রক্তচোষা ভ্যাম্পায়ার
৫ম পর্ব
.
১১. সকাল ৯টা বাজে। মাসুদ রানা তার ঘরে একা একা বসে আছেন। তিনি কিছুতেই এই অদ্ভুত কেসটার রহস্যগুলোকে একত্রে মেলাতে পারছে না। এর বাখ্যাও নেই তার কাছে!শহরে খুনের সংখ্যা এবং রক্তশূন্যতায় মৃতের সংখ্যা দিনে দিনে বেড়েই চলেছে। এই দুটো রহস্যের মধ্যে যে একটা অদ্ভুত মিল রয়েছে, এ বিষয়ে মাসুদ রানার কোন সন্দেহ নেই! এই দুটো রহস্যের যে কোন একটি রহস্যের ভেতর প্রবেশ করতে পারলেই কেবল এই কেসটার আসল খুনির কাছে পৌঁছানো সম্ভব। তার কাছে পৌছালেই জানা যাবে যে এই খুনগুলো আর রক্তশূন্যতার মহামারী , এই দুটো রহস্যের মধ্যে সম্পর্ক কি?! আচ্ছা, এই শহরে সবার প্রথমে যাকে খুন করা হয় তার খুনকে ধরে কি খুনি পর্যন্ত পৌঁছানো সম্ভব? না এটা বেশ কঠিন হবে! কথা গুলো বসে বসে ভাবছিলেন তিনি!
.
তবে এই খুনগুলো নিয়ে গবেষণা করার থেকে এই মহামারী রোগটা কিভাবে মানুষের মধ্যে ছড়াচ্ছে এটা খুঁজে পাওয়াটা বেশি সহজ হবে। এই রহস্যটা ভেদ করতে পারলেই বাকি রহস্যটারও সমাধান হয়ে যাবে! এর জন্য এই রক্তশূন্যতা রোগে নিহত যেকোন একজন ভিকটিমের মৃত্যু রহস্য উদঘাঁটন করলেই যথেষ্ট!
.
এরপর মাসুদ রানা শহরের একটা হাসপাতালে গেলেন এটা দেখতে যে শেষ কে রক্তশুন্যতায় মারা গিয়েছিলো এখানে। হয়তো তার নাম, ঠিকানা জেনে তার পরিবারের কাছে গেলেই জানা যাবে যে, সে কী করে হঠাৎ রক্তশুন্যতার শিকার হলো?! । তার ঘাড়ে চিকন দাতের দাগ এবং চেহারা হঠাৎ ফেকাসে হয়ে উঠার পেছনের রহস্যটাইবা কী?!
.
হাসপাতালে গিয়েই মাসুদ রানা জানতে পারেন এই রোগে গত কয়েকদিনে মৃতের সংখ্যা এই হাসপাতালেই শ' ছাড়িয়েছে। তাদের সবার ফাইলই হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ মাসুদ রানাকে দিলেন। মাসুদ রানা ফাইলগুলো পাল্টে পাল্টে রোগিদের নাম, ছবি আর বয়স দেখছিলেন। প্রায় সব বয়সের লোকেরাই এই রোগের স্বীকার হচ্ছে। শিশু, কিশোর, যুবক, বৃদ্ধ-বৃদ্ধারাও পর্যন্ত বাদ যাচ্ছেন না! ফাইল ঘাটতে ঘাটতে মাসুদ রানার চোখ দুটো থেমে গেলো ফাইল থাকা একটা কিশোর বয়সের ছেলের ছবি দেখে! ছেলেটা কয়দিন আগেই রক্তশূন্যতায় ভুগে এই হাসপাতালেই মারা যায়! ছেলেটার নাম লেখা ছিলো, জেমস পিটার, বয়স ১৮। ছেলেটাকে দেখে বেশ চেনা চেনা লাগছিলো তার। কোথায় যেনো দেখেছে তাকে! মনে হচ্ছে খুব কাছ থেকেই তাকে দেখেছে সে! কিন্তু কোথায়, কখন ছেলেটাকে দেখেছিল, কিছুতেই মনে করতে পারছে না সে! হঠাৎ তার মনে পড়লো , আরে! এই ছেলেটার সাথেইতো সেদিন গোয়েন্দা অফিসার ইকবাল খানের অফিসের সামনে মুখোমুখি ধাক্কা
