রক্তচোষা ভ্যাম্পায়ার
৪র্থ পর্ব
৭. রাত প্রায় ১২টার কাছাকাছি বাজে। পিটার তার ঘরের বিছানায় ঘুমানোর চেষ্টা করছে! গতরাতের সেই ভয়ংকর স্মৃতি সে কিছুতেই মাথা থেকে বের করতে পারছে না। ঘুমাতে গিয়েও ছাড়া-ছাড়া ঘুমে ভয় পেয়ে আবার উঠে যাচ্ছে সে। ঘড়ির কাটায় রাত ১২টা পার হতেই হঠাৎ আবার ঘরের জানালায় কারো ধাক্কানোর শব্দে আৎকে উঠে পিটার! সে স্পষ্ট বুঝতে পারে যে বাহিরে প্রচুর বাতাস হচ্ছে। সে বেশ ভয় পেয়ে যায়। আর ভাবে, জানালা খুললে আজও কী গতরাতের মত অদ্ভুদ দৃশ্য দেখবে সে? যদি গতরাতের ঘটনাটা হেলুসিনেসন হয় তাহলে আজ তার ঐ দৃশ্যটা আর দেখার সম্ভাবনা নেই! পিটার একবার ভাবলো জানালাটা খুলে দেখবে বাহিরে কি হচ্ছে?! আবার পরক্ষণেই তার মস্তিস্ক তাকে এই কাজ করতে বাঁধা দিচ্ছিল। কিছুক্ষণ দ্বন্দ্বের ভেতর কাটানোর পর অবশেষে সে সাহস করেই জানালাটা খুলে ফেললো। জানালাটা খুলতেই গতদিনের মত বেশকিছু ধুলাবালি এসে তার ঘরে প্রবেশ করলো। সে বাহিরে তাকিয়ে দেখলো প্রচুর বাতাস হচ্ছে। এরপর চোখ দিল সেই গোরস্হানের দিকে। সেদিকে তার চোখ যেতেই সে পুরো আৎকে উঠলো! সে যেন গত দিনের ঘটা ঘটনার পুনরাবৃত্তি দেখতে পাচ্ছিলো। সেই চিকন, লম্বা, আলখেল্লা পরা লোকটা আজও গোরস্হানের সামনে দাঁড়িয়ে রয়েছে! সেই আলখেল্লা পরা লোকটা আজও চিৎকার করে গোরস্হান বাসীদের কী যেনো বলছিলো। এরপর লোকটা হাটু গেড়ে বসতেই চারপাশ থেকে গভীর কুয়াশা এসে তাকে ঢেকে ফেলে এবং সে সাদা বাদুঁড়ে রুপ নেয়। তার চলে যাওয়ার পর আবার সেই কবরের লাশগুলো জীবন্ত হয়ে যায় এবং তারাও সাদা বাদুড়ের রুপ নিয়ে উড়ে আকাশে চলে যায়। ঘটনাটার পুনরাবৃত্তি আবার দেখে পিটার পুরো ভয় পেয়ে জানালাটা বন্ধ করে দেয়। সে বুঝতে পারে ঘামে তার পুরো শরীর ভিজে গেছে! এরপর সে গোসল করে আবার তার বিছানায় গিয়ে শুয়ে পড়ে। ভয়ে তার পুরো শরীর কাপছিলো। তার মাথায় প্রচুর যন্ত্রনা হচ্ছিলো। সে বুঝতে পারছিলো নিশ্চই সে কোন জটিল মানসিক রোগে ভুগছে অথবা সে যেই দৃশ্যগুলো দেখছে এগুলো সব বাস্তব। তবে এই সব ঘটনা গুলো যদি বাস্তব হয় তাহলে অনেক বড় বিপদ হবে! সব মৃতেরা কী ফেরত আসছে নাকি কিছু?
.
