো।কিন্তু এখন নেই। তাই এটাকে আমি দিতে পারবো না।


এখন আপনারা আমাকে বলবেন,আমি কি এটা ২/১ পর্বে শেষ করে দিবো।নাকি এখন রেখে দিয়ে ঈদের পর বড় করে শেষ করবো।যদি বলেন আপু এখন শেষ করে দিন।তাহলে শেষ করে দিবো।আর যদি বলেন, না আপু রেখে দিন।ঈদের পর এটাকে দিয়েন।তাহলে ঈদের পর গল্প পাবেন।আল্লাহ হাফিজ।


❤️নোভানাজ❤️