সাইকোগিরি Part 05 by Nova
ভোরের আলো ফুটতেই যেমন অন্ধকার লেজ গুটিয়ে পালায়।তেমনি কারো জীবনের আলোটাও হুট করে অন্ধকারে মিইয়ে যায়।আজ কতদিন ধরে যে আরিফা এই অন্ধকার রুমে আছে।চেয়ারে বাধা অবস্থায় বসে থাকতে থাকতে কোমড়ের হাড্ডি মনে হয় ক্ষয় হওয়ার পথে।সারা শরীর অবশ হয়ে আসে।কিন্তু তারপরেও ঐ সাইকোর মনে সামান্য দয়া হয় না।নিজের জীবনের প্রতি এখন তিক্ততা এসে পরেছে।একদিন পালানোর জন্য পথ খুঁজে পেয়েছিলো।কিন্তু ভাগ্য সহায় ছিলো না। কোন দরজা-জানালা খোলা ছিলো না। তাই চুপচাপ আবার নিজের জায়গায় এসে বসে রয়েছে।
আরিফাঃ আমি কবে এই শয়তানের হাত থেকে রক্ষা পাবো? আল্লাহ তুমি আমার ওপর একটু দয়া-মায়া করো।আমি আর সহ্য করতে পারছি না।হয় আমায় এই অন্ধকার জীবন থেকে বের করো।নয়তো তুমি আমায় এসব থেকে মুক্তি দেও। আমি আর পারছি না।
চিৎকার করে কথাগুলো বললো আরিফা।কিন্তু ওর চিৎকার রুমের চারপাশে প্রতিধ্বনিত হতে লাগলো।নিজের ওপর প্রচুর রাগ উঠছে। আশেপাশে তাকিয়ে কিছু একটা খুঁজতে লাগলো। একসময় পেয়েও গেলো।টেবিলের ওপর ছুড়িটা রাখা আছে। সেটাই ওকে মুক্তি দিতে পারে।
আরিফাঃ আমি মুক্তি চাই।জানি আত্মহত্যা করা মহাপাপ। কিন্তু এই মুহুর্তে আমার আর কিছুই করা নেই। ঐ সাইকোটা আমাকে জীবনেও ছাড়বে না। তাই আমাকে এই কালো জীবন থেকে বের হতে হলে আত্মহত্যা করতে হবে।আমি যে নিরুপায়।
চেয়ারের থেকে টেবিলটা বেশ দূরে।হাত-পা বাঁধা অবস্থায় সেখানে যাওয়া সম্ভব নয়। দুই হাত নাড়িয়ে বুঝতে পারলো বা হাতটা কিছুটা আলগা করা।সেটাকে বেশ কিছু সময় নাড়িয়ে খোলার চেষ্টা করলো।একসময় পেরেও গেলো।বা হাত দিয়ে ডান হাতটা খুললো।তারপর পা দুটো খুলে এগিয়ে গেলো টেবিলের দিকে। চকচকা ফল কাটার ছুড়ি।গতকাল সাইকোটা ওকে ভয় দেখানোর জন্য এনেছিলো।কিন্তু নিয়ে যেতে ভুলে গেছে। আরিফা সামনে এগিয়ে গিয়ে ছুড়িটা তুলে নিলো।গলার কাছে ধরতেই চোখ দুটো দিয়ে দুই ফোঁটা পানি গড়িয়ে পরলো।
আরিফাঃ আমায় মাফ করে দিয়ো সবাই। আমি নিজের জীবনটাকে খুব ভালোবাসি।কিন্তু এখন আমার হাতে আর কিছু নেই। মৃত্যু একমাত্র আমাকে এই জীবন থেকে মুক্তি দিতে পারে। বিদায় পৃথিবী।
হাতটা থরথর করে কাঁপছে আরিফার।চোখ বন্ধ করে যেই মুহুর্তে পোচ দিতে যাবে।সেই মুহুর্তে ঝড়ের গতিতে কেউ এসে ওর থেকে ছুড়িটা ছিনিয়ে নিয়ে গেলো।ঘটনার আকস্মিকতায় আরিফা কিছুই বুঝতে পারলো না। কিন্তু যখন চোখ খুলে সামনে তাকালো।তখন ভয়ে জমে গেলো আরিফা।
🎭🎭🎭
Tsra Main Tera Main
Dubi Dubi Dhuma Dhum
Tsra Main Tera Main
Dubi Dubi Dhuma Dhum
Pehle Tu Neeli Akhiyaan Ladai Gayi
Raaton Ki Mary, Neendin Udayi Gayi
Neshe Me Tere, Mujhko Dubayi Gayi
Ase Mujhe Ghure Tu,
Kai ko?? Kai ko???