পরের দিন: সকাল ৯ টা বাজে। সাইক্রিয়াট্রিস্ট ডাক্তার জন আর্ট তার চেম্বারে বসে আছেন। হঠাৎ একটা ১৭-১৮ বছরের ছেলে তার চেম্বারের দরজার সামনে এসে দাঁড়ালো। মাঝারি উচ্চতার একটা ছেলে, চূলগুলো স্পাইক করা, পরনে একটা টি-শার্ট আর কালো পেন্ট। গায়ের রং বেশ ফরসা। ডাক্তার জন এর দিকে তাকিয়েই ছেলেটা বললো:
-স্যার, আমি কী ভেতরে আসতে পারি?
-হ্যা। অবশ্যই আসো। (ডাক্তার জন)
.
ছেলেটা এসে ডাক্তার জনের টেবিলের সামনে রাখা একটা চেয়ারে বসলো। এরপর কিছুটা সময় দুজনেই চুপচাপ বসে রইলো। জন ছেলেটাকে দেখে পর্যবেক্ষণ করার চেষ্টা করছিলো কিচুক্ষন। এরপরেই টেবিলে দুই কাপ চা এলো। জন একটা চায়ের কাপ ছেলেটার দিকে এগিয়ে দিতে দিতে প্রশ্ন করলো:
-আচ্ছা, তোমার নাম কী?
-জেমস পিটার। (ছেলেটা)
-আমার কাছে কেন এসেছ? কোন সাহায্য চাই?
-হ্যাঁ।
-কী সাহায্য? পুরো ঘটনাটা খুলে বল?
.
এরপর পিটার ডাক্তার জনকে গত দুইরাতে তার সাথে ঘটে যাওয়া সব ঘটনা খুলে বললেন। ডাক্তার জন ঘটনাগুলো শুনে মোটেও অবাক হলেন না। তিনি একজন সাইক্রিয়াট্রিস্ট। তার কাছে এই রকম মানসিক সমস্যা নিয়ে প্রায়ই নানান রোগি আসে। এটাকে আসলে কোন রোগ বলা চলে না। এটাকে এক ধরণের হেলুসিনেসন বলা যেতে পারে। যার মাধ্যমে রোগি নিজে নিজেই একটা কল্পনার জগত সৃষ্টি করে। ডাক্তার জন একটু মুচকি হেসে পিটারকে প্রশ্ন করলেন:
-আচ্ছা, পিটার? তুমি কী বই পড়তে পছন্দ কর?
-হ্যাঁ। দিনের বেশির ভাগ সময় আমি বই পড়েই কাটাই।
-কী ধরণের বই পড় তুমি?
-অতিপ্রাকৃতিক,প্যারানরমাল বা রহস্য নিয়ে লেখা বইগুলো বেশি পছন্দ করি।
-হুম বুঝলাম। আচ্ছা , তুমি কি চোখ বন্ধ করে এক নিশ্বাসে তোমার ১০ জন প্রিয় বন্ধুর নাম বলতে পারবে?
-ইয়ে মানে স্যার। আমার খুব একটা বেশি বন্ধু নেই। আমার কারো সাথে মিশতে ভালো লাগে না। শুধু একা একা বই পড়তে ভালো লাগে।
-আচ্ছা তুমি ভ্যাম্পায়ার নিয়ে কোন বই পড়েছো?
-হ্যাঁ। কয়েক সপ্তাহ আগে দুটো বই পড়েছিলাম। "রক্তবীজ" আর "ড্রাকুলা"।
-দেখো পিটার। আমি তোমায় কী বোঝাতে চাইছি তুমি হয়তো বুঝতে পারছো! তুমি যেহেতু রহস্য নিয়ে বই পড় তাই ধরে নেওয়াই যেতে পারে তুমি বেশ বুদ্ধিমান। আমি যা যা বলছি তা তুমি যুক্তি দিয়ে বিশ্বাস করার চেষ্টা কর। তুমি খুব একটা মানুষের সাথে মিশো না। তার মানে সারাদিন বাড়িতেই পড়ে থাকো। বাহিরের পৃথিবীর খবর খুব একটা নাও না। তাই তুমি যে বইটাই পড়, সেই বইটা নিয়েই সারাদিন চিন্তা করতে থাকো। তুমি কী কখনো মাঝরাতে এমনটা অনুভব করো না যে, তোমার ঘরে তুমি ছাড়াও কোন অদৃশ্য সত্তার উপস্হিতি রয়েছে?