খেয়েছিলো সে। হ্যাঁ, এই ছেলেটাইতো সেদিন ছিল! ছেলেটা, ইকবাল খানের অফিসের সামনে কী করছিলো সেদিন ? ইকবাল খান কি ছেলেটাকে চেনে? আর এই ফাইলের তারিখ অনুযায়ী সেইদিনই সে রক্তশূন্যতায় মারা যায়! কি অদ্ভুত ব্যাপার, এত দ্রুত একটা ছেলে রক্তশূন্যতায় কি করে মারা যেতে পারে? তার সাথে ধাক্কা খাওয়ার সময়তো ছেলেটাকে বেশ সুস্হই লাগছিলো। যদিও সেদিন ছেলেটাকে দেখে একটু অন্যমনস্ক লাগছিলো!
.
তার মানেতো এই ছেলেটার বিষয়ে ইকবাল খানের কিছু একটা জানার কথা! এরপর মাসুদ রানা আবার ইকবাল খানের অফিসে যায়! তিনি বসে বসে বেশ অবসরেই সময় কাটাচ্ছিলেন। তবে মাসুদ রানাকে দেখেই নিজেকে কিছুটা গুছিয়ে ব্যাস্ত থাকার অভিনয় করলেন তিনি। ভাবটা এমন যেনো, যা বলবে দ্রুত বলো আমার হাতে সময় নেই। হাতে অনেক কাজ। মাসুদ রানা বিষয়টা বুঝতে পারলেন। তাই দ্রুত সেই হাসপাতালের ফাইলটা ইকবাল খানের দিকে এগিয়ে দিতে দিতে প্রশ্ন করলেন:
- ইকবাল সাহেব, আপনি দয়া করে এই ফাইলটা একটু দেখুনতো। এই ফাইলে যে ছেলেটার ছবি দেওয়া আছে সেটাও ভালো করে দেখুন। ছেলেটাকে আপনি চিনতে পারেন কিনা?
.
ইকবাল খান ফাইলে ছেলেটার ছবিটা দেখে প্রথমে কিছুটা চমকে উঠলেন। এরপর বেশ স্বাভাবিক হয়েই উত্তর দিলেন:
-এটাতো রক্তশুণ্যতায় ভুগে মারা যাওয়া একটা রোগির ফাইল। এই ছেলেটাকে আমি চিনতে যাবো কেন?
-না মানে, সেদিন আপনার অফিস থেকে বের হওয়ার পথে ছেলেটার সাথে আমি মূখোমুখি ধাক্কা খাই।আমার মনে হচ্ছে ছেলেটা সেদিন আপনার সাথে দেখা করতে এখানে এসেছিল। তাই নয় কী? আর ছেলেটা কিন্তু সেদিনই রক্ত শূন্যতায় ভুগে মারা যায়!
-অদ্ভুত রকমের প্রশ্ন এটা! ছেলেটা আমার সাথে দেখা করতে আসলেতো আমি ছেলেটার চেহারা মনে রাখতে ই পারতাম। আমি ছেলেটাকে চিনিনা! আর আমার অফিসের সামনে আসলেই যে আমার সাথে দেখা করতে হবে, এমনতো কোন কথা নেই! আমার অফিসের সামনে রোজ এইরোকম হাজারো ছেলেরা হাঁটা চলা করে। তবে ছেলেটাকে আসলেই আমি দেখিনি! আমার এখন অনেক জরুরী কাজ আছে! আপনি এখন আসতে পারেন। এমনিতেই অনেক চাপে রয়েছি। দয়া করে উল্টা-পাল্টা প্রশ্ন করে আর চাপ দিবেন না। আর এইসব রোগের পেছনে না ছুটে খুনির কাছে পৌছান। খুনিতো আরো খুন করেই চলেছে!
