সাইকোগিরি

সাইকোগিরি Part 01  by NOVA


----- বেবী, আমি কাঁটা চামচ দিয়ে আস্তে আস্তে করে তোমার চোখ দুটো তুলে ফেলি।বিশ্বাস করো একটুও ব্যাথা লাগবে না। আমি অনেক যত্ন সহকারে তুলবো।তোমাকে কি আমি কষ্ট দিতে পারি বলো?তোমায় আমি কত কেয়ার করি।যে চোখ তুমি আমার দিকে লাল করে তাকিয়েছো তাতো তুলে ফেলতেই হয়।এই চোখ দিয়ে দেখে তুমি বাইরের জগতে যেতে চেয়েছিলে।কিন্তু এখন থেকে তা আর পারবে না।


সামনে থাকা ছেলেটির কথায় হিম হয়ে গেলো আরিফা।চোখ তুলবে আর কোন ব্যাথা লাগবে না।এটা কি কোন সুস্থ মস্তিষ্কের মানুষের কথা হতে পারে।নিজের জীবনের ভয় করছে সে।চেয়ারে হাত-পা, মুখ বাঁধা অবস্থায় বসে আছে আরিফা।ভয়ে কলিজা শুকিয়ে যাচ্ছে তার।চোখ দিয়ে পানি পরছে। কিন্তু সামনে থাকা ছেলেটার তাতে কোন রিয়েকশন নেই। সে খুব খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে আরিফার হাত দেখছে।আর কাটা চামচ ঘুরাচ্ছে। আরিফা বেশ কয়েকবার উম উম করছে।তাতে রেগে চোখ রাঙিয়ে তাকালো ছেলেটি।


------ আমার আদেশ অমান্য করার সাহস হয় কি করে তোমার? আমি বলেছিলাম এখান থেকে পালানোর চেষ্টা না করতে।কিন্তু তুমি তা করেছো।আমি একটা দায়িত্ব দিয়েছিলাম তাও পালন করতে পারোনি।তোমার বান্ধবীর খবর তুমি জানবে না কিভাবে?তোমার জানে জিগার দোস্ত কোথায় আছে বলো?যদি নিজের চোখ দুটো হারাতে না চাও।


ছেলেটার শান্ত ভঙ্গির কথায় আরিফা থেকে থেকে কেঁপে উঠছে।এই সাইকোর দ্বারা সব সম্ভব। কিন্তু তার বান্ধবীর কথা বলে দিলে তো সে বিপদে পরে যাবে।আর একজন প্রকৃত বন্ধু কখনি তার বন্ধুর বিপদ চায় না।আনমনে কথাগুলো ভাবছিলো আরিফা।ছেলেটার হুংকারে আবার ভয়ে কেঁপে উঠলো। 


---- বলবে না তো?নো প্রবলেম। তোমার বলতে হবে না। আমি ঠিক আমার ভালোবাসাকে খুঁজে নিবো।আর তোমার খাতির-যত্ন তো করতেই হয়।


রাগে ফর্সা মুখটা লাল হয়ে গেছে।ঘাড়টা পুরো সাইকোদের মতো করে বাঁকা করে, হাতে থাকা কাটা চামচটা জোরে আরিফার হাতে বসিয়ে দিলো।মুখ বাঁধা থাকায় ভেতর থেকে আসা আত্মচিৎকারটার গলায় দলা পাকিয়ে রইলো।যার কারণে সেটা বাইরে এলো না সাথে কোন শব্দও হলো না। চোখ বেয়ে পানি গড়িয়ে পরলো।টপ টপ করে রক্ত ফোটা গুলো চেয়ার বেয়ে নিচে পরছে।ব্যাথায় একসময় জ্ঞান হারালো আরিফা।


--- বলেছিলাম না আমার কথা অমান্য করতে না।আর তোমার বান্ধবী আমার চোখের আড়াল হয়ে যাবে কোথায়?ওকে তো আমার সাইকোগিরি দেখতেই হবে।

দূর থেকে আগলে রাখছিলাম তা ভালো লাগে নি।কিন্তু এখন সামনে থেকে আমার সাইকোগিরি সহ্য করার জন্য তৈরি হও বেবিডল।তুমি তো আমাকে চেনেও না।তাই অনেক সুবিধা হয়েছে আমার।এখন শুধু তোমাকে খুঁজে পেলেই চলবে আমার।


ছেলেটার মুখ এখনো রাগে লাল হয়ে আছে। কিছুতেই কমেনি।মাথা চেপে ধরে জোরে চিৎকার করে বসে পরলো সে।চিৎকারের শব্দটা বদ্ধ রুমে বারবার প্রতিধ্বনি হতে লাগলো। নিজের চুল নিজেই মুষ্টি বেঁধে টানতে লাগলো।সামনে থাকা চেয়ারটাকে জোরে লাথি মারলো।তাতে পায়ে বেশ খানিকটা ব্যাথাও পেলো।কিন্তু তাতে কিছুই আসে যায় না তার।


