The_Mummy
পর্ব- ১
লেখকঃ Nazmul Hosen
মমির সত্য কিছু রহস্যের সাথে কিছু কাল্পনিক ভয়ানক ঘটনা মিশিয়ে লিখতে বসেছি। জানিনা শেষ পর্যন্ত গল্পটা পাঠকদের মনে জায়গা করে নিতে পারবে কিনা। গল্পের সব চরিত্র এবং জায়গার নাম কাল্পনিক। কেউ গল্পের মধ্যে ব্যবহিত চরিত্রের নাম বা জায়গার নাম নিয়ে কোন প্রশ্ন তুলবেন না।
-
আজ থেকে প্রায় ৫ হাজার ৬০০ বছর আগে মমি খুঁজে পাওয়া যায় সর্ব প্রথম মিশরে। এখন পর্যন্ত অনেক মমি মিশর সহ পৃথিবীর বেশ কিছু শহরে খুঁজে পাওয়া গেছে। তবে সব থেকে আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল তুতেন খামেনের মমি। ফারাওদের ১৮ তম রাজবংশের রাজাদের মধ্যে তুতেন খামেন ছিলেন ১১ বা ১২ তম। তুতেন খামেনের মমির সাথে মিশে আছে বেশ কিছু রহস্যময় মৃত্যু, যে মৃত্যুর রহস্য আজ খুঁজে পাওয়া যায়নি। তুতেন খামেনের মমি খুঁজে পেতে যারা কাজ করেছিলেন, তাদের মধ্যে প্রায় ৮০% লোক রহস্য জনক ভাবে অল্প বয়সে মারা যান।
-
মূল গল্প শুরু...........
প্রত্নতাত্ত্বিক বিভাগে কাজ করার সুবাদে বিভিন্ন স্থানে যেতে হয় শত-হাজার বছর আগের পুরানো দ্রব্য এবং জিনিস পরিদর্শন করার জন্য। যদিও আমরা প্রাচীন-পুরানো দ্রব্য সংগ্রহ করি, তবে সেটা আমার কাজ নয়। আমি পরিদর্শন করে ফিরে যাওয়ার পর প্রত্নতাত্ত্বিক বিভাগ থেকে লোক পাঠানো হয় সেগুলো নিয়ে যাওয়ার জন্য।
-
ডা. জন গতকাল টেলিফোন করে আমাকে জানায়- তিনি একটি মমির সন্ধান পেয়েছেন। মমির কফিনটা দেখতে বেশ অদ্ভুত। কফিনটা এখন পুরোপুরি ভাবে সিল করা আছে। কফিনটা খুলার জন্য যত দ্রুতসম্ভব আমাকে তার গবেষনাগারে যেতে বলেন।
গতকাল হাতে বেশ কিছু কাজ ছিল, যার কারণে আমার যাওয়া হয়নি। তাই আজ খুব সকাল সকাল বেড়িয়ে পড়লাম ডা. জনের গবেষনাগারের উদ্দেশ্যে।
-
প্রায় ৪৫ মিনিট ড্রাইব করার পর সকাল ৯.৩০ মিনিটে ডা. জনের গবেষনাগারে পৌছালাম। ডা. আমার জন্য সদর দরজার বাহিরে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করছিলেন। ডা. জন আমাকে দেখে কিছুটা এগিয়ে এসে বললেন-
ডা. জন- আসুন মি. নীল [ আমার নাম ] ভিতরে আসুন। বলুন কি খাবেন? চা নাকি কফি?
-না, এখন কিছু খাব না। মমির কফিনটা কোথায়?