-হ্যাঁ। আগের বাড়িতে থাকতে প্রায় রাতেই এমনটা মনে হতো। তবে বর্তমানে নতুন বাড়িতে আসার পর এমনটা মনে হয় না। কিন্তু আপনি জানলেন কী করে এই ঘটনা?
-এটা সবাই বলতে পারবে পিটার। এটা একটা স্বাভাবিক ঘটনা। তুমি সারাদিন ভুতের গল্প পড়তে পড়তে তোমার মনে একটা ধারণা জন্মে গেছে যে, তোমার ঘরে কোন অদৃশ্য সত্তা রয়েছে। যদিও তোমার ঘরে অন্য কিছুই ছিলনা!
এটা তোমার হেলুসিনেসন ছিলো। ঠিক তেমনি ভাবে তুমি কয়েক সপ্তাহ আগে ভ্যাম্পায়ার নিয়ে দুটো বই পড়েছিলে। সেগুলোর প্রভাবই দীর্ঘদিন ধরে তোমার ভেতর রয়েছে। ভাগ্যক্রমে তুমি যে নতুন বাড়িতে উঠেছো সেই বাড়ির পাশে একটা গোরস্হান রয়েছে এবং তুমি গোরস্হান সম্পর্কে রাতের বেলার যে ঘটনার তথ্যগুলো আমাকে দিলে এগুলো সাধারণ ভ্যাম্পায়ারের গল্পে হয়ে থাকে। আর তাই তুমি মনে মনে কল্পনা করে নিলে সেই গোরস্হানের সামনে কোন বড় ভ্যাম্পায়ার এসে সেই গোরস্হানবাসীদের কবর থেকে তুলে ভ্যাম্পায়ার করে দিচ্ছে! এটা নিঃস্বন্দেহে তোমার একটা বড় হেলুসিনেসন পিটার। বাস্তবে এই ঘটনার কোন অস্তিত্বই নেই। তুমি বুঝতে পারছো যে ৭ তলা থেকে দেখে এতদুরের একটা গোরস্থানের দেখা ঘটনাগুলোর এতটা স্পষ্ট ভাবে বর্ণণা করা সম্ভব নয়। যেভাবে তুমি করছো! পুরোটাই তোমার হেলুসিনেসন।
-তাতো আমি জানি না। কিন্তু আমিতো টানা ২ দিন একই ঘটনা দেখলাম!
- এটাই স্বাভাবিক পিটার! তুমি হয়তো আজীবন প্রতি রাতেই এইরকম হেলুসিনেসন দেখতে পারো! যতদিন পর্যন্ত না তুমি বিশ্বাস করবে যে এইগুলো সব হেলুসিনেশন! এটাই হেলুসিনেসনের ধর্ম!
-কিন্তু এখন আমি কী করবো ডাক্তার? আমার কী করা উচিত ?
-তুমি শুধু মন থেকে এটা বিশ্বাস কর যে ভ্যাম্পায়াররা হয় না! এরা শুধু তোমার কল্পনা! যত পারো প্রতিবেশি বা সমবয়সী ছেলে-পেলেদের সাথে মিশতে থাকো! রাতের বেলার ঈশ্বরের নাম
নিয়ে নিশ্চিন্ত মনে শুয়ে পড়। বিশ্বাস রাখবে অস্বাভাবিক যাই দেখবে সব তোমার কল্পনা আর হেলুসিনেসন!