Ke Jhoote Vaade, Karke Falayigayi
Na jane kitno ko rulayi gayi
O thumko se Dil ko,Churayi gayi
Aja tujhe leke chalu
Chaiko Chaiko
O saiyaan, Saiyaan ve
Possessive Saiyaan ve
Na chhod kalaiyaan, Mor ke Baiyaan
Joldi Se side ho
Aaya mora saiyaan psycho
♪♪♪♪♪♪♪♪♪♪♪♪♪♪♪♪
Me ladki seedhi saadihi si
Bottle peeli Hai Aadhi si
Haan Teri yeh jo Gravity
Mujhe Kheeche Teri Or
O saiyaan, Saiyaan re
Main Tera Sipaiyaan re
Jo Pakdu Kalaiyaan Chood na leke
Aaja Tere Bhai ko, Bhai ko
Aaya mora saiyaan psycho
হাই ভলিউমে নাইট ক্লাবের ভেতরে Saaho মুভির সাইয়া সাইকো গানটা বাজছে।তার তালে তালে ডান্স ফ্লোরে নাচছে কতগুলো কাপল।একদিকে দাঁড়িয়ে ভাইয়ের কান্ড অবাক হয়ে তাকিয়ে আছে রেদোয়ান। রিজুয়ান একের পর এক মদের গ্লাস শেষ করছে।যেই ভাই ওকে ড্রিংক করতে মানা করে সেই ভাই আজ একের পর এক গ্লাস শেষ করছে।
রেদোয়ানঃ ভাই তুই কি পাগল হয়ে গেলি?এতো গ্লাস শেষ করছিস কেন?তুই অভ্যস্ত নস।তাই এতটা একসাথে খাস না।তোর সমস্যা হবে।
রিজুয়ানঃ একটাও কথা বলবি না।আমাকে আমার কাজ করতে দে।আটকাবি না আমায়।তাহলে খারাপ হয়ে যাবে বলে দিলাম রেদোয়ান। ছাড় আমায়।
রেদোয়ান টান দিয়ে ওর ভাইয়ের থেকে গ্লাসটা নিয়ে নিলো।যতটুকু খেয়েছে তাতেই তার ভাইকে সামলাতে আজ দফারফা হয়ে যাবে।কিন্তু হুট করে রিজুয়ানের কি হলো তাই বুঝতে পারছে না রেদোয়ান। রিজুয়ান তো ড্রিংক করার মতো ছেলে না।রিজুয়ানকে পাগলের মতো ড্রিংক করতে দেখে রেদোয়ান নিজেই ড্রিংক করতে ভুলে গেছে। রেদোয়ান গ্লাস নিয়ে যাওয়ায় রিজুয়ান সামনে থাকা মদের বোতল খুলেই মুখে ঢুকিয়ে ঢকঢক করে গিলতে লাগলো।
রেদোয়ানঃ ভাই স্টপ দিস।তুই সামলাতে পারবি না। তোর সমস্যা হবে।এবার বন্ধ কর।যা খেয়েছিস তাতেই তুই দুই দিন বিছানায় টাল হয়ে পরে থাকবি।আর খাস না।তোর ভালোর জন্য বলছি।
রিজুয়ানঃ আমার ভালো কারো ভাবতে হবে না।আমি অনেক ভালো আছি।যাকে ভালোবাসি সেই আমার থেকে পালিয়ে বেড়ায়।কেউ আমাকে বুঝতে চায় না।এমনকি তুইও না।তাই আমার ভালো নিয়ে কারো ভাবতে হবে না।(মাতাল কন্ঠে)
রেদোয়ানঃ তোর হঠাৎ কি হয়েছে ভাই?তুই এসব কথা কেন বলছিস?কাকে ভালোবাসিস তুই? সেটা আমি পরে জেনে নিবো।কিন্তু এখন বাসায় চল।এখানে থাকলে তুই ড্রিংক থামাবি না।
রেদোয়ান একপ্রকার জোর করেই রিজুয়ানকে নিয়ে গাড়িতে উঠলো।ড্রাইভারের সিটে বসে গাড়ি চালাচ্ছে রেদোয়ান। পাশের সিটে রিজুয়ান মাথা হেলিয়ে টাল হয়ে পরে আছে।থেকে থেকে কি জানি বিরবির করে বলছে।আজকের চিত্রটা পুরো উল্টো। যেখানে রেদোয়ানের থাকার কথা সেখানে রিজুয়ান।আর যেখানে রিজুয়ানের থাকার কথা সেখানে রেদোয়ান। গাড়ি চালাতে চালাতে রেদোয়ানের মাথায় শুধু একটা কথাই ঘুরছে।ওর ভাই নিশ্চয়ই খুব বড় কষ্ট পেয়েছে। নয়তো যেই ছেলে ড্রিংক স্পর্শ করে না।সে আজ বোতলের পর বোতল শেষ করেছে। বিষয়টা সত্যিই অদ্ভুত।
🎭🎭🎭
