রক্তচোষা ভ্যাম্পায়ার
৬ষ্ঠ পর্ব
.
১৩. মাসুদ রানা সাহেব দ্রুত গতিতে হাঁটছেন রাস্তা দিয়ে। তার উদ্দেশ্য মৃত গোয়েন্দা অফিসার রফিকুল ইসলামের বাড়িতে গিয়ে তার মেয়ে শম্মীর সাথে দেখা করা। শহরে এ পর্যন্ত যারাই রক্তশুন্যতায় ভুগে মারা গেছেন, তাদের সবার পরিবারেরও প্রায় সব সদসই এই রক্তশূন্যতা রোগের স্বীকার হয়ে মারা যাচ্ছেন। শম্মীর বাবা ওতো রক্তশূন্যতায় ভুগে মারা গিয়েছেন। সে হিসাবে শম্মীও হয়তো কোন বড় বিপদে রয়েছে! সে বেঁচে আছে কিনা? এটা নিয়েও সন্দেহ রয়েছে মাসুদ রানার। ঐ যে একদিন কথা হলো মেয়েটার সাথে! এরপর আর মেয়েটাও তার সাথে কোন যোগাযোগ করে নি আর তিনিও মেয়েটার সাথে কোন যোগাযোগ করেন নি! তাই আজ তার বাড়িতে যাচ্ছেন মাসুদ রানা। মেয়েটার কাছে গেলেও হয়তো এই রহস্যের কোন তথ্য পাওয়া যেতে পারে।
.
শম্মীর বাড়ির সামনে যেতেই মাসুদ রানা বেশ অবাক হলেন। শম্মীর বাড়ির দরজার সামনে অনেকগুলো গাছের কাটাঁ আর রসুন ঝুলিয়ে রাখা রয়েছে। চারিদিক থেকে শুধু রসুনের গন্ধই ভেসে আসছে! এসবের আগা-মাথা কিছুই বুঝতে পারলেন না তিনি! এরপর দরজায় নক করতেই শম্মী দরজাটা খুলে দিল! শম্মীকে জীবিত এবং সুস্থ দেখে বেশ খুশিই হন তিনি! তবে শম্মীকে দেখতে বেশ অদ্ভুত লাগছিলো। কেমন যেনো একটা তান্ত্রিক তান্তিক ভাব রয়েছে তার মধ্যে!! শম্মীর গলায় কাঁটা আর রসুন দিয়ে তৈরি মালা ঝুলছিলো! এছাড়া তার হাতে এবং পায়েও রসুনের টুকরো সুতা দিয়ে বেঁধে রাখা রয়েছে। বেশ অদ্ভুত ভঙ্গি তার চোখের। যেনো মাসুদ রানাকে সে পড়ার চেষ্টা করছে!
.
দরজাটা খুলেই একটা কাঠের কীলক হাতে নিয়ে বেশ সন্দেহ প্রবন দৃষ্টিতে শম্মী বেশ কিছুক্ষণ মাসুদ রানার দিকে তাকিয়ে রইলেন। এরপর কিছুটা গম্ভীর কন্ঠে মাসুদ রানাকে প্রশ্ন করলেন:
-কী চাই এখানে?
-আমি মাসুদ রানা। ডিটেকটিভ। ঐযে সেদিন আপনার বাবার মৃত্যু সম্পর্কে আপনার সাথে কথা বলতে এসেছিলাম!
-হ্যাঁ, চিনতে পেরেছি। কিন্তু এখন কী চাই?
-আপনার সাথে কিছু জরুরী কথাছিলো!
.
.
এরপর অদ্ভুতভাবে শম্মী একটা রসুনের টুকরো মাসুদ রানার দিকে এগিয়ে দিতে দিতে বললেন:
-এটা পকেটে রাখুন! এরপর ভেতরে আসুন!
.
