The_Mummy

পর্ব- ৪ ও শেষ পর্র

লেখকঃ Nazmul Hosen





অফিসে পৌছে মিস. মীরাকে খুঁজতে খুঁজতে আমি হয়রান হয়ে যাচ্ছি। কিন্তু কোথাও মীরাকে খুঁজে পাচ্ছি না। অবশেষে অফিসের এক্টিভিটি চ্যাক করে জানতে পারলাম মিস. মীরা আজ অফিসে আসেননি। 

বিষয়টা ভাবতে একটু অবাক লাগছে । যে মেয়ে ১০৭ ডিগ্রি জ্বর নিয়ে অফিসে চলে আসত, সে আজ কেন অফিসে আসল না? মিস. মীরাকে আবার মমি আক্রমন করেনিতো? না এমন কিছু হবে না। এমন কিছু হলে এতক্ষণে জানতে পারতাম। তবে মিস. মীরা অফিসে না আসার পিছনে কোন কারণ নিশ্চয়ই রয়েছে। অবশেষে ইচ্ছা না থাকা সত্তেও মিস মীরার বাসায় এসে পৌছালাম। কয়েকবার কলিং বেল চাপার পর মীরার মা এসে দড়জা খুললেন।`

মীরার মা- আরে নীল তুমি? এসো ভিতরে এসো। 

-মীরা কোথায় আন্টি? মীরা আজ অফিসে জাননি কেন? [ ভিতরে প্রবেশ করতে করতে জিজ্ঞাসা করলাম। ]

মীরার মা- গতকাল রাতে মীরা কিছু একটা দেখে বেশ ভয় পেয়েছিল। সকালে মীরা অফিসে যেতে চেয়েছিল। কিন্তু আমি তাকে যেতে মানা করেছিলাম। ভাবলাম মীরা হয়ত মানসিক ভাবে অসুস্থ সে একটু বিশ্রাম গ্রহন করুক।

-আন্টি আপনি একদম ঠিক কাজ করেছেন। [ মীরার মায়ের কথা শোনে মনে হচ্ছে মমীকে গতকাল রাতে মীরা দেখেছে। ]

মীরার মা- ঠিক আছে বাবা, তুমি বস আমি মীরাকে ডেকে দিচ্ছি।

এই মমিটাকে এবার থামাতেই হবে। প্রথমে ডাকাত দল, পরে ডা. জন, তারপর সেই ছেলেটি, আর গত রাতে মীরার বাড়িতে । সাড়া শহরে থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। সন্ধার পরে মানুষজন ঘরের বাহিরে বের হতে ভয় পাচ্ছে। 

কয়েক মিনিট পর মিস. মীরা পাশের রুম থেকে বেরিয়ে আসল।

মিস. মীরা- আরে মি. নীল আপনি? হঠাৎ কি মনে করে?

-দুঃখিত অফিসে আপনাকে খুঁজে না পেয়ে বাসায় আসতে হল। ডা. জনের গবেষনাগার থেকে মমির ২য় কফিনে পাওয়া বইটা নিয়ে এসেছি। বইটা থেকে অনেক রহস্যময় বিষয় জানার আছে। কাজটা নিজে করে নিতাম কিন্তু ভাবলাম আপনাকে নিয়ে কাজটা করলে সহজ হবে।

মিস. মীরা- আপনি একদম ঠিক কাজ করেছেন। কিন্তু বইটা কোথায়?

-এইযে বইটা। [ বইটা ব্যাগ থেকে বের করে মীরার সামনে রাখলাম ]

মিস. মীরা- ঠিক আছে আপনি বইটা পড়া শুরু করুন। 

বইটা উল্টানোর পর প্রথম পৃষ্টাতে সেই পাঁচ মাথা স্রমৃদ্ধ ভয়ংকর সাপের ছবিটা দেখতে পেলাম। ছবিটা দেখতে এতটা ভয়ংকর লাগছে, না জানি বাস্তবে সাপটা কতটা ভয়ংকর। প্রথম পৃষ্টা থেকে পড়তে শুরু করলাম................................................। ডা. জন যেমনটি বলেছিলেন ঠিক তেমনটি রয়েছে প্রথম ৩ পৃষ্টাতে। এবার ৪র্থ পৃষ্টাতে কি এমন রয়েছে দেখতে হবে। ডা. জনের সাথে অনেক কিছু ঘটে গেছে এই ৪র্থ পৃষ্টার কারণে। 

