সাইকোগিরি Part 02  by NOVA 

সাইকোগিরি Part 02  by NOVA


কিছু বুঝে ওঠার আগে, একজোড়া হাত এসে অনামীর গলা চেপে ধরলো। ঘটনার আকস্মিকতায় অনামী বোকা বনে গেলো।পেছনের দেয়ালের সাথে তার পিঠ ঠেকে গেছে। গলাটা এত জোরে ধরেছে যে মনে হচ্ছে মেরেই ফেলবে।ল্যাম্পপোস্টের আবছা আলোতে একটা ছেলের অবয়ব দেখা যাচ্ছে। কিন্তু মাস্ক পরে থাকার কারণে মুখটা স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে না। তার শান্ত গলার হুমকি শুনে কিছুটা ভয় পেয়ে গেল অনামী।


---- কি ভেবেছিলে তুমি? আমার কাছ থেকে পালিয়ে রেহাই পাবে?তা কিছুতেই হচ্ছে না। তুমি আমার ছিলে আর আমারি থাকবে।সেটা তোমার ইচ্ছায় হোক কিংবা অনিচ্ছায়। দূর থেকে আগলে রেখেছিলাম ভালো লাগেনি।এবার সামনের থেকে আমার সাইকোগিরি কর্মকান্ড সহ্য করো।


অনামী দুই হাত দিয়ে প্রাণপণে তার গলা থেকে হাত সরাতে চাইছে।কিন্তু সামনে থাকা ব্যক্তির শক্ত হাত জোড়া তার মতো ছিমছাম গঠনের মেয়ের সরানো কিছুতেই সম্ভব নয়।ছেলেটার চোখ দিয়ে মনে হচ্ছে আগুন ঝরছে।সেই আগুন দিয়ে আজ অনামীকে ভস্ম করে দিবে।


----- একদম নড়াচড়া করবে না। নয়তো সত্যি সত্যি মেরে ফেলবো।আমাকে রাগিও না।তাহলে তোমার সবকিছু হারাতে হবে।তোমাকে খুঁজে যেহেতু পেয়েছি এবার আর পালাতে দিবো না। আমিও দেখি তুমি কি করো?তোমার জীবনে এবার আমি এন্ট্রি নিবোই।যদি কোন পছন্দের মানুষ থাকে, তাহলে তাকে ডিলিট দিয়ে দাও।নয়তো তাকে হারানোর শোকে তুমি পাগল হয়ে যাবে।তোমার পছন্দের মানুষকে মারতে আমি একটুও দ্বিধা করবো না। তোমার ভাগ আমি কাউকে দিতে পারবো না বেবিডল।


অনামী এবার চোখ, মুখে অন্ধকার দেখতে শুরু করলো।ছেলেটা ওর অবস্থা বুঝতে পেরে হাত দুটো সরিয়ে নিলো।অনামী ছাড়া পেয়ে বড় বড় করে নিঃশ্বাস নিলো।আর মিনিট খানিক এভাবে থাকলে সে পরপারে থাকতো।গলা ধরে রাগী চোখে ছেলেটার দিকে তাকালো।


---- নো নো বেবিডল।এভাবে তাকাবে না।আমি চোখ রাঙানো একদম পছন্দ করি না।নয়তো তোমার চোখ তুলে ফেলতেও আমি ২য় বার ভাববো না।সবসময় আমার অনুগত্য থেকো।তাহলে তোমার জন্য মঙ্গল। আমাকে রাগ দেখিয়ো না।তাহলে হিতের বিপরীত হবে।কথাটা মনে রেখো বেবিডল।


দুই আঙুল দিয়ে অনামীর গাল স্লাইড করতে করতে কথাগুলো বললো ছেলেটি।অনামীর অনেক রাগ উঠছে।ইচ্ছে করছে ঠাটিয়ে এক চড় মেরে মুখটা ভেসকে দিতে।কিন্তু তারপর যদি ওকে তুলে নিয়ে গিয়ে গুম করে দেয়।তখন তো ওর খোঁজ খবরও কেউ পাবে না। 


---- এখন থেকে ২৪ ঘন্টা তুমি আমার নজরবন্দি। তাই সাবধানে কাজ করো।নয়তো আজকের থেকে ভয়ানক কিছু তোমার জন্য হবে।আজকে শুধু ট্রেইলার দেখালাম।তুমি আমার অবাধ্য হলে পুরো পিকচার দেখিয়ে দিবো।প্রতিদিন তোমাকে ম্যাসেজ করে সব আপডেট জানাবো।বি কেয়ার ফুল বেবিডল।আল্লাহ হাফিজ।টেক কেয়ার ইউরসেল্ফ।