.
এরপরেই মাসুদ রানা তার কাছ থেকে বিদায় নিয়ে অফিস থেকে বের হয়ে চলে গেলেন। তিনি এই বিষয়টা নিয়ে মোটেও পরিষ্কার হলেন না। ইকবাল খানের কথাগুলো বেশ সন্দেহজনক! তার একটা কথার সাথে আরেকটা কথার কোন মিল নেই। তিনি নিশ্চই চাপের ভয়ে তার কাছ থেকে আবার কিছু লুকাচ্ছেন! তবে ইকবাল খানের মধ্যে বেশ কিছু পরিবর্তন লক্ষ করা যাচ্ছে। সে নিজেই গিয়ে মাসুদ রানাকে এই কেসটার দায়িত্ব দিলেও বর্তমানে তারই আর এই কেসটা নিয়ে বিন্দুমাত্রও আগ্রহ নেই। কেসটার কথা উঠতেই সে বেশ এড়িয়ে চলে! অবশ্য তার এই পরিবর্তনটা স্বাভাবিক। আসলেই এই কেসটার জন্য তাকে অনেক চাপ সহ্য করতে হচ্ছে! সব দিক থেকে চাপ এসে পড়ছে তার ঘাড়ে! হয়তো তাই তিনিও ধীরে ধীরে মানসিক ভাবে অসুস্হ হয়ে পড়ছেন!
.
মাসুদ রানা ইকবাল খানের কাছ থেকে কোন তথ্য না পেয়ে গেলেন সরাসরি পিটারদের বাড়ি। তার বাবা-মায়ের কাছ থেকে হয়তো এই অদ্ভুত মৃত্যুর রহস্য বিষয়ে কোন তথ্য পাওয়া যেতে পারে। পিটারদের বাড়ির সামনে পৌছে ৭ তলায় পিটারদের ফ্লাটের সামনে যেতেই মাসুদ রানা বেশ চমকে উঠলেন! ফ্লাটের দরজায় তালা ঝুলছে! এরপর পিটারের প্রতিবেশিরা তাকে জানায় যে, পিটার কিছুদিন আগে রক্তশুন্যতায় ভুগে মারা যায় এবং গতকাল তার বাবা আর মাও রক্তশুন্যতায় ভুগে মারা গেছেন! কথাটা শুনেই মাসুদ রানা আরো চমকে উঠলেন! ক্রমশ চমকের পর নতুন চমক যেনো অপেক্ষা করে থাকে তার জন্য!কিন্তু রক্তশুন্যতা কী কোন ছোয়াছে রোগ নাকি যে এক জনের হলে তা পুরো পরিবারেই ছড়িয়ে পড়বে? এটা মোটেও কোন স্বাভাবিক বেপার নয়। তাহলেতো এই রক্তশুন্যতায় ভুগে যারা মারা গেছে তাদের সবার পরিবারই ধ্বংস হয়ে যাবে! সবারই রক্তশূন্যতায় ভুগে মারা যাওয়ার কথা!! এরপর ফাইল দেখে আর যারা যারা রক্তশুন্যতায় মারা গেছেন তাদের মধে বেশ কয়েকটা রোগির বাড়িতে যান মাসুদ রানা। সেখানে গিয়ে আরো অবাক হন তিনি। প্রায় তাদের সবার পরিবারের সদস্যেরাই রক্তশুন্যতায় ভুগে মারা গেছেন। যে কয়েকটা সদস্য বেঁচে রয়েছেন তাদের অবস্হায় তেমন ভালো না। তাদের চেহারাও ফেকাসে সাদা হয়ে গেছে আর তাদের ঘাড়েও দুটো করে চিকন দাগ দেখা যাচ্ছে! অর্থাৎ রক্তশুন্যতা রোগে মৃত্যুর পুর্ব লক্ষণ।
.