মন খারাপ করে জানালা দিয়ে বাইরে তাকিয়ে আছে অনামী।জীবনটা পুরো এলোমেলো লাগছে। কি থেকে কি হয়ে গেলো। সবই তো ঠিক ছিলো।কিন্তু হঠাৎ করে একটা ঝড় এসে সব তছনছ করে দিলো।বাবা-মা, বড় ভাই দীপু,বড় বোন মনামী আর অনামী। এই পাঁচ জন নিয়ে তাদের সুখের পরিবার ছিলো।কিন্তু এখন সবার কাছে সে অসহ্যকর এক নাম।কিন্তু সে তো কিছুই করেনি।বাসার মধ্যে শুধু বড় বোন মনামী একটু কথা বলে।কিন্তু তারও একটা সংসার আছে।যার জন্য মাসে দু-এক দিন এই বাড়িতে ঘুরে যায়।দীপু পল্লী বিদ্যুৎ অফিসে কাজ করে।ছোট বোনের খোঁজ-খবর নেওয়ার তার কোন দরকার নেই। যেই কাজ করেছে। তাতে যে ওকে বাসায় রেখেছে এটাই তো বেশি।
মেয়ের কান্ডে অনেক অসন্তুষ্ট অনামীর বাবা।তাই মেয়ের মুখও দেখেন না তিনি। যে মেয়ে বাবা-মায়ের সম্মানের কথা না ভেবে কাবিনের দিন পালিয়ে গিয়ে তার নাক কেটে দিয়েছে। তাকে দেখলে মুখটা কঠিন হয়ে যায়।অনামী ১ম ১ম মন খারাপ করলেও এখন তার অভ্যাস হয়ে গেছে। তাই কিছু মনে করে না।যা ভুল করেছে তাই ওর প্রাপ্য। নিজের টিউশনি ও চাকরির টাকা দিয়ে ওর মাসখরচ দিব্যি চলে যায়।তবুও মাঝে মাঝে সবার সাথে একটু কথা বলার জন্য মনটা বড্ড আনচান করে।
অনার্সে থাকতে একটা ছেলেকে ভীষণ ভালোবাসতো অনামী।অনেক বছরের সম্পর্ক ছিলো তাদের। হুট করে মাস ছয় আগে অনামীর বিয়ে ঠিক করে ওর বাবা।ছেলেপক্ষ বলেছিলো এখন কাবিন করে রাখবে
পরবর্তীতে অনামীর পড়াশোনা শেষ হলে উঠিয়ে নিয়ে আসবে।কিন্তু কাবিনের দিন সকালে অনামী পালিয়ে যায় সেই ছেলের কাছে।বাস স্টেশনে গিয়ে ঘন্টা চার বসে থাকার পরেও তার ভালোবাসার মানুষটা আসে না।শেষ পর্যন্ত উপায় না পেয়ে অনামী আবার বাসায় ফিরে আসে।কিন্তু ততক্ষণে সারা এলাকা প্রচার হয়ে গেছে অনামী বিয়ের আসর ছেড়ে পালিয়েছে।বাসায় ঢুকতেই ভাই ও বাবা দুটো চড় দিয়ে স্বাগতম জানায় ওকে।তারপর থেকে বাড়ির কেউ ওর সাথে কথা বলে না।মনামী বললেও লুকিয়ে বলে।এই ঘটনার পর অনামীর পুরো পরিবার ঐ এলাকা ছেড়ে নতুন জায়গায় এসে বাসা ভাড়া নেয়।
পুরনো স্মৃতিচরণ করতে গিয়ে চোখের কোণ দুটি পানিতে ভরে উঠে অনামীর।ভুল মানুষকে ভালোবেসেছিল। এত বছর পার করেও মানুষটাকে চিনতে পারেনি।তারপর থেকে ঐ ছেলের কোন খোঁজ অনামী জানে না।আর জানতে চায়ও না।ম্যাসেজের টুং শব্দে ধ্যান ফিরে অনামীর। মোবাইলটা হাতে নিয়ে দেখতে পায় সেই আননোন নাম্বারের ম্যাসেজ।
"" একটু বারান্দায় আসবে।তোমাকে দেখতে খুব মন চাইছে। প্লিজ একটু আসো। ""
ম্যাসেজটা দেখে ভীষণ অবাক হলো অনামী।সবসময় তো হুমকি-ধমকি দিয়ে ম্যাসেজ করে।তাহলে আজ হলো কি?এতো সুন্দর করে অনুরোধ করছে।কেন জানি অনামীর এই অনুরোধ মাখা কথাগুলো ভালো লাগলো।নিজের অজান্তে ঠোঁটের কোণে এক টুকরো হাসি ফুটে উঠলো। মাথায় ওড়না দিতে দিতে বারান্দায় দাঁড়ালো। কিন্তু কাউকে দেখতে পেলো না।মনটা খারাপ হয়ে গেলো তার। কিন্তু সেই মানুষটা কিন্তু দূর গাছের আড়াল থেকে ওকে ঠিকই দেখতে পেয়েছে।
#চলবে
চেষ্টা করবো এবার থেকে সাইকোগিরি গল্পটা নিয়মিত দেওয়ার।কিন্তু জানি না পারবো কিনা।কারণ আমার ইদানীং গল্প লিখতে একটুও ভালো লাগে না।তবে আমার সময়মতো আমি ঠিক দিয়ে দিবো।এর জন্য ইনবক্স করার কোন দরকার নেই।
01
https://www.facebook.com/105349841437553/posts/180768727228997/
02
https://www.facebook.com/105349841437553/posts/183176060321597/
03
https://www.facebook.com/105349841437553/posts/184908446815025/
04
https://www.facebook.com/105349841437553/posts/187953623177174/