কথা শেষ করে এক মিনিটও দাঁড়ালো না ছেলেটি।দ্রুত সেখান থেকে চলে গিয়ে রাতের অন্ধকারে মিশে গেল।অনামী এখনো ঘোরের মাঝে আছে।উপরে রাগ দেখালেও মনে মনে বেশ ভয় পেয়ে গিয়েছিল। ঠোঁট শুকিয়ে আসছে।তাই জিহ্বা দিয়ে ঠোঁট জোড়া ভিজিয়ে নিলো। কাজের সুবাদে প্রায় তাকে এই নির্জন রাস্তা দিয়ে রাতে চলাচল করতে হয়।কিন্তু কখনো সে এরকম ঘটনার মুখোমুখি হয়নি।বুকে ফুঁ দিয়ে জলদী পা চালালো বাসার দিকে।


🎭🎭🎭


এক মগ পানি আরিফার ওপর পরতেই ধরফরিয়ে উঠলো সে।কিন্তু যতটা দ্রুত সে উঠতে চেয়েছিলো ততটা দ্রুত পারলো না।হাত-পা বেঁধে রাখার জায়গাগুলো খুব জ্বালা করছিলো।ঠান্ডা পানি পাওয়ায় বেশ আরাম লাগলো।দূর্বল চোখে তাকাতেই দেখতে পেলো সাইকোটা মুচকি হেসে ওর দিকে তাকিয়ে আছে। হাতে একটা লাল মগ।


---- শালী সাহেবা,ঘুম দিয়েছিলে মনে হচ্ছে। তোমার জন্য তো একটা গুড নিউজ আছে।ওহ সরি।তোমার জন্য ব্যাড নিউজ।আর আমার জন্য গুড নিউজ।


আরিফার মুখ খোলা আছে।তাই কাঁপা কাঁপা কন্ঠে জিজ্ঞেস করলো।


আরিফাঃ কিকককসের গুড নিননউজ? 


---- তুমি তো জানো না। আমি বললে তো জানবে।হ্যাঁ, বলছি।তোমার প্রাণ প্রিয় বান্ধবীকে আমি পেয়ে গেছি।খুব শীঘ্রই ওকে আমার খাঁচায় বন্দী করবো।


আরিফাঃ প্লিজ আপনি অনামীর কোন ক্ষতি করবেন না।আমাকে মারুন,কাটুন যাই করুন।ওকে ছেড়ে দিন।কি ক্ষতি করেছে ও? ওর সর্বনাশ কেন করতে চায়ছেন? ওকে ওর মতো বাঁচতে দিন।


---- কি যা তা বলো শালী সাহেবা? ওর সর্বনাশ কেন করবো? ওকে আমি ভালোবাসি।ওকে ছাড়া আমি ভালো থাকবো না।তাই অনামীকে আমার চাই।ও যদি আমার কথা মতো চলে।তাহলে ওকে রাজরাণী করে রাখবো।কিন্তু যদি অবাধ্য হয়, তাহলে ওর জন্য আমার আলট্রা মেক্স প্রো সাইকোগিরি তো ফ্রী আছেই। 


আরিফাঃ এটাকে ভালোবাসা বলে না।আপনি ওকে ভালোবাসেন না।এটা আপনার মোহ।সাইকোরা আর যাই পারে, কোনদিন কাউকে ভালোবাসতে পারে না।কারণ আপনাদের মতো সাইকোর মনে মনুষ্যত্ব নামক শব্দটার ছিটেফোঁটাও নেই। আর ভালোবাসা আদায় করে নেওয়ার বস্তু।জোর করার নয়।(রেগে)


ছেলেটা সামনে এগিয়ে এসে আরিফার টুটি চেপে ধরলো। রাগী গলায়, চোখ রাঙিয়ে বললো।


----- ভালোবাসা আমায় শিখাতে এসো না। আমি যেটা জানি,বুঝি সেটাই ঠিক।অন্যর মন মতো আমি চলি না।আমার কাছে যেটা ঠিক মনে হয় সেটা করবো।আর যেটা বেঠিক মনে হয় সেটা করবো না। তবে আমি যেইরকমি হই না কেন?অনামীকে আমার সাথেই থাকতে হবে। নয়তো ওর জন্য বিপদ সংকেত  অপেক্ষা করবে।আমার অনামীকে চাই।আর অনামী আমারি হবে।ও যদি এই সাইকোর না হয় আর কারো হতে পারবে না। ওকে পাওয়ার জন্য যদি কাউকে খুনও করতে হয় তাও আমি ঠান্ডা মাথায় করবো।