রাগে, ক্ষোভে মাসুদ রানার তার মাথার সব চুল ছিড়ে ফেলতে ইচ্ছা করছে! এইসব কী ঘটে যাচ্ছে তার চোখের সামনে? রক্তশুন্যতার এই মহামারী সৃষ্টি হচ্ছে কোথা থেকে? এত মানুষ মারা গেলে শহরে থাকবে কারা? শহরে প্রায় প্রতিদিন রক্তশুন্যতায় শ'য়ের কাছাকাছি লোক মারা যাচ্ছে।সবার রোগের একই লক্ষণ, একই ভাবে তারা মারা যাচ্ছে! এইভাবে মানুষ মারা যেতে থাকলেতো শহর একদিন জনশূন্য হয়ে যাবে!
.
সবাই বুঝতে পারছে যে ঘাড়ের পাশের এই চিকন ছিদ্রটার কারণেই মানুষ রক্তশুন্যতায় ভুগছে । কিন্তু সেই ছিদ্র দুটো সৃষ্টি হচ্ছে কিভাবে? হয়তো কোন ভয়ংকর প্রাণি তাদের কামড়ে দিয়েছে। কিন্তু হঠাৎ করে এতগুলো ভয়ংকর প্রাণি এই শহরেই বা আসলো কিভাবে?রক্তশুন্যতা রোগটা যখন ভয়ংকর মহামারীতে রুপ নেয়, তখন পুরো শহরবাসী বুঝতে পারে ঘটনাটা। মিডিয়াতে প্রচার হতে থাকে গত কয়েকমাসে কত হাজার মানুষ রক্তশুন্যতায় ভুগে মারা গিয়েছেন এর পরিসংখ্যান! পুরো শহরে এখন সেই খুনের চেয়ে বড় আতংক এই রক্তশুন্যতার মহামারী রোগ। এই রোগের কারণ ব্যাখ্যা দিতে পারছেন না শহরের কোন ডাক্তারই। শহরের বাহিরে থেকে বেশ কয়েকটা বড় ডাক্তার এবং গবেষক দলও এসেছিলো এই অভিশপ্ত শহরটায়। তবে প্রাণ নিয়ে ফিরে যেতে পারেনি কেউ। তারাও রক্তশুন্যতায় ভুগে এই শহরেই শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন! মাসুদ রানা নির্বাক হয়ে আরেকটা দিনের অপেক্ষায় বসে থাকেন!
.
.
১২. ডাক্তার জন আর্ট তার চেম্বারে বসে আছেন। তিনি পিটারকে নিয়ে বেশ চিন্তিত। এত সুন্দর, স্বাভাবিক একটা ছেলে এত দ্রুত রক্তশুন্যতায় ভুগে কী করে মারা যেতে পারেন? এটা তার মাথায় কিছুতেই আসছিলো না। ছেলেটারতো শুধু হেলুসিনেশন ছিল! এছাড়া আর কোন সমস্যা ছিল না। তাহলে কী পিটারের মা-বাবা জনকে মিথ্যা কথা বলেছেন?তাদের চেহারা কতটা অদ্ভুত আর ভয়ংকর লাগছিলো সেদিন দেখতে!! কী ফেকাসে তাদের চেহারা!! বরং তাদের চেহারা দেখে মনে হচ্ছিলো , তারাই হয়তো উল্টো রক্তশুন্যতায় ভুগছেন! এখন ডাক্তার জনের কী করা উচিত? এটাও তার মাথায় আসছিলো না। একবার ভাবলো, আচ্ছা পিটারের বলা কথাগুলো কী আসলেই ঠিক ছিলো? এগুলো কী হেলুসিনেশন ছিলো নাকি বাস্তব? না! এই ঘটনাগুলো কী করে বাস্তবে ঘটতে পারে? মৃতদের ফিরে আসাতো পৃথিবীর নিয়ম নয়! নিশ্চিত হেলুসিনেশন! অবশ্য তার মৃত্যুটা অদ্ভুত এবং অস্বাভাবিক!!