ডা. জন- মমির কফিনটা পাশের রুমে রাখা আছে। একদল ডাকাত মমির কফিনটা খুলতে না পেরে আমার কাছে নিয়ে এসেছিল গতকাল সকালে। কফিনটা দেখে বেশ পুরানো মনে হয়েছিল। যার কারণে দেরি না করে, তাদের কিছু টাকা দিয়ে কফিনটা আমি রেখে দেই।
-খুব ভাল করেছেন। এবার মমির কফিনের কাছে নিয়ে চলুন।
ডা. জন আমাকে নিয়ে পাশের রুমে রাখা মমির কফিনের কাছে গেলেন। মমির কফিনটা দেখে আমি বেশ অবাক হলাম। এমন কফিন আগে কোনদিন দেখেছি বলে মনে হয় না। প্রত্নতত্ত্ব বিভাগে কাজ করছি প্রায় ৫ বছর যাবত, অনেক মমি এবং কফিন দেখেছি। কিন্তু এমন অদ্ভুত কফিন কোনদিন দেখা হয়নি। কফিনটা দেখে মনে হচ্ছে ভিতরে নিশ্চয়ই কোন রাজা, মহরাজার মমি রয়েছে। তাছাড়া কফিনটা বিশাল আকৃতির কম করে ১৫ ফুট হবে।
ডা. জন- মি. নীল আপনি কফিনের উপরি ভাগে খেয়াল করে দেখুন। কোন একজন ব্যাক্তির ছবি খুদাই করা আছে।
-হ্যা দেখেছি। আমার মনে হচ্ছে এটা কোন সাধারণ মমি নয়।
ডা. জন- হ্যা সেটা আমারও মনে হচ্ছে। গতকাল যখন আমি প্রথম কফিনটা দেখি, তখন আমি কফিনটা দেখে অভাক হয়ে যাই।
-ছবিটার নিচের দিকে খেয়াল করে দেখুন, কিছু একটা লিখা আছে। কিন্তু মনে হচ্ছে না এমন লিপির ভাষা পৃথিবীতে প্রচলিত আছে।
ডা. জন- সমস্যা নেই। আমি আমার লেংগুয়েজ ট্রান্সলেটার দিয়ে যে কোন ভাষার অনুবাদ করতে পারব।
-ঠিক আছে, তবে এখনি কাজটা সেড়ে নিন।
ডা. জন নিজের আবিষ্কিত লেংগুয়েজ ট্রান্সলেটার দ্বার জানতে পারেন, এই লিপি গুলো প্রায় ৪ হাজার ৫০০ বছর আগে ব্যাবহিত হত ”রেগুইন” নামক জাতির মানুষদের মধ্যে। কফিনের নিচের দিকে মিরাং লিপিতে লিখা আছে- ”রাজা রেগুইন রুতেন”। ডা. জন আর জানতে পারেন রাজা রেগুইন রুতেন, রেগুইনু রাজ্যের ৩য় বা ৪র্থ শাসক ছিলেন।
ডা. জন আমার উদ্দেশ্যে বলতে লাগলেন.........
ডা. জন- তবে একটা বিষয় নিয়ে বেশ কটকা লাগছে। খেয়াল করে দেখুন কফিনটার চারপাশে কোবরার ছবি খুদায় করা আছে।
-হ্যা ঠিক বলেছেন। কিন্তু এই কোবরার মানে কি হতে পারে?
ডা. জন- হতে পারে কোন বিপদ চিহ্ন বা এমনি কোন কারুকাজ।
-আচ্ছা যাই হোক। সব কিছু জানতে হলে কফিনটা খুলে মমিটা বের করতে হবে।
বেশ কিছুক্ষণ চেষ্টা করার পর মমির কফিনটি খুলতে আমরা সক্ষম হলাম। কিন্তু বিষ্ময়কর বিষয় হল- লোহার কফিনের ভিতরে আর একটি কফিন বিদ্যমান রয়েছে। প্রথম কফিনের মত এই কফিনটি লোহার তৈরি কফিন নয়। ২য় কফিনটি পুরোপুরি স্বর্ণ মিন্ডিত চাকচমক যুক্ত একটি কফিন।
২য় কফিনটি খুলেও কাঙ্কিত মমি আমরা খুঁজে পেলাম না। ২য় কফিনের ভিতরে ভিন্ন ধর্মি এক প্রকার কাল ধাতু দিয়ে তৈরি আর একটি কফিন এবং একটি বই পরে আছে। ৩য় কফিনের উপরে খুদায় করা ছবিটা দেখে আমরা ভয়ে কিছুটা পিছিয়ে গেলাম। ১ম এবং ২য় কফিনে একরকম ছবি খুদায় করা ছিল। কিন্তু ৩য় কফিনে পুরোপুরি ভিন্ন একটি ছবি খুদায় করা। ছবিটাতে একটি ৫ মাথা সমৃদ্ধ সাপের মাথায় বসে আছে রাজা ”রেগুইন রুতেন”। তাহলে কি এই রাজা সাপেদের পোষক ছিলেন? উপ আর চিন্তা করতে পারছি না। মনে হচ্ছে ৩য় কফিনটা খুলা কোন ভাবে ঠিক হবে না। যদি ৩য় কফিনটা কোন ভাবে খুলে যায় তবে খুব খারাপ কিছু ঘটবে। হয়ত তার ইঙ্গিত দেওয়া আছে কফিনের উপর খুদায় করা সাপ দ্বারা।
-
-ডা. জন আমাদের কি কফিনটা খুলা উচিত হচ্ছে?