মাসুদ রানা কিছুটা অবাক হয়ে রসুনের টুকরোটা তার পকেটে রাখতে রাখতে ঘরের ভেতরে প্রবেশ করলেন। তিনি দেখলেন, ঘরের বাহির আর শম্মীর থেকেও ঘরের ভেতরটাই বেশি অদ্ভুত রকম! পুরো ঘরে রসুন আর নানান রকমের কাঁটা ছড়ানো রয়েছে। এইরকম একটা ভুতুরে পরিবেশে বেশ অস্বস্তি অনুভব করলেন মাসুদ রানা। এরপর শম্মী এক কাপ চা আর কিছু বিস্কুট মাসুদ রানার দিকে এগিয়ে দিতে দিতে তাকে প্রশ্ন করলেন:
-কী বিষয়ে জানতে এসেছেন আপনি আমার কাছে?
- আপনি সুস্হ আছেন কিনা এটা দেখতেই মূলত এসেছি এখানে। আসলে এই পর্যন্ত যতগুলো মানুষ রক্তশুন্যতায় ভুগে মারা গেছেন তাদের পরিবারেরও প্রায় কেউই আর বেঁচে নেই। তারা সবাইও রক্তশুন্যতায় ভুগে অসুস্হ হয়ে পড়েছেন বা বেশির ভাগই মারা গিয়েছেন। তারা যে কিভাবে মারা যাচ্ছেন?! এ বিষয়ে কেউ কিছুই বলতে পারছে না, এটা বেশ রহস্যজনক। তাই আমি ভাবলাম, আপনারো কী আবার কোন বিপদ হলো নাকি?! কারণ আপনার বাবাওতো বেশ কিছুদিন আগে রক্তশুন্যতায় ভুগে মারা
গিয়েছিলেন।
কিন্তু ভালো লাগলো এটা দেখে যে, আপনি সুস্হ রয়েছেন। তবে ঘরের পরিবেশটা বেশ অসুস্থ!
-আমি আপনার কথার অর্থ বুঝতে পারছি। এই ঘটনার ব্যাখ্যাও আছে আমার কাছে। আমিও যাতে এই ঘটনার শিকার না হই এর জন্যই ঘরের পরিবেশটা অসুস্থ করে রেখেছি! রক্তশুন্যতায় এ পর্যন্ত যারা মারা গেছেন, তাদের সবার পরিবারের সদস্যেরাও মারা যাবেন। এটাই এখন স্বাভাবিক একটা ঘটনা! কারণ এ শহরে রক্তশুন্যতায় কেউ মারা যাচ্ছেন না। সবাই পরিণত হচ্ছে আন-ডেড এ।
-আপনার কথাটা ঠিক বুঝলাম না!
-আমার বলা কথাগুলো হয়তো আপনার অস্বাভাবিক বা অবিশ্বাস্য মনে হতে পারে। আপনি হয়তো আমায় পাগল ভাবতে পারেন। তবে বাস্তব সর্বদা বাস্তবই হয়! আপনি কী ভ্যাম্পায়ার সম্পর্কে কিছু জানেন? যারা মৃত্যূর পর আত্মা হয়ে নয়! বরং আবার স্বশরীরেই ফিরে আসে পৃথিবীতে? তাদের ভ্যাম্পায়ার বলে! তারা মৃত্যুর পরেও নিজেদের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে মানুষের রক্ত খায়। অদ্ভুত শুনলেও, এরা মৃত্যুর পরেও বেঁচে থাকে। আমাদের আশে-পাশেই থাকে। মানুষ বেঁচে থাকতে যেমন বংশবিস্তার করে। ঠিক তেমনি ভাবে মৃত্যুর পরেও তারা ভ্যাম্পায়ার হয়ে বংশবিস্তার করে। কোন একটা ভ্যাম্পায়ার যদি অন্য একটা সাধারণ মানুষের রক্ত চুষে খায়, তাহলে সেই সাধারণ মানুষটাও ধীরে ধীরে ভ্যাম্পায়ার হয়ে যাবে! তার চেহারাও সাদা-ফেকাসে হয়ে যাবে! তার শরীরের রক্ত অদৃশ্য ভাবে ভ্যাম্পায়ারের কাছে চলে যাবে এবং তারাও রক্তশুন্যতায় মারা যাবে! আর তাই যারা রক্তশুন্যতায় মারা যায় তারা সকলে আবার স্বশরীরে তাদের পরিবারের কাছে
ফিরে আসছে এবং ধীরে ধীরে তাদের পরিবারের সদস্যদেরই রক্ত চুষে খেয়ে আবার তাদেরও ভ্যাম্পায়ার করে দিচ্ছে। ভ্যাম্পায়ার মানুষগুলোর মনুষ্যত্ব বলে কিছুই থাকে না। থাকবে কি করে? তারাতো মানুষই না। এইভাবেই যারা একবার এই ভ্যাম্পায়ারের শিকার হয়ে রক্তশূন্যতায় ভুগে মারা যায়, তাদের পরিবারের সদস্যেরাও রক্তশুন্যতার শিকার হয়ে মারা যাচ্ছে এবং আনডেডে পরিণত হচ্ছে!