আরিফার চোখ দিয়ে টপটপ করে পানি পরছে।এতকিছু সে একসাথে সহ্য করতে পারছে না।এর থেকে মৃত্যুও ওর কাছে শ্রেয়। এত অত্যাচার কোন স্বাভাবিক মানুষ করতে পারে।মনে মনে দৃঢ় প্রতিজ্ঞা করেছে আরিফা।একবার যদি এই সাইকোর থেকে ছাড়া পাক তারপর এই ব্যাথাগুলো দ্বিগুণ হারে ফিরিয়ে দিবো।


সাইকো তার হাত ছাড়িয়ে নিলো।তারপর দুই হাত দিয়ে মাথার চুলগুলো পেছন দিকে টেনে দিয়ে বিরবির করে কি জানি বললো।তারপর আরিফার দিকে শান্ত চাহনিতে তাকিয়ে বললো।


----  তোমার জন্য খাবার এনেছি।তাই ডান হাত খুলে দিচ্ছি।চুপচাপ খাবার খেয়ে নেও।হাত খোলা পেয়ে যদি পালানোর চেষ্টা করো, তাহলে সেদিনের মতো শুধু কাটা চামচ হাতে ঢুকাবো না।বরং ডান হাত পুরোটা এক কোপে ফেলে দিবো।সো, বি কেয়ার ফুল।


আরিফার ডান হাত খুলে দিয়ে সামনে খাবারের প্যাকেট রাখলো।বাইরে থেকে পানির বোতল এনে সামনে দিয়ে গেল।রুম থেকে শান্ত ভঙ্গিতে হেঁটে চলে গেল। তবে বাইরের থেকে দরজা লাগাতে ভুললো না ছেলেটি।আরিফার বাম হাত এখনো ফুলে ঢোল হয়ে আছে। পুরোটা সাদা কাপড় দিয়ে ব্যান্ডেজ করা।সাইকোটা কাটা চামচ ঢুকিয়ে আবার নিজেই ব্যান্ডেজ করে দিয়েছে। ব্যাথায় হাত নাড়াতে পারছে না। ফুপিয়ে কেঁদে উঠলো আরিফা।তার এখন কান্না ছাড়া কিছুই করার নেই। প্রচুর খুদা লেগেছে। তাই দিকপাশ না তাকিয়ে খেতে আরম্ভ করলো সে।


🎭🎭🎭


শেইখ বাড়ি.........


ডাইনিং টেবিলে মিসেস তুলি শেইখ তার স্বামী সাজিদ শেইখ ও শাশুড়ী আয়না বেগমকে খাবার বেড়ে দিচ্ছে। রিজুয়ান এখনো বাসায় ফিরে নি।মোটামুটি ভালো একটা বেসরকারি কোম্পানিতে জব করে রিজুয়ান।রেদোয়ানের পড়াশোনা শেষ। তবে সে কোন কাজ করে না।সারাদিন হাওয়া লাগিয়ে বন্ধুদের সাথে ঘুরে বেড়ানো,আড্ডা দেওয়া, নাইট ক্লাবে ড্রিংক করাই তার প্রধান কাজ।ওদের দাদা মারা গেছে। দাদী আয়না বেগম ওদের সাথে থাকে।রিজুয়ানের কোন চাচা,ফুফু নেই। বাবা-মায়ের একমাত্র ছেলে সাজিদ শেইখ। 


চার রুম,একটা বিশাল ড্রয়িং রুম ও কিচেন  বিশিষ্ট একটা ফ্ল্যাট বাসায় তারা পুরো পরিবার থাকে।নিজস্ব এই ফ্ল্যাট ও একটা গাড়ি আছে তাদের। পাশের বিশাল মার্কেটে তাদের নিজস্ব দুটো দোকান আছে।সেই দোকানের ভাড়া দিয়ে তাদের ৫ জন সদস্যের পরিবার খুব ভালো করে চলে যায়।