ডা. জন- কিছু বুঝতে পারছি না। এক এক করে যত কফিন গুলো খুলছি তত সব কিছু রহস্যময় এবং ভয়ানক হয়ে উঠছে।
-হ্যা আমিও সেটাই চিন্তা করছি। আমার মতে কফিনটা আর খুলার দরকার নেই। যেমন আছে তেমন পরে থাকুক।
ডা. জন- ঠিক আছে।
-তাহলে আমি এখন আসি, আমার অফিসে যেতে হবে। এখানে এমনিতে অনেক সময় নষ্ট হয়ে গেছে।
ডা. জন- ঠিক আছে বিদায়।
-
ডা. জন কে বিদায় জানিয়ে আমি আমার অফিসের উদ্দেশ্যে রওনা হলাম। অফিসে প্রবেশ করার পর একজন স্টাপ আমাকে জানালেন মিস. মীরা আমাকে ডেকে পাঠিয়েছেন উনার কেবিনে। বুঝতে পারছি না মীরা আমাকে এই অসময়ে কেন ডেকে পাঠালেন? তবে অবাক হওয়ার কিছু নেই। কারণ মিস. মীরা কোন সমস্যায় পরলে আমাকে নিয়ে সেটার সমাধান করে থাকেন।
-
মীরার কেবিনের বাহিরে দাঁড়িয়ে বললাম.......
-ভিতরে আসতে পারি মিস. মীরা?
মিস. মীরা- আরে মি. নীল আসুন আসুন। এতক্ষণ ধরে আপনার কথাই চিন্তা করছিলাম।
-আমাকে জরুরি তলপ করার পিছনে কোন কারণ আছে কি মিস. মীরা।
মিস. মীরা- নিশ্চয়ই, আপনি জানেন না আমি আপনাকে বিনা কারণে বিরক্ত করিনা।
-ঠিক আছে, বলুন কি কারণে ডাকলেন।
মিস. মীরা- কান্দিকাল অধিবাসিদের খবরে গতকাল আমরা শহরের ৫৫ কি.মি দক্ষিণে কান্দিকালু পাহাড়ে গিয়েছিলাম। তারা আমাদের জানায়- ( বেশ কিছুদিন ধরে রাতে পাহাড়ের এক নির্দিষ্ট স্থানে কিছু লোক মাটি সড়াত। তারা যখন বিষয়টা বুঝতে পারে তখন অনেক দেড়ি হয়ে গেছে। রাতের আধারে যারা পাহাড়ের মাটি সরাত তারা ছিল আসলে একদল ডাকাত। )
কিছুক্ষণ খুঁজার পর আমরা কিছু মূল্যবান দ্রব্য সামগ্রী খুঁজে পাই। আমাদের ধারণা সেখানে একটা বিশাল মমির কফিন ছিল। তার সাথে ছিল পৃথিবীর বেশ কিছু মূল্যবাদ সম্পদ।
মিস. মীরার কথা শুনে আমি এতটুকু অবাক হলাম না। কারণ আমি সব কিছু আজ সকালে নিজের চোখে দেখে আসলাম। যদি আমি মিস. মীরাকে সবকিছু বলি তবে প্রত্নতত্ত্বের লোকেরা গিয়ে মমির কফিন খুলে মমি বাহিরে বের করে নিয়ে আসবে। তাতে করে ভয়ংকর কিছু ঘটতে পারে মমিটা দ্বারা। যার কারণে মিস. মীরাকে কিছুতে বুঝতে দেওয়া যাবে না কফিন সহ মমিটা আছে ডা. জনের কাছে।
আমি চুপ করে আছি দেখে মিস. মীরা বলেন.........
মিস. মীরা- কি হল মি. নীল? আপনি এত কি চিন্তা করছেন?
-কি চিন্তা করব আবার? আপনার কথা দ্বারা পরিষ্কার বুঝা যাচ্ছে আমরা সবকিছু যদি উদ্ধার করতে পারতাম, তবে আমাদের প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের অনেক নাম হত।
মিস. মীরা- হ্যা সেটাই বলতে চেয়েছি আপনাকে। আপনি এই বিষয়টা একটু দেখবেন।
-ঠিক আছে, আমি আমার সব গুপ্তচরদের কাছে লাগিয়ে দিব। এখন আামকে বিদায় দিন অনেক কাজ পরে আছে।
মিস. মীরা- ঠিক আছে আপনি এখন আসতে পারেন।
মিস. মীরাকে বিদায় জানিয়ে আমি আমার কেবিনে গেলাম। নাহ আর দেড়ি করা যাবে না। এমনি অনেক সময় নষ্ট হয়েছে তার মধ্যে আবার অনেক কাজ পরে আছে।
-
চলবে..