.
.
এতটুকু কথা বলেই পিটার ডাক্তার জনের কাছ থেকে বিদায় নিলো। ডাক্তার জন পিটারকে পরবর্তী দিন আবার দেখা করতে বলেন! পিটার জনের চেম্বার থেকে বেরিয়ে চুপচাপ রাস্তা দিয়ে হাঁটতে থাকে! ডাক্তার জন যে সব কথাগুলো তাকে বললো সবই যৌক্তিক। তাও পিটার মেনে নিতে পারছে না যে, এইসবই কাল্পনিক ঘটনা ! সে যা দেখেছে তা কিছুতেই কাল্পনিক হতে পারে না। এর অস্তিত্ব হয়তো রয়েছে। ডাক্তার জন হয়তো নিজের চোখে দেখলে এসব বিশ্বাস করবেন!
.
.
৮. গোয়েন্দা অফিসার ইকবাল খানের কল পাওয়ার পর দ্রুত মাসুদ রানা মৃত ডাক্তার হাসিব এবং আরিহার বাড়িতে পৌছালো। তাদের বাড়িতে পৌছেই সে দেখতে পায় বাড়ির সামনে অনেক ভীর! অনেক গাড়ি, অনেক মানুষ!
মাসুদ রানা ভীর ঠেলে বাড়ির ভেতর প্রবেশ করলেন! দেখলেন সাদা কাপড়ে মোড়ানো একটা লাশ। দেখেই চিন্তে পারলেন যে , এটা আরিহার লাশ। লাশটা দেখতে খুব ভয়ংকর লাগছিলো! পুরো শরীরে রক্ত না থাকায় বেশ ফেকাসে সাদা মনে হচ্ছিলো লাশটা এবং এর ঘাড়ের পেছনেও দুটো লাল চিকন ছিদ্র দেখা যাচ্ছে! মাসুদ রানা কিছুতেই বিশ্বাস করতে পারছিলো না যে, এই মেয়েটাই তাকে গতকাল রাতে কল করে তার কাছে সাহায্য চাইছিলো! হয়তো তখনি মেয়েটা মারা গিয়েছিলো! হয়তো তিনি যদি মেয়েটার কথাগুলোকে বাস্তবিক ভাবে নিতেন তাহলে মেয়েটা আজ বেঁচে থাকতো। কিন্তু মেয়েটার কথা কি আসলেই বিশ্বাসের উপযুক্ত ছিলো?! একজন মৃত মানুষ কী করে আবার ফিরে আসতে পারে? মৃত মানুষ কী করে একজনকে রক্তচুষে খুন করতে পারে? হাসিব কী আসলেই আবার ফিরে এসেছে?! হাসিব যদি এইভাবে ফিরে আসে তাহলেতো শহরে আরো যারা খুন হয়েছে তাদেরও ফিরে আসার কথা! তাহলেতো খুনের পরিমাণ আরো কয়েক গুন বেড়ে যাবে! কথাটা ভেবে বেশ ভয় পেয়ে যায় মাসুদ রানা। এরপর তিনি সেখানেই ইকবাল খানের সাথে দেখা করেন। কিন্তু কোন লাভ হয়না। মাসুদ রানা সাহেব বুঝতে পারেন যে এইভাবে যদি কেসটা চলতে থাকে তাহলে হয়তো তিনি আরো অনেকগুলো খুনের স্বাক্ষী হতে পারবে কিন্তু এই রহস্যটা আর ভেদ করতে পারবেন না। অবশ্য তার এই রহস্যময় খুনের খুনির সাথে দেখা হওয়ার একটা সম্ভাবনা রয়েছে! কারণ এই কেসটা নিয়ে যারা যারাই কাজ করেছেন তারাই খুনির মুখোমুখি হয়েছেন এবং এরপর রক্তশুন্যতায় ভুগে মারা গেছেন, তাদের ঘাড়েও চিকন দুটো ছিদ্র দেখা গেছে। মানে মাসুদ রানা সাহেবের সাথেও খুনির দেখা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে এবং সেটা খুব শিঘ্রই। এরপরেই ইকবাল খান মাসুদ রানাকে আরো একটা তথ্য দেন। বলেন, মানসিক হাসপাতালে থাকা
মৃত ডাক্তার রিমন সাহেবের বাড়ির কাজের ছেলে আসিফ হাসপাতালে রক্তশুন্যতায় ভুগে মারা গেছে। এটা যেনো আরো একটা বড় রহস্য মাসুদ রানা সাহেবের কাছে! গোয়েন্দা অফিসার ইকবাল খান মাসুদ রানাকে বিকেলে তার অফিসে দেখা করতে বললেন। বললেন, এই কেস সম্পর্কে জরুরী একটা আলোচনা রয়েছে! এরপর মাসুদ রানা বেশ হতাশ হয়েই তার বাড়িতে ফিরে গেলেন!