🎭🎭🎭


নাইট ক্লাবের ভেতরে একপাশে নেশায় বুঁদ হয়ে আছে রেদোয়ান।একদিকে সফট মিউজিকের তালে তালে নাচছে কতগুলো ছেলেমেয়ে। পুরো ক্লাবে পার্টি লাইট জ্বলছে।যার কারণে সবকিছু অস্পষ্ট। ড্রিংক পেলে সারা দুনিয়া ভুলে যেতে পারে সে।গ্লাসের পর গ্লাস শেষ করছে সে।জীবনে এই একটা জিনিসকে সে নিজের থেকে বেশি ভালোবাসে।লাস্ট মদের বোতলটা নিয়ে তার দিকে নেশাক্ত দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে। যেই সেটা খুলে গ্লাসে ঢালবে।ওমনি কেউ ছোঁ মেরে হাত থেকে নিয়ে গেলো।ঝাপসা চোখে ঘাড় ঘুরিয়ে তাকাতেই তার ভাই রিজুয়ানকে লাল চোখে তাকিয়ে থাকতে দেখলো।


রেদোয়ানঃ ওহ্ ভাই।ডিস্টার্ব করিস না তো।আমার বোতলটা দে।তুই তোর কাজে যা।তোর কাজে কি আমি বিরক্ত করি।তুই কেন আমার কাজে বিরক্ত করিস।ধূর, ভাই আসবে কোথা থেকে?আমি কি আজ অতিরিক্ত ড্রিংক করলাম নাকি।যার কারণে চোখে উল্টো পাল্টা দেখছি। (নেশার ঘোরে)


রিজুয়ানঃ তুই উল্টো পাল্টা দেখছিস না।আমিই তোর সামনে দাঁড়িয়ে আছি। 


রেদোয়ানঃ ওহ্ তুই সত্যি এসেছিস।তবে শুনে রাখ।আমি এখন কোথাও কিন্তু যাবো না। (চোখ বন্ধ করে)


রিজুয়ানঃ বাসায় চল।অনেক রাত হয়েছে। আর এসব ছাইপাঁশ বহু গিলেছিস।(ঠান্ডা গলায়)


রেদোয়ানঃ নো নেভার।আমি এখন বাসায় কিছুতেই যাবো না।তোর যেতে মন চাইলে নিজে যা।


রিজুয়ানঃ আমাকে রাগাস না।যা বলছি তাই কর।


রেদোয়ানঃ তুই নিজের ভালো চাইলে বাসায় ফিরে যা।সবসময় আমার পিছু লাগতে হবে তোর।আমায় রাগাস না।নয়তো আমি তোকে---


পুরো কথা শেষ হওয়ার আগে একটা ঠাস করে চড় পরলো রেদোয়ানের গালে।চড় খেয়ে বেচারার নেশা এমনিতেই অর্ধেক ছুটে গেলো।চোখ দুটো বন্ধ করে মাথাটা নাড়িয়ে সামনে তাকিয়ে তার ভাইকে ভালো করে দেখতে পেলো।


রেদোয়ানঃ ভাই, ভাই। তুই কখন এলি?আরে কষ্ট করে এখানে আসতে গেলি কেন?আমায় কল করলেই তো আমি চলে আসতাম।চল বাসায় যাই।আমিতো এমনি কথাগুলো বললাম।তুই কিছু মনে করিস না তো।তুই তো জানিস ড্রিংক করলে আমার মাঝে মাঝে  মাথা ঠিক থাকে না।(বেক্কল মার্কা হাসি দিয়ে)


রেদোয়ানের কথার মাঝে ওর বন্ধু শাবাব এসে ওর কাঁধে হাত রেখে বললো।


শাবাবঃ কি দোস্ত তুই এমন তোর বড় ভাইকে ভয় পাস কেন?বড় ভাইকে কেউ ভয় পায়।তাছাড়া তোরা তো সমান বয়সের।তোদের মধ্যে থাকবে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক।এমনটা নয় যে তোরা ২-৩ বছরের ছোট। মাত্র কয়েক---


রেদোয়ানঃ ঐ ব্যাটা চুপ কর।বড় ভাইরে ভয় পাবো না তো কাকে পাবো? তুই বেশি বুঝোস।তোর এত জ্ঞান বিতরণ করতে হবে না।যা নিজের চরকায় তেল দে।যত্তসব ফালতু ছেলে।(রেগে কথাগুলো বলে রিজুয়ানের দিকে তাকালো) চলো ভাইয়া আমরা বাসায় যাই।


শাবাবঃ যা বাবা আবার কি হলো?এই রেদোয়ান যে ওর ভাইকে এতো কেন ভয় পায় আল্লাহ জানে?কেউ তো নিজের বাপকেও এতটা ভয় পায় না।যতটা ও ওর ভাইকে পায়।


গম্ভীর মুখে ক্লাব থেকে বের হয়ে গেল রেদোয়ান।থাপ্পড় খেয়ে তার নেশা সত্যিই অনেকখানি কমে গেছে। কোথায় ভেবেছিল আজ রিজুয়ান বাসায় নেই। তাই মন মতো ড্রিংক করতে পারবে।সেখানে সবকিছুতে তার ভাই পানি ঢেলে দিলো।