-কিন্তু পরিবারের প্রথম যে সদস্য রক্তশুন্যতার শিকার হচ্ছে, তার ঘাড়ে সেই চিকন দাতের ছিদ্র সৃষ্টি হচ্ছে কিভাবে?
কিসের কামড়ে সৃষ্টি হচ্ছে এসব?
-সাদা বাঁদুড়ের কামরে। যারা ভ্যাম্পায়ারদের রক্ত পানের মাধ্যমে ভ্যাম্পায়ারে পরিণত হয় অর্থাৎ মারা যায়! তারা মাঝরাতে নিজেদের কবর নিজেরাই খুড়ে , কবর থেকে বেরিয়ে আসে এবং সাদা বাদুড়ের রুপ নেয়। এরপর তারা গিয়ে সাধারণ মানুষের রক্ত চুষে খেতে থাকে সারারাত। ভ্যাম্পায়াররা চাইলে রাতের যেকোন সময় বাদুড়ে রুপ নিতে পারে বা মৃত্যুর পুর্বে তাদের যে চেহারা ছিলো সে চেহারায় ফিরে যেতে পারে! তারা মানুষকে খুব সহজেই হিপনোটাইস করতে পারে। একজন মানুষের শরীরে রক্ত খাওয়ার সময় এরা বাদুড় থেকে আবার তাদের নিজেদের রুপ ধারণ করে এবং মানুষের ঘাড়ে তাদের দুটো চিকন দাত বসিয়ে দেয়। এরপরে তারা রোজ একই ভাবে সেই মানুষটার রক্ত খেতে থাকে এবং সেই মানুষটা রক্তশুন্যতায় ভুগে মারা গিয়ে আনডেডে পরিণত হয়! এরপর মৃত্যুর পর সে আবার ভ্যাম্পায়ার হয়ে তার পরিবারের সদস্যদেরো আনডেডে অর্থাৎ ভ্যাম্পায়ারে পরিণত করে! এইভাবে চলতেই থাকে প্রতি রাতে ।এবং বর্তমানে এই আনডেড ভ্যাম্পায়ারের সংখ্যা প্রায় কয়েক হাজারের উপর। এখন পুরো শহরটাকেই তারা ধ্বংস করে ফেলবে!!
-রক্তশুন্যতায় মৃত্যুর রহস্যতো কিছুটা বুঝলাম। তবে ভ্যাম্পায়াররা যদি এইভাবেই সবার রক্ত খেতে পারে তাহলে সেই খুনগুলো করলো কেন? ঐ খুনগুলো না করলেতো আর তাদের বিষয়টা আলোচনায় আসতো না। আর তারা যদি খুন না করেই রক্ত খেতে পারে, তাহলে খুনগুলো করার কী দরকার ছিলো?
-শহরের টানা খুনগুলো করছে মৃত্যু এবং আনডেডের মাঝামাঝি থাকা সেই লোকগুলো। তারা এখনো মারা যায়নি। তবে অদ্ভুতভাবে ভ্যাম্পায়ারের শিকার হয়ে তারাও জীবিত ভ্যাম্পায়ারে পরিণত হয়েছে। আর তারা তাদের রক্ত তৃষ্ণার কারণে মানুষের রক্ত একেবারে শরীর খালি করে পুরোটা খেয়ে ফেলতো, আর সবাই ভাবতো মানুষগুলোকে কোন খুনি খুন করেছে।
ভ্যাম্পায়াররা রাতের সন্তান। রাতে এরা সবচেয়ে বেশি ক্ষমতার অধিকারি হয়। রাতে এরা চাইলে যে কারো রুপ ধারণ করতে পারে। এরা কুয়াশার সাথে মিশে যেতে পারে, এরা বাদুড়ের রুপ নিতে পারে, এরা ছোট শিশুর রুপ নিতে পারে। একবার এরা কোন ভাবে মানুষকে বোকা বানিয়ে তাদের ঘরে প্রবেশ করতে পারলেই এদের আসল রুপ দেখাতে শুরু করে। এরপরেই এরা মানুষের রক্ত চুষে খেয়ে তাদের খুন করে। এইভাবেই এই শহরে অনেকগুলো খুন হয়! আর এখনো হচ্ছে। রক্তশুন্যতার এই মহামারী কোন রোগ নয়। এইসবই খুন। আর এই খুনগুলো করছে ভ্যাম্পায়াররা!