.
ডাক্তার জন অন্য মনস্ক হয়েই তার চেম্বারে বসে ছিলেন। হঠাৎ করেই একটা তরুন ছেলে দরজার সামনে এসে তাকে উদ্দেশ্য করে বললো:
-ডাক্তার জন, আমি কী ভেতরে আসতে পারি?
-হ্যাঁ। অবশ্যই আসো। (ডাক্তার জন)
.
ছেলেটা এসে ডাক্তার জনের টেবিলের সামনে রাখা চেয়ারে বসলো। এরপর টেবিলে দু'কাপ চা আসতেই ডাক্তার জন একটা চায়ের কাপ ছেলেটার দিকে এগিয়ে দিতে দিতে তার কাছে জানতে চাইলেন যে, তার সমস্যাটা কী?সে কিসের জন্য ডাক্তার জনের কাছে এসেছে?
.
ছেলেটার নাম পিজন গেলান। ছেলেটা তার সমস্যাটা ডাক্তার জন কে খুলে বলতেই ডাক্তার জন পুরো আৎকে উঠলেন! এই ছেলেটার বলা ঘটনার সাথে হুবহু মিলে যাচ্ছে পিটারের বলা ঘটনা! এই ছেলেটা যে ধরণের হেলুসিনেশনের কথা বলছে, পিটারও ঠিক এই ধরণের কথাই তাকে বলেছিলো!!ডাক্তার জন অবাক হয়ে বেশ কিছুক্ষণ ছেলেটার মুখের দিকে তাকিয়ে থাকেন। এরপর ছেলেটার কাছে জানতে চাইলেন যে সে কী কোনভাবে জেমস পিটারকে চিনে কিনা? কিন্তু ছেলেটা বললো, সে পিটার নামের কাউকেই চিনে না। এছাড়া তাদের দুজনের বাড়িও দূটো ভিন্ন এলাকায়। তাদের দুজনের গল্প একই হলেও গল্প দুটো ভিন্ন গোরস্হানের! ডাক্তার জন কিছুতেই বুঝতে পারছেন না যে, দুজন ছেলের ঠিক একই রকম হেলুসিনেশন কী করে হতে পারে?এছাড়াও পিটার এবং এই ছেলেটা অর্থাৎ পিজন এর মধ্যে বেশ কিছু পার্থক্য রয়েছে! পিজন পিটারের মত না। পিজনকে পর্যবেক্ষন করে ডাক্তার জন বুঝতে পারেন যে, ছেলেটা বেশ মিশুক স্বভাবের, সবসময় ঘুরাঘুরি করতে পছন্দ করে, বই পড়তে মোটেও পছন্দ করে না সে, আর অতিপ্রাকৃতিক ঘটনা সম্পর্কে তার আগের ধারণা ছিল এগুলো কুসংস্কার। বর্তমানের বিষয়টা একটু ভিন্ন। এটা পিটারের মত! এছাড়া এই ছেলেটার বাড়িটার পাশেও একটা গোরস্হান রয়েছে। সে অবশ্য পিটারের মত ৭ তলায় থাকে না। সে থাকে ৩ তলায় । সে নাকি সেখান থেকে স্পষ্ট দেখতে পেয়েছিলো গোরস্হানবাসীরা আবার জীবন ফিরে পাচ্ছে। তারা কবর থেকে উঠে সাদা বাদুড়ের রুপ নিয়ে আকাশে মিলিয়ে যাচ্ছে। তবে সবগুলো কবর না। কেবল ৭টা কবরের লাশ জীবিত হয়। ৭টাই নতুন কবর। সে নাকি টানা ৪ দিন ধরে এই একই ঘটনা দেখছে!