🎭🎭🎭


শেইখ বাড়ির ড্রয়িং রুমেের সোফায় মাথায় হাত দিয়ে বসে আছে মিসেস তুলি শেইখ।বারবার ঘড়ির দিকে তাকাচ্ছে সে।ঘড়ির কাঁটা রাত দেড়টা ছাড়িয়ে যাচ্ছে। কিন্তু তার দুই ছেলের আসার নাম নেই। চোখ দুটো ঘুমে লেগে আসছে।সোফার সাথে হেলান দিয়ে যেইমাত্র চোখ দুটো বন্ধ করেছে।ওমনি কলিং বেল বেজে উঠলো। জলদী গিয়ে দরজা খুলে দিলো।দরজা খুলতেই দেখতে পেলো তার ছোট ছেলেকে বড় ছেলে ধরে দাঁড়িয়ে আছে ।রিজুয়ান তার মা-কে সাইড কেটে ভেতরে ঢুকলো। 


তুলিঃ আজও রেদোয়ান ড্রিংক করেছে?


রিজুয়ানঃ তাতো দেখতেই পাচ্ছো।আবার জিজ্ঞেস করছো কেন?


তুলিঃ আমি বুঝি না রোজ রোজ এরকম ছাইপাঁশ কেন গিলে আসে ও?নিজের চেহারাটা কি করছে তা কি আয়নায় দেখেছে?মানা করলেও শুনে না।সন্ধ্যার দিকে তুই বের হয়েছিস আর সেই ফাঁকেই এক মিনিটও দেরী না করে, সাথে সাথে বাসা থেকে বের হয়ে গেছে। 


রিজুয়ানঃ এখন চেঁচামেচি করে কোন লাভ হবে না। গিয়ে এক গ্লাস লেবু পানি তৈরি করে নিয়ে এসো।


রেদোয়ানকে নিয়ে সোফায় বসালো রিজুয়ান।তুলি শেইখ কিচেনের দিকে ছুটলেন।গাড়ি থেকে নেমে রেদোয়ান যথাসম্ভব নিজের টাল সামলানোর চেষ্টা করছিলো। কিন্তু মাথা ঘুরানি ও চোখে ঝাপসা দেখার দুরুন এলোমেলোভাবে হাটছিলো। তাই রিজুয়ান ওকে ধরে বাসার ভেতর নিয়ে এসছে।সোফায় বসিয়ে দিতেই হাত-পা ছড়িয়ে চোখ বন্ধ করে ফেললো রেদোয়ান। তুলি শেইখ লেবু পানি এনে রিজুয়ানের হাতে দিলো।রিজুয়ান জোর করে লেবু পানি খাইয়ে দিলো রেদোয়ানকে।


তুলিঃ রিজুয়ান বাবা,তুই কি কিছু খাবি না?কত রাত হয়েছে। এখন কিছু না খেয়ে ঘুমালে তোর শরীর খারাপ করবে।


তুলি শেইখ পরম যত্নে রিজুয়ানের মাথায় হাত বুলিয়ে কথাটা বললো।মাথায় হাত বুলিয়ে কাঁধে হাত রাখলেন তিনি।  রিজুয়ানের কাঁধে হাত দিতেই চিনচিন করে রাগটা উঠতে লাগলো।ঘাড় কাত করে রক্তচক্ষু নিয়ে তার মায়ের দিকে তাকালো। তা দেখে চট জলদী তুলি শেইখ নিজের হাতটা সরিয়ে নিলো।


রিজুয়ানঃ আমার কাঁধে হাত দেওয়া পছন্দ নয়।কতবার বলবো আমার কাঁধে হাত দিতে না।কাঁধে হাত দিলে আমার রাগ উঠে যায়।আমি নিজেকে কন্ট্রোল করতে পারি না।তোমার কি কান দিয়ে কথাটা ঢুকে না।(রেগে+চিৎকার করে)


তুলিঃ সসসসসরি বাবা। ভুল হয়ে গেছে।(ভয়ে ভয়ে)


রিজুয়ান আরেকবার রক্ত চোখে তার মায়ের দিকে তাকিয়ে তার ভাইকে নিয়ে উপরে চলে গেল। তুলি শেইখ বড় করে একটা দীর্ঘ শ্বাস ছাড়লো।তার ছেলে দুটো কে নিয়ে সে অনেক চিন্তায় আছে।একটা পুরো গম্ভীর, কখন কি হয় তা মা হয়েও বুঝতে পারে না।আরেকজন গায়ে হাওয়া লাগিয়ে ঘুরে বেড়ায়।টেবিলের খাবারগুলো ফ্রিজে রেখে সে রুমে চলে গেল।সব পাগল নিয়ে তার বসবাস।


#চলবে


#সাইকোগিরি🎭

#Part_01

#Writer_NOVA 


কমপক্ষে ৫০০ রেসপন্স না হলে পরবর্তী পর্ব পাবেন

 না😒😒।আগেই বলে দিলাম😐😐।