-ওহ মাই গড, শম্মী! আপনিতো এই পুরো দুটো রহস্যের ব্যাখ্যাই আমায় দিয়ে দিলেন। যদিও ব্যাখ্যাগুলো অস্বাভাবিক। তবে আপনার কথাগুলো বিশ্বাস করা ছাড়া আর কোন উপায় নেই আমার কাছে। এই অদ্ভূত কেসের সাথে আপনার ব্যাখ্যাগুলো সামজ্ঞস্বপুর্ণ। কিন্তু এই রহস্যের সমাধানের উপায় কী আপনার কাছে জানা আছে?
-আপাতত এই রসুন আর কাঠের কীলকই আমাদের শেষ ভরসা! এর ব্যবহার আমি আপনাকে পরে খুলে বলছি!
-বিষয়টা কিছুটা পরিষ্কার হয়েছে তবে একটা জিনিস আমি কিছুতেই বুঝতে পারছি না! এই কেস সম্পর্কে আপনি এতকিছু কী করে জানলেন? গতবার আমি যখন আপনার সাথে দেখা করতে এসেছিলাম তখনোতো আপনি আমায় কিছুই বলেননি!
-আমি নিজেও তখন এবিষয়ে কিছুই
জানতাম না। আপনি চলে যাওয়ার বেশ কিছুদিন পর আমি আমার বাবার এই কেসটা নিয়ে লেখা ডায়েরিটা দেখতে পাই। সেই ডায়েরিটাতে যা লেখাছিলো সেগুলোই আমি আপনাকে বললাম এতক্ষণ।
-কিন্তু আপনি এসব জানার পরেও আমায় জানান নি কেন?
-আমি ডায়েরির ঘটনাটা পড়ে প্রথমে নিজেই এসব বিশ্বাস করিনি। কিন্তু গত কয়েকদিন আগে আমি আমার বাবাকে দেখতে পাই! ডায়েরির লেখার সাথে বাবার চেহারার অনেক মিল খুঁজে পাই! বাবাকে দেখতে অনেক ভয়ংকর লাগছিলো। বাবার দুটো ঠোঁট ছিদ্র হয়ে দুটো ভয়ংকর দাত বেরিয়ে আসছিলো। বাবা আমাকে তার দিকে ডাকছিলেন, নানান ছলনা করছিলেন, আমাকে হিপনোটাইস করার চেষ্টা করছিলেন! কিন্তু আমি বুঝে গিয়েছিলাম যে, এটা আমার বাবা না! এটা একটা ভ্যাম্পায়ার। আর ভ্যাম্পায়ার দের দিনের বেলা কোন শক্তি থাকে না। এছাড়া রাতেও তারা রসুন আর কাটা দেখে ভয় পায়। তাই আমার পুরো ঘরে রসুন আর কাঁটা ছড়ানো রয়েছে। আর আমি রসুনটা আপনাকেও দিয়েছিলাম এটা পরখ করতে যে, আপনিও ভ্যাম্পায়ার কিনা! আপনি যদি ভ্যাম্পায়ার হতেন, তাহলে এই রসুনের গন্ধঁ কিছুতেই সহ্য করতে পারতেন না!
-বাহ! সব রহস্যের পেচগুলো যেন এখন খুলছে! এই ভ্যাম্পায়ারদের দ্রুত ধ্বংস করতে হবে আমাদের এবং বাঁচাতে হবে শহরটাকে!