.
এইগুলোকে হেলুসিনেশন বলবে কিনা তা ঠিক বুঝতে পারছেন না ডাক্তার জন। আরো বেশ কিছুক্ষণ তিক্ষ্ণ দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইলো জন ছেলেটার দিকে। জনও কিছুটা বিশ্বাস করতে শুরু করে যে এগুলো কোন হেলুসিনেশন নয়। এগুলো বাস্তব। এগুলোর নিশ্চই কোন অস্তিত্ব রয়েছে। পিটারের রহস্যজনক মৃত্যু, পিটার এবং এই ছেলেটার বলা একই রকম ঘটনা কখনো পুরোপুরি কাকতালীয় হতে পারে না। কোনোতো একটা রহস্য অবশ্যই রয়েছে এর পেছনে! এই রহস্যের কাছে পৌছাতে অবশ্যই তাকেও মাঝরাতে গোরস্হানে উপস্হিত থেকে দৃশ্যটা পুরোপুরি সামনে থেকে দেখতে হবে। যদি জন তাদের মত এইরকম অদ্ভুত কোন ঘটনা না দেখে তাহলে নিশ্চিত হওয়া যাবে যে এটা একটা কাকতালীয় ব্যাপার এবং পিজন অনেকটা পিটারের মতই হেলুসিনেশনে রয়েছে। তবে এই ঘটনা যে জন কিছুটা বিশ্বাস করছে এটা কিছুতেই ছেলেটাকে বুঝতে দেওয়া যাবে না। তাহলে ছেলেটার হেলুসিনেশন থাকলে তা আরো বেড়ে যাবে! এরপর জন কিছুটা স্বাভাবিক হয়েই উত্তর দেয়:
-তোমার দেখা পুরো ঘটনাটাই হেলুসিনেশন। তোমাকে এটা বিশ্বাস করাতে আজ রাতে আমাকে তোমার সাথে তোমার বাড়িতে থাকতে হবে। যদি ঘটনাটা বাস্তব হয় তাহলে আমিও তোমার সাথে গোরস্হানের সেই অদ্ভুত দৃশ্য টা দেখতে পাবো। তবে আমি মোটামোটি নিশ্চিত যে আমি এইরকম অদ্ভুত কিছুই দেখতে পাবো না। কারণ এটা কেবল তোমার হেলুসিনেশন মাত্র। রাতে তোমার বাড়িতে থাকলে কী তোমার পরিবারের কারো কোন সমস্যা হবে?
-না ডাক্তার জন। আমার মা-বাবা গতকাল নানা বাড়ি গেছেন এবং আগামীকাল ফিরবেন। রাতে আমি একাই থাকবো। আপনি চাইলে আমার বাড়িতে আসতে পারেন। আমিও নিশ্চিত যে আপনিও আমার মত এই ভয়ংকর ভ্যাম্পায়ারদের দৃশ্যটা উপভোগ করবেন। এটা হয়তো আসলেই আমার হেলুসিনেশন নয়!
.
.
এতটুকু কথা বলেই পিজন ডাক্তার জনকে বিদায় দিয়ে বাসায় চলে যায়। ডাক্তার জন আবার তার চেম্বারে একা একা দীর্ঘক্ষণ বসে থাকেন। তিনি সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছিলেন, যে করেই হোক আজ রাতে পিজনদের বাড়িতে গিয়ে এই ঘটনাটা স্বচক্ষে দেখতেই হবে তাকে! জানতেই হবে ঘটনাগুলো কী বাস্তব নাকি কোন হেলুসিনেশন? পিটারের মৃত্যুর রহস্যটাই বা কী? . . . . . . . .
. . . . . . চলবে . . . . .