-মিস. মীরা সাবধাণ। ৪র্থ পৃষ্টাতে কি আছে আমরা দেখতে যাচ্ছি। এখান আমাদের সাথে যে কোন কিছু হতে পারে।

মিস. মীরা- ঠিক আছে, আমি তৈরি। 

৪র্থ পৃষ্টাটা উল্টানোর জন্য মনের মধ্যে জোড় পাচ্ছি না, বেশ কিছুটা ভয়ও করছে। ডা. জন যেহেতু মমি দ্বারা আক্রান্ত হয়েছিলেন এই ৪র্থ পৃষ্টা উল্টাতে গিয়ে। আমাদের সাথেও খারাপ কিছু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

ভয়ে ভয়ে ৪র্থ পৃষ্টাটা উল্টানোর জন্য বইয়ে হাত দিলাম। হঠাৎ করে মিস. মীরা আমাকে জোড়ে ধাক্কা দিয়ে কিছুটা দূরে পেলে দিলেন। মিস. মীরাও আমার সাথে কিছুটা দূরে গিয়ে পরলেন। আমরা মেঝেতে ছিটকে পরার কয়েক সেকেন্ড পরে, উপরের বিশাল ঝাড়বাতিটা বিকট আওয়াজে নিছে পরে ভেঙ্গে চূর্ণবিচূর্ণ হয়ে গেল। 

মিস. মীরা- দুঃখিত! আপনাকে নিয়ে দূরে না পরলে, আমাদের উপর বিশাল ঝাড়বাতিটা আছড়ে পরত। বিশাল ঝাড়বাতিটা আমাদের শরীরে পরলে আমাদের জীবন সংশয় হত।

-আপনি দুঃখিত বলে কেন আমাকে লজ্জা দিচ্ছেন? আপনি যদি সময় মত আমাকে ধাক্কা দিয়ে দূরে না সরাতেন, তবে এখন পর্যন্ত বেঁচে থাকতাম কিনা জানিনা। 

মিস. মীরা- একটা বিষয় আমি বুঝতে পারছি না। বইটাতে কি এমন রয়েছে, যা আমাদের কে জানতে দিতে চাইছে না মমিটা। 

-আমার ভাবনাতেও এটা রয়েছে। আমাকে যেভাবে হোক জানতে হবে কি আছে ৪র্থ পৃষ্টাতে? যদি ৪র্থ পৃষ্টা উল্টাতে আমার প্রান চলে যায়, আমার আপসোস নেই। মিস. মীরা আপনি এখান থেকে চলে যান। আমি চাইনা আমার জন্য আপনি কোন বিপদে পরেন। 

মিস. মীরা- না আমি যাবনা। যদি কিছু হয় তবে দুজনের একসাথে হবে। 

-প্লিজ আমার কথা একটু বোঝার চেষ্টা করুন।

মিস. মীরা- বোঝার কিছু নেই। আপনি বইটা পড়া শুরু করুন।

যানি আর জোর করে কাজ হবে না। মীরা একবার যা বলে বসে তা সে করবেই। 

৪র্থ পৃষ্টাটা উল্টানোর জন্য আবার বইয়ে হাত দিলাম। এখন আর আগের মত ভয় হচ্ছে না। যা ভাগ্যে আছে তাই হবে। মমি চাচ্ছে না ৪র্থ পৃষ্টা থেকে শুরু করে পুরো বইয়ে কি আছে আমরা জানতে পারি। হয়ত এমন কোন রহস্য রয়েছে বইটাতে যা জানলে মমির ক্ষতি হতে পারে।

অবশেষে অনেক বাঁধার পর ৪র্থ পৃষ্টাটা খুলতে সক্ষম হলাম। ৪র্থ পৃষ্টাটা উল্টানোর সাথে সাথে বই থেকে বেগুনি আলো বের হতে শুরু করছে। আলো উজ্বাল থেকে উজ্বলতর হচ্ছে। 

 বেশ কিছুক্ষণ পর বইটা শান্ত হয়ে উঠল। বইয়ের পাতায় চোখ পরতেই আমি চমকে উঠলাম। আরে এটা কি করে সম্ভব? বইটার ৪র্থ পাতায় ডা. জন এবং আমার ছবি দেখতে পাচ্ছি। ছবি দুটির নিছে লিখা আছে সেনাপতি নীলেন্দ্র এবং মন্ত্রি জানাকিং। সেনাপতির ছবিটা আমার মুখের সাথে পুরোপুরি মিলে যাচ্ছে। এবং মন্ত্রির ছবিটা ডা. জনের সাথে পুরোপুরি মিলে যাচ্ছে। খেয়াল করে দেখলাম মীরা একবার আমার দিকে তাকাচ্ছে আবার বইয়ের পাতায় তাকাচ্ছে। 

বইটা পড়তে শুরু করলাম......................................