-কিন্তু একটা কথা আছে
। এই ভ্যাম্পায়াররা নিজে থেকে কখনই কোন শহরে আসতে পারে না, যতক্ষণ না পর্যন্ত কোন শয়তান পুজারী এদের আহ্বান না করবে। তার মানে আমাদের শহরের কোন একজন মানুষ রয়েছেন যিনি এই শয়তানের উপাসনা করে ভ্যাম্পায়ারকে এই শহরে আহ্বান করেছেন। তার শরীরে শয়তানের আত্মা প্রবেশ করেই হয়তো এখনো পর্যন্ত ভ্যাম্পায়ারের ক্ষমতা সে আরো বৃদ্ধি করে চলেছে! আমাদের সেই লোকটার কাছে পৌছাতে হবে। তাকে ধ্বংস করা ছাড়া এই ভ্যাম্পায়ার রহস্যের কোন সমাধান করা যাবে না।
.
.
শম্মীর বলা কথাগুলো বেশ অস্বাভাবিক হলেও এটা বিশ্বাস করা ছাড়া আর কোন উপায়ও নেই মাসুদ রানার! কারণ শহরে একের পর এক মানুষের রক্ত শুন্যতায় ভুগে মারা যাওয়া এবং একের পর এক এতগুলো মানুষের খুন কখনো স্বাভাবিক কিছু হতে পারে না! অদ্ভুত আর অস্বাভাবিক রহস্যের অদ্ভুত আর অস্বাভাবিক একটা সমাধান থাকবে এটাই স্বাভাবিক! এরপর মাসুদ রানা মৃত গোয়েন্দা রফিকুল ইসলামের লেখা এই কেসটা নিয়ে পুরো ডায়েরিটা পড়লেন! শম্মীর বলা সব কথার সাথেই এই ডায়েরির লেখার মিল রয়েছে। তার মানে শম্মী বানিয়ে কিছুই বলছে না। কেসটার রহস্য ক্রমস খুলছে মাসুদ রানার কাছে। কিন্তু এখন এই ভ্যাম্পায়ারের পুরো তথ্যটা সাধারণ জনগণের কাছে পৌছে দিতে হবে।
তাদেরকে এ বিষয়ে সতর্ক করতে হবে। তবে এর পুর্বে এই বিষয়ে গোয়েন্দা অফিসার ইকবাল খানের সাথে আগে কথা বলে নেওয়া উচিত!
.
.
১৪. রাত ১২টার কাছাকাছি বাজে। ডাক্তার জন এবং পিজন দুজনেই, পিজনের ঘরের জানালার পাশে দাঁড়িয়ে রয়েছে। দুজনের চোখে মুখেই বেশ কৌতুহলতা, উদ্দীপনা আর ভয় মেখে রয়েছে! তবে পিজনের মুখে বেশ নিশ্চিন্ততার ছাপও লক্ষ করা যাচ্ছে। তার চেহারা দেখে মনে হচ্ছে, রোজকার মতো আজও যে গোরস্হান থেকে লাশেরা নিজে নিজেই উঠে বাদুরে রূপ নিবে এ ব্যাপারে সে নিশ্চিত। তবে ডাক্তার জন মনে অনেক সন্দেহ নিয়েই জানালা দিয়ে গোরস্হানের দিকে তাকিয়ে রয়েছেন! তার বিশ্বাস যে , এইরকম অস্বাভাবিক কিছু ঘটতে পারে না। এটা পিটারের মত পিজনেরও হেলুসিনেশন মাত্র।
মৃতদের ফিরে আসা প্রকৃতির নিয়ম না।
.