.
.
৯. পিটার তার এলাকাটা ঘুরে ঘুরে দেখছিলো। পিটার ভাবছিলো ডাক্তার জন আর্ট এর কথায় যুক্তি রয়েছে। সে এলাকায় এসেছে মাত্র কয়েকদিন হল। আসলে সে এর ভেতরে একদিনও বাড়ির বাহিরে বের হয়নি! সারাদিন বাড়িতে বসে বসে শুধু বই পড়তো। সে আগের বাড়িতেও ঠিক এইভাবেই দিন কাটিয়েছে । তাই হয়তো তার হেলুসিনেসনই হয়েছিলো রাতে। তার এলাকাটা দেখতে বেশ সুন্দর। পিটার একবার গাছের দিকে তাকায় একবার আকাশে দলবদ্ধ পাখির দিকে তাকায়। কত সুখি ওরা, কত সুন্দর! এরপর হাঁটতে হাঁটতে একবার তার বাড়ির পাশের সেই গোরস্হানের দিকে গেলো সে। গোরস্হানটা রাতে যতটা অপবিত্র আর ভয়ংকর লাগছিলো, দিনে তার চেয়েও পবিত্র আর সুন্দর লাগছে! গত কয়েক মাসে এই পৃথিবীতে, এই দেশে, এই শহরে কী কী ঘটনা ঘটে গেছে এর কিছুই জানা নেই পিটারের। পিটার ঘরে থাকা আর বই পড়ার নেশায় প্রায় পাগল হয়ে পৃথিবী সম্পর্কে পুরো উদাসীন ছিলো এই কয় মাস! পিটার ভাবলো, তার বাড়িতে বেশ কয়েক মাসের পুরোনো পেপার রয়েছে। এইগুলো একটু ঘাটাঘাটি করলে সময়ও কাটবে আর অনেক কিছু জানাও যাবে বর্তমান দুনিয়া সম্পর্কে।বাড়িতে এসে বেশ কয়েকটা পেপার পড়েই পিটার বেশ চমকে গেল! পিটার পেপারগুলোতে গত কয়েক মাসের মধ্যে ১৭ জন মানুষকে অদ্ভুতভাবে খুনের সব খবরগুলো অনেক কৌতুহলতা নিয়ে দেখতে থাকে। সে দেখে ১৭ জন মানুষকেই রক্ত চুষে খুন করা হয়েছে! সবার ঘাড়ের পাশেই দুটো করে চিকন দাতের ছিদ্র দেখা যাচ্ছে! এটা আর কিসের কাজ হতে পারে? সবাই এতো বোকা হলো কিভাবে? এটাতে নিঃস্বন্দেহে একটা ভ্যাম্পায়ারের কাজ। ভ্যাম্পায়ার ছাড়া আর কেউই এইভাবে খুন করতে পারে না। তার মানে ভ্যাম্পায়াররা তার কল্পনা বা হেলুসিনেসন নয়! এরা কঠিন বাস্তবতা। গত ২ রাতে তার বাড়ির পাশের গোরস্হানের লাশদের আবার জেগে উঠাও তার কল্পনা বা হেলুসিনেসন নয়! এই সাদা বাদুড়গুলোই তাহলে ভ্যাম্পায়ার। এরাই শহরের সবগুলো খুন করেছে! ডাক্তার জন আর্ট এর ধারণা ভুল। সে সম্পুর্ণ সুস্হ্য! পিটার খবরটা পড়ে পুরোই উত্তেজিত হয়ে পড়ে! সে পেপারে গোয়েন্দা অফিসার ইকবাল খানের ঠিকানা পায়। এরপর সিদ্ধান্ত নেয় যে, সে ইকবাল খানের সাথে এখনই দেখা করবে! সে ইকবাল খানকে পুরো ঘটনাটা খুলে বললেই হয়তো সে তার কথাটা বিশ্বাস করবে এবং এই রহস্যের একটা সমাধান করতে পারবে! এই গোরস্হানটার কথা তাকে জানাতেই হবে!