রেদোয়ান নিচে বসে সোফায় পা রেখে উল্টো হয়ে টিভি অন করে মোবাইলে গেমস খেলছে।এটা ওর অভ্যাস।সবসময় উল্টো কাজ করা।একে হুট করে কেউ দেখলে পাগল ছাড়া অন্য কিছু বলবে না। মাথার কোঁকড়া চুলগুলো এলোমেলো হয়ে কাকের বাসা হয়ে আছে।


তুলিঃ রেদোয়ান খেতে আয়।সবকিছু গরম করেছি।আমি বারবার গরম করতে পারবো না।কোমড়ের ব্যাথাটা আমার দুপুর থেকে বেড়েছে। 


রেদোয়ানঃ সরি আম্মু। আমি এখন খাবো না। ভাই আসুক।ভালো লাগছে না। 


তুলিঃ উল্টো হয়ে শুয়ে থাকলে এমনি হবে।হয় টিভি দেখ নয়তো মোবাইল টিপ।আর সোজা হয়ে চুপচাপ সোফায় বস।তোর এই আজগুবি স্টাইলের শুতে দেখলে আমার রাগ লাগে।সোফা থেকে পা নামা।


রেদোয়ানঃ আম্মু চুপ করো তো।আমাকে আমার মতো থাকতে দেও।


তুলিঃ বুড়ো বয়সে আমার হাতে মার খাস না। ২৬ বছর পেরিয়ে গেলো এখনো উল্টো পাল্টা কাজ করিস।তোদের দুই ভাইকে যে মেয়ে বিয়ে করবে তাদের জীবনটা শেষ। আমার জীবন তো তোরা বাপ-বেটা মিলে শেষ করলেই।এখন আমি চিন্তা করছি আমার বউমাগুলোর কি হবে?


রেদোয়ানঃ তোমাকে চিন্তা করতে হবে না। তুমি খেয়ে ঘুমাতে যাও।আমার যখন খেতে মন চাইবে তখন আমি নিজে নিয়ে খেতে পারবো।


তুলিঃ তোরা যদি নিজের হাতে সবকিছু নিয়ে খেতে পারতি তাহলে তো আমার দুঃখ ঘুচতো।মাঝে মাঝে ইচ্ছে করে সব ছেড়ে চলে যাই।


আয়নাঃ আহা বউমা!! কি শুরু করলে?দাদুভাইয়ের যখন মন চায় তখন খেয়ে নিবে।তুমি শুধু শুধু ক্যাট ক্যাট করছো।চুপচাপ খেতে বসো।


সাজিদঃ রিজুয়ানের মা, চেঁচামেচি করো না। ওর ইচ্ছে মতো ও খেয়ে নিবে।এতবড় বিয়ের বয়সের দাঁমড়া ছেলের সাথে এত কথা বলো কেন?ওকে ওর ইচ্ছে মতো চলতে দেও।ওর ও তো নিজের স্বাধীনতা বলতে কিছু আছে।


তুলিঃ তোমাদের জন্য ছেলেটা এতো বিগড়ে গেল।আশকারা দিতে দিতে তোমরা মাথায় তুলে ফেলছো।তোমাদের জন্য শাসনও করতে পারি না।আমার বড় ছেলেটা কষ্ট করবে আর উনি পায়ের ওপর পা তুলে সেগুলো নষ্ট করবে।আর সুযোগ পেলে বারে হানা দিবে।নিজের ভবিষ্যৎ নিজে নষ্ট করছে। আমার কি?পরে ঠিক জ্বালা বুঝবে।


রেদোয়ানঃ রোজ রোজ এতো চেঁচামেচি ভালো লাগে না আম্মু।আমাকে আর ডিস্টার্ব করো না। 


তুলি শেইখ রাগে গজগজ করতে করতে টেবিলে খেতে বসে পরলো।এই গরুটাকে হাজার কথা বললেও কিছু হবে না। এক কান দিয়ে ঢুকাবে আরেক কান দিয়ে বের করে দিবে।গন্ডারের চামড়াতো, তাই কোন কথা গায়ে লাগে না। এত কথা শুনালো ওর মা, তারপরেও রেদোয়ানের ওপর কোন প্রভাব পড়েনি।বরং এখনো উল্টো হয়ে টিভি অন করে মোবাইলে গেমস খেলছে।


#চলবে


এই গল্পটা একদিন পর পর পাবেন।😪😪