ডাক্তার জন আর পিজন দীর্ঘক্ষণ ধরেই জানালার পাশে দাঁড়িয়ে থাকেন। রাত প্রায় ১টা পেরিয়ে যায় কিন্ত তারা অদ্ভুত কিছুই দেখতে পায় না সেখানে। এরপর ডাক্তার জন বেশ হতাশ হয়েই পিজনের ঘরের বিছানায় বসে পড়েন। তিনি বুঝতে পারলেন যে বোকার মত পিজনের কথা শুনে এতরাতে এখানে আসা উচিত হয়নি। এটা এই ছেলেটার একটা হেলুসিনেশন মাত্র। এই ধরনের কিছু ঘটার সম্ভাবনা মোটেও নেই। কিন্তু এরপরেও পিজন জানালা দিয়ে অবাক দৃষ্টিতে বাহিরের দিকে তাকিয়ে থাকে। তার চোখে নেশা কাটে না। ডাক্তার জন অন্য মনস্ক হয়েই কিছুক্ষণ বিছানায় বসে থাকেন। এরপর হঠাৎ তার চোখ পিজনের দিকে যেতেই তিনি দেখেন, পিজনের শরীর ঘামছে! তার চোখে মুখে গভীর ভয়ের ছাপ। তার চেহারা দেখে স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে যে, সে ভয়ংকর কিছু একটা দেখছে! এরপর ডাক্তার জন দ্রুত পিজনের পাশে গিয়ে দাঁড়ালেন। এরপর ডাক্তার জন জানালা দিয়ে যা দেখলেন, তা দেখে তিনি পুরোই আৎকে উঠলেন। গোরস্হানের সামনে একজন লম্বা করে চিকন লোক আলখেল্লা পরে দাঁড়িয়ে রয়েছেন। লোকটার মুখ স্পষ্ট করে বোঝা যাচ্ছে না! লোকটা চিৎকার করে গোরস্হানবাসিদের কিছু একটা বলছিলো। ডাক্তার জন কান পেতে অস্পষ্ট ভাবে লোকটার কন্ঠ শুনতে পেলেন। লোকটা বলছিলো, "হে রাতের সন্তানেরা, ঘুম থেকে উঠো! এখন তোমাদেরই সময়। বেরিয়ে পড়ো তোমাদের শিকার জোগাড় করতে। আরো অনেক সদস্য যোগ করতে হবে আমাদের দলে।" এরপরেই সেই আলখেল্লা পরা লোকটা মাটিতে হাটু গেড়ে বসে আকাশের দিকে তাকিয়ে চিৎকার করে কিছু একটা বলতে থাকে। এরপর চারিপাশ থেকে ঘন কুয়াশা এসে লোকটাকে চেপে ধরে আর লোকটা সাদা বাদুড়ে পরিণত হয় এবং আকাশে উড়ে চলে যায়! এরপর চারিদিক থেকে প্রচন্ড বাতাস আসতে থাকে। নতুন ৭ টা কবরের উপরের সব মাটি উড়ে চলে যায়। কবরের ভেতর থেকে বেরিয়ে আসে জীবিত কিছু লাশ। এরাতো মারা গিয়েছিলো! এদেরতো আর ফিরে আসার কথাছিলো না! কিন্তু তারা আসলো কিভাবে? এরপর এরাও নিজেদের কুয়াশার চাদড়ে ঢেকে সাদা বাদুড়ের রূপ হয়। ডাক্তার জন যেনো তার নিজের চোখকে বিশ্বাস করতে পারছিলেন না। তিনি নিশ্চত, এটা তার হেলুসিনেশন নয়। এগুলো বাস্তব । এই ঘটনার অস্তিত্ব রয়েছে। এরপর দুটো বাদুড় হঠাৎ তাদের লক্ষ করলো। পরক্ষণেই বাদুড় দুটো দ্রুত ছুটে তাদের দিকে এগিয়ে আসতে থাকে। ডাক্তার জন ভয়ে পুরো শিহরে উঠেন! সাথে সাথেই পিজন তার পকেট থেকে দুটো রসুনের টুকরো বের করে বাদুড় দুটোর দিকে ছুড়ে মারে। বাদুড় দুটো ভয় পেয়ে আকাশের দিকে উড়ে যায়। এরপর পিজন জানালাটা আটকে দেয়! ডাক্তার জন লক্ষ করেন যে, তিনি ঘেমে পুরো ভিজে গেছেন। তিনি ঘটনাটা দেখে পূরোই নির্বাক হয়ে যান। তিনি অস্পষ্ট ভাবে পুরো ঘটনাটা মস্তিস্কে ধারণ করার চেষ্টা করেন।
.
এরপর পিজন একটু মুচকি হেসেই ডাক্তার জনকে বলেন:
-দেখলেনতো, ডাক্তার জন। এটা আমার কোন হেলুসিনেশন নয়। বাস্তবেও এর অস্তিত্ব রয়েছে! এরা ভ্যাম্পায়ার। রাতের সন্তান।...
. . . . . . চলবে . . . . . .