জানি রাজা রেগুইন রুতেনের মমি কোননা কোনদিন মুক্ত হবে। নেমে আসবে সাধারণ মানুষের উপর আবার সেই অমানবিক অত্যাচার। রাজা রেগুইন রুতেন আবার ফিরিয়ে নিয়ে আসবে সেই ভয়ঙ্কর সাপদের জাতিকে। যে সাপেরা ধংস করে দিতে চেয়েছিল পৃথিবীর প্রত্যেকটি মানুষকে। যদি সময় মত সেনাপতি এবং মন্ত্রি রাজা রেগুইন রুতেনকে হত্যা না করতেন, তবে সাপেদের জাতি চিরদিন থেকে যেত পৃথিবীতে। সেনাপতি এবং মন্ত্রির মৃত্যুর পিছনে রয়েছে সাপেদের অন্য এক জাতির হাত। পরবর্তিতে সেই সাপেদের জাতিকে আমরা ধংস করতে সক্ষম হই। 

বইয়ের পরের পৃষ্টা................

৫ম পৃষ্টাটা উল্টিয়ে পরতে শুরু করলাম। 

যখন যখনি পৃথিবীতে পাপের শুরু হয়েছে, তখনি সৃষ্টিকর্তা কোন না কোন শক্তি দ্বারা সেই পাপের বিনাশ করেছেন। রেগুইন রুতেন একবার ধংস হয়েছিল আবার ফিরে আসবে। ২য় বার যখন ফিরে আসবে, তখন দুনিয়ার প্রত্যেকটা মানুষকে মেরে পেলতে শুরু করবে। ফিরিয়ে আনবে সেই ভয়ংকর সাপের জাতিকে। সাপেরা পৃথিবীকে নরকে পরিনত করে দিতে থাকবে । সাপেদের বিষাক্ত বিষে আকাশ বাতাস বিষাক্ত হয়ে উঠবে। মানুষের বেঁচে থাকাটা অসম্ভব হয়ে উঠবে। সাপেদের নীল বিষ মানুষের নিশ্বাসের সাথে দেহে প্রবেশ করবে এবং সকল মানুষ সেই বিষের প্রভাবে মৃত্যুর মুখে পতিত হবে।

মিস. মীরা- কি ভয়ংকর এই রেগুইন রুতেন।

-শুধু ভয়ংকর নয়। রেগুইন রুতেন বেশ নিচু মন মানসিকতার মানুষ ছিল। নিচু মন মানসিকতার মানুষ ছাড়া কেউ পৃথিবীর মানুষকে ধংস করে দেওয়ার চিন্তা করতে পারে না।

মিস. মীরা- মনে হচ্ছে মাত্র ২ টি পৃষ্টা পড়ার বাকি আছে। প্রথমে আমি ভেবেছিলাম এই বইয়ে রেগুইন রুতেন কে ধংস করার উপায় খুঁজে পাব। কিন্তু এখন আমরা তেমন কিছু খুঁজে পেলাম না। 

-হয়ত পরের ২ পৃষ্টাতে রয়েছে রেগুইন রুতেনকে ধংসের উপায়।

পৃষ্টা ৬..........................