.
বিকাল প্রায় ৫টা বাজে: পিটার ইকবাল খানের অফিসের সামনে পৌছালো। যেই সে অফিসে ঢুকতে যাবে ঠিক সেই সময়েই একটা মাঝবয়সী ভদ্র লোকের সাথে মুখোমুখি ধাক্কা খেলো সে। ধাক্কা খেয়ে দুজনেই মেঝেতে ছিটকে পড়ে গেলো। মাঝবয়সী লোকটা কিছুটা চিকন, একটু লম্বা, অগুছালো চুল মাথায়, গায়ের রং শ্যামলা! লোকটা ধাক্কা খাওয়ার পর লোকটার চোখ থেকে চশমাটা কিছুটা দুরে গিয়ে পড়ে ভেঙে গিয়েছিলো। পিটার লোকটাকে, দুঃখিত বললো। লোকটাও বুঝতে পারলো দোষ কারোই ছিলো না। তাই লোকটা, ব্যাপার না, কথাটা বলে চলে গেল!
.
গোয়েন্দা অফিসার ইকবাল খানের সামনে বসে আছে পিটার। ইকবাল খান বেশ ভালোভাবে পিটারকে দেখার চেষ্টা করছেন। এরপরেই তিনি পিটারকে প্রশ্ন করেন:
-কী এমন গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিতে এখানে এসেছো তুমি?
-স্যার! শহরে এই পর্যন্ত ঘটে যাওয়া ১৭টা খুন সম্পর্কে আমি হয়তো কিছু জানি। আমি হয়তো আপনাকে বলতে পারবো যে, এই খুনগুলো কারা করছে এবং কেন!!
-কী?! তুমি এ সম্পর্কে কী করে জানো? যা জানো তা আমায় বলো?
.
এরপর পিটার ইকবাল খানকে ভ্যাম্পায়ারের পুরো ঘটনাটা খুলে বললো। আরো বলে গত ২ রাতে তার চোখে দেখা গোরস্হানের সেই অদ্ভুত ভয়ংকর ঘটনার কথা। ইকবাল খান তার কথা শুনে প্রথমে কিছুটা চমকালেন। এরপর বেশ রেগে পিটারকে বললেন:
-তুমি কী পাগল হয়ে গেছো? এইসব বাচ্চাদের গল্প আমায় শুনাচ্ছো? এমনিতেই আমি প্রচুর চাপে রয়েছি, এই সময় তোমার এইরকম মজা করাটা ঠিক না! তুমি এখনো একটা বাচ্চা ছেলে। তোমার কথা শুনে মনে হচ্ছে তুমি মানসিক ভাবে অসুস্হ। তোমার ডাক্তারের কাছে যাওয়া দরকার। শুধু