রেগুইন রুতেনকে ২য় বার ধংস করা প্রায় অসম্ভব। রেগুইন রুতেন কে ২য় বার ধংস করার প্রায় অসম্ভব ২টি পথ রয়েছে।

পথ ১

যদি কোন ভাবে সেনাপতি নীলেদ্র এবং মন্ত্রি জনাকিং ফিরে আসে। তবে তারা দুজন পারবে রেগুইন রুতেনের মমিকে ধংস করতে। কিন্তু সেটা কোন ভাবে সম্ভব নয়। কোন মানুষের একবার মৃত্যু ঘটলে, সে আর পৃথিবীতে ২য় বার ফিরে আসতে পারে না। 

পথ ২য়

সেনাপতি এবং মন্ত্রি ফিরে আসতে পারবে না এটা সত্যি। কিন্তু কোন মানুষের চেহারার সাথে যদি সেনাপতি এবং মন্ত্রির চেহারা মিলে যায়। তবে সেই ২ জন ব্যাক্তি পারবে রেগুইন রুতেনের মমিকে ধংস করতে।

শেষ পৃষ্টাটা উল্টানোর জন্য বইয়ে হাত দিলাম। কিন্তু কোন ভাবে শেষের পৃষ্টাটা উল্টাতে পারছিলাম না। বইটা নিজে থেকে বড় হতে শুরু করল। বেশ কিছুক্ষণ এই প্রক্রিয়া চলার পর, বইটা একটি বড় বইয়ে রূপ নিল। 

আবার কিছুক্ষণ চেষ্টা করার পর বইয়ের পৃষ্টা গুলো উল্টাতে সক্ষম হলাম। কিন্তু বিস্ময়কর বিষয় হল সব পৃষ্টা ফাঁকা। কোন পৃষ্টাতে লিখা খুঁজে না পেয়ে বইটার সব পাতা একবারে উল্টানোর চেষ্টা করছি, কিন্তু তা সম্ভব হচ্ছে না। পাতা গুলো যেন একটির সাথে আর একটি জুড়ে আছে, কোন ভাবে পাতা গুলো ছাড়ানো যাচ্ছে না। 

আবার যখন একটি একটি করে পাতা উল্টানোর চেষ্টা করলাম। তখন পাতা গুলো উল্টাতে সক্ষম হলাম। এর মানে হল সব গুলো পাতা আমরা একবারে উল্টাতে পারব না, হয়ত বইটা আমাদের পরীক্ষা নিচ্ছে। 

কিছু পাতা উল্টানোর পর, হঠাৎ করে বইয়ের পাতা গুলো নিজে থেকে উল্টাতে শুরু করল। আবার কিছুক্ষণ পর বইয়ের পাতা উল্টানো থেমে গেল। তাকিয়ে দেখি উল্টে থাকা পৃষ্টাতে লিখা- প্রয়োজন ছাড়া আর একটা পাতা উল্টাবে না। 

মিস. মীরা- আমার মনে হচ্ছে, যতটুকু আমরা জানতে পেরেছি তার থেকে বেশি এখন জানা দরকার নেই। 

-হ্যা, কিন্তু শেষের পাতা গুলোতে নিশ্চয় কিছু রয়েছে। 

মিস. মীরা- তবে একটা বিষয় বেস বুঝতে পারছি। আপনার এবং ডা. জনের চেহারা নীলেদ্র এবং জানাকিংয়ের চেহারার সাথে পুরোপুরি মিল রয়েছে।

-আমি সেটাই চিন্তা করছি। বইয়ের নির্দেশনা অনুযায়ি আমরা মমিকে ধংস করতে সক্ষম হব।

-

বই এবং মমির বিষয় নিয়ে বেশ কিছুক্ষণ কথা বলার পর, খেয়াল করে দেখলাম মীরার মা আমাদের জন্য কিছু খাবার নিয়ে আসছেন।

-আরে আন্টি আপনি কেন শুধু শুধু কষ্ট করতে গেলেন? 

মীরার মা- কিছুক্ষণ আগে কিছু একটা ভেঙ্গে যাওয়ার শব্দ শোনলাম। এখানে কিছু ভেঙ্গেছে কি? [ আমার কথার উত্তর না দিয়ে মীরার মা কিছুটা বিস্মিত হয়ে শব্দটার কথা জিজ্ঞাসা করল।

মীরা- আসলে মা ঝাড়বাতিটা ভাল ভাবে লাগানো হয়নি। ঝাড়বাতিটা হঠাৎ করে নিচে পরে ভেঙ্গে গেছে।

মীরার মা- তোদের কোন ব্যথা লাগেনিতো?

মীরা- না মা।

খাবার গুলো খেয়ে মীরাকে বিদায় জানিয়ে বাসায় পৌছালাম। কিন্তু বাসায় এসেও শান্তি পাচ্ছি না বারবার বইয়ের কথা গুলো মনে পড়ছে। যদি সাপেদের জাতিকে রেগুইন রুতেন ফিরিয়ে নিয়ে আসে তবে সব মানুষের জীবনে নেমে আসবে ঘন কাল অন্ধকার। প্রত্যেকটা দিন সাপেদের দ্বারা মরতে হবে প্রত্যেকটা মানুষকে।

-

কয়েক দিন পর................

আজ কিছু লোকে এসেছিলেন মমির বিষয়ে আমাদের জানাতে।

উনারা জানান- সন্ধার দিকে যখন আমরা কাজ শেষে বাড়ি ফিরছিলাম, তখন একটা মমি রাস্তার পাশে পরে থাকতে দেখি। আমরা মমিটা দেখে খুব ভয় পেয়ে যাই। কারণ আমরা জানতাম মমির কারণে বেশ কিছু মানুষের রহস্যজনক ভাবে মৃত্যু ঘটেছে। মমি দেখে আমরা থানায় ফোন করে বিষয়টা জানায়। কিন্তু পুলিশ অফিসার আপনাদের কাছে সবকিছু জানাতে বলেন।

লোক গুলোর কথা মত আমরা তৎকণাত ঘটনা স্থলে পৌছালাম। আশে পাশে বেশ কিছুক্ষণ খুঁজার পরেও কোন মমি খুঁজে পেলাম না। আমি আগেই জানতাম পাব না। কিন্তু মমির সব কিছু অফিসের লোকদের বললে সবাই আমাকে পাগল বলত। যার কারণে বিষয়টা নিজের মধ্যে লুকিয়ে রাখলাম। 

ঘটনাস্থল থেকে অফিসে ফিরতে রাত ১২ টা বেজে গেল। শরীরটা খুব ক্লান্ত লাগছে। সেই সকাল ৯.০০ থেকে এখন পর্যন্ত কাজ করে চলেছি, এতক্ষণ কাজ করলে কার শরীরে ক্লান্তি না আসবে? ছুটি না হওয়া সত্তেও স্যারের কাছ থেকে ছুটি নিয়ে বাড়িতে পৌছালাম। না আর তাকিয়ে থাকতে পারছি না, চোখ গুলো নিজে থেকে বন্ধ হয়ে আসছে। আর এক মূহুর্ত দেড়ি না করে শুয়ে পরলাম। 

সকালে ঘুম থেকে উঠে ফ্রেস হয়ে অফিসে যাওয়ার জন্য তৈরে হচ্ছিলাম। কোন একটা কারণে টেবিলে রাখা সেই বইটার দিকে চোখ গেল। বইটার পাতা গুলো উল্টে আছে, হয়ত বাতাসে পাতা গুলো উল্টে গেছে। বইটা বন্ধ করতে বইটার কাছে গিয়ে বইটাতে হাত দিলাম। কিন্তু একটা বিষয় বেশ অদ্ভুত লাগল। যে পাতাটা উল্টে আছে সে পাতাটা আগে পড়েছি বলে মনে হচ্ছে না। 

পাতাটা পড়ার পর মনের মধ্যে কিছুটা শন্তি অনুভব করলাম। রেগুইন রুতেনকে ধংস করার উপায় পেয়ে গিয়েছি। 

রেগুইন রুতেন সাপদের খুব ভালবাসেন। নিজের শাসন কালে নিজের সর্বস্ব দিয়ে তিনি সাপেদের রক্ষা করতেন। এই দূর্বলতা দিয়ে রেগুইন রুতেনকে ধংস করতে হবে। আমি ইচ্ছা করলে এখন রেগুইন রুতেনকে নিয়ে আসতে পারব না। কিন্তু যদি কোন সাপকে আমি মেরে ফেলতে চাই, তবে সে নিশ্চয় আসবে এখানে সাপটিকে বাঁচাতে। 

তবে সবচেয়ে সমস্যার বিষয় হল বইটিতে লিখা আছে- রেগুইন রুতেনকে রাতে ধংস করা যাবে না আবার দিনেও ধংস করা যাবে না। এমন একটা সময় রেগুইন রুতেনকে ধংস করতে হবে যখন রাত বা দিন কোনটি বিরাজমান থাকবে না। 

কিছু বুঝতে পারছি না রাত বা দিন ছাড়া আবার কিছু হয় নাকি? দিন শেষ হলে নেমে আসে রাত, রাত শেষ হলে নেমে আসে দিন। তাহলে কি এটা শুধু একটা ধাধা? নাকি সত্যি এমন কোন সময় রয়েছে। উপ কিছু মাথায় আসছে না। 

বিকালে...................

অফিস থেকে মীরাকে নিয়ে ডা. জনের গবেষনাগারে পৌছালাম। সব কিছু মীরাকে বলেছি, এবার ডা. জনকে প্রথম থেকে বইয়ের ব্যাপারে সব কিছু জানাতে হবে।

ডা. জনের রুমে প্রবেশ করে দেখি ডা. জন রুমে বসে নিউজ পেপার পড়ছেন।

ডা. জন- আরে আপনারা ভিতরে আসুন। 

-কেমন আছেন ডা. জন? 

ডা. জন- খুব ভাল। মনে হচ্ছে কোন প্রয়োজনে এখানে ছুটে এসেছেন। 

-হ্যা প্রয়োজন নিশ্চয় রয়েছে। আমি এখন যা আপনাকে বলতে যাচ্ছি তা শোনে আপনি চমকে যাবেন। আমরা মমিকে ধংস করার উপায় খুঁজে পেয়েছে। 

ডা. জন- কি বলছেন? মমিকে ধংস করার উপায় খুঁজে পেয়েছেন? [ বিস্মিত হয়ে ]

-হ্যা।

ডা. জন- তাহলে বলুন কিভাবে মমিকে ধংস করতে পারব। [ আগ্রহ নিয়ে ]

ডা. জনকে শুরু থেকে সব কিছু খুলে বললাম। 

ডা. জন- কিন্তু রাতদিন ছাড়া কিছু হয় নাকি? 

-আমিও সেটা চিন্তা করে চলেছি সকাল থেকে। কিছু বুঝতে পারছি না দিন এবং রাত ছাড়া অন্য কোন সময় আছে কিনা। 

মিস. মীরা- হ্যা আছে। 

-আছে? কিন্তু সেই সময়টা কখন আসে?

মিস. মীরা- আমরা রাত শেষ হওয়ার পর বলি সকাল, সকাল শেষ হওয়ার পর বলি দুপুর, দুপুর শেষ হলে বলি বিকাল, বিকাল শেষ হলে বলি সন্ধা। রাত না আবার দিনও না সেই সময়টা হল সন্ধ। সন্ধায় রাতের কিছুটা আধার থাকে আবার দিনের কিছুটা আলো থাকে। সন্ধাকে রাত দিন কোনটায় বলা যায় না।

-আপনি একদম ঠিক বলেছেন। আমি এভাবে আগে কখন চিন্তা করে দেখিনি। 

ডা. জন- তাহলে আজ দিনটা হবে মমির শেষদিন। 

-না ডা. জন মমিকে এখানে নিয়ে আসার জন্য কিছু সাপ প্রয়োজন। আর একটা বিষয় আপনাদের বলা হয়নি। 

ডা. জন- কি বিষয়?

-মমিকে সাপের দ্বারা এখানে নিয়ে আসা সম্ভব। কিন্তু রেগুইন রুতেনের মমিকে ধংস করতে হলে শিখতে হবে অশুভ আত্না ধংশের মন্ত্র। 

মিস. মীরা- সেই মন্ত্র আমরা কোথায় পাব?

-বইটার শেষ পাতা পড়ে দেখুন। 

মিস. মীরা- এখানে দেখছি অশুভ আত্না ধংসের মন্ত্র লিখা আছে। 

-হ্যা আমাদের সবাইকে এই মন্ত্র শিখতে হবে। তার পর মমিকে এখানে আমন্ত্রন করে ধংস করে দিতে হবে। 

ডা. জন- ঠিক আছে, আমি সাপের ব্যবস্থা করছি।  

-

পরের দিন বিকালে............................

ডা. জন- মনে হচ্ছে সূর্য আর কয়েক মিনিটের মধ্যে পশ্চিম দিগন্তে অস্ত যাবে। 

-হ্যা, আমাদের কাজ শুরু করা যাক। আপনি সাপ গুলোকে বিদ্যুতিক বক্সের উপর রাখুন। পরে যখন সন্ধা হয়ে আসবে তখন আপনি বিদ্যুত সংযোগ দিবেন। 

ডা. জন- ঠিক আছে। 

সাধারণত কোন সাপের শরীরে বিদ্যুতিক সখ লাগে না। কিন্তু ডা. জন এমন একটা যন্ত্র আবিষ্কার করেছেন, যার দ্বারা যে প্রানীকে বিদ্যুতিক সখ দেওয়া সম্ভব। একটু খারাপ লাগছে সাপ গুলো বিনা কারণে বিদ্যুতিক সখে মারা পরবে। কিন্তু আমাদের কাছে এ ছাড়া কোন উপায় নেই। 

দেখতে দেখতে সন্ধা নেমে আসল। ডা. জন সাপগুলোকে সখ দিতে যাবেন ঠিক সেই মুহূর্তে অদ্ভুত সব ঘটনা ঘটতে শুরু করল। মনে হচ্ছে রেগুইন রুতেনের আগমন ঘটতে চলছে। ডা. জনকে বললাম আপনি সাপগুলোকে শখ দিন। 

ডা. জন শখ দিতে যাবেন ঠিক সেই মূহুর্তে আওয়াজ আসল সাবধান সাপেদের কোন ক্ষতি করবি না। যদি সাপেদের কোন ক্ষতি হয় তবে আমি তোদেরকে ধংস করে দিব। পিছনে তাকিয়ে দেখি ভয়ংকর চেহারার একটা মমি দাঁড়িয়ে আছে। তবে এটা রেগুইন রুতেনের মমি? রেগুইন রুতেনেরর এই দুর্বলতা কাজে লাগিয়ে তাকে ধংস করতে হবে।

মাথায় একটা বুদ্ধি এল- সাপেদের ধংস না করে মমিকে ধংস করার হয়ত সম্ভব হবে।

-ডা. জন আপনি সখ দিন। [ চোখ দিয়ে ইসারা করে বুঝালাম শুধু সখ দেওয়ার বাহানা করতে। ]

মমি- না সাপেদের কোন ক্ষতি করবি না। আমি তোদের ধংস করে দিব যদি সাপেদের কোন ক্ষতি হয়। 

ডা. জন- আমি সখ দিলাম সাপেদের। [ এই বলে কিছুটা সখ দিল। সখের আঘাতে সাপগুলো লাফিয়ে উঠল। ]

মমি-আ..................... আর সখ কষ্ট দিবি না। যা করার আমাকে কর, কিন্তু সাপেদের ছেড়ে দে।

-ঠিক আছে। তাহলে রেগুইন রুতেন আপনি এখানে বসুন।

রেগুইন রুতেনে আমার কথা শোনে মেঝেতে বসে পরল। আর বেশি সময় নেই আমাদের কাছে, যা করার দ্রুত করতে হবে। অশুভ আত্না ধংসের মন্ত্র পড়তে শুরু করলাম। মন্ত্রের শক্তিতে রেগুইন রুতেনের দেহ আস্তে আস্তে বালি হয়ে যেতে শুরু করল। এক পর্যায়ে রেগুইন রুতেনের মমি সম্পূর্ণ বালিতে পরিনত হল। 

রেগুইন রুতেনের জন্য খুব কষ্ট হচ্ছে। সত্যি তিনি সাপেদের যোগ্য রাজা ছিলেন। নিজেরে জীবন দিয়ে যে রাজা প্রজাদের রক্ষা করে সেইতো প্রকৃত রাজা। যদি রেগুনই রুতেন মানুষের কোন ক্ষতি না করে সাপেদের পালন করত তবে তার নাম জগৎ জুড়ে থাকত।

সাপগুলোর দিকে খেয়াল করে দেখি সাপ গুলোর চোখ দিয়ে পানি ঝড়ছে। সাপেদের চোখ দিয়ে পানি ঝড়তে কোনদিন দেখিনি। পৃথিবিতে হয়ত আমরা তিন জন প্রথম ব্যাক্তি যারা এমন বিস্ময়কর ঘটনা ঘটতে দেখলাম। নিজের অজান্তে দুচোখ দিয়ে দুই ফোটা পানি রেগুইন রুতেনের দেহাবশেষে গড়িয়ে পরল।

ভাল থাকুক রেগুইন রুতেন ভাল থাকুক সাপেদের জাতি................


সমাপ্তি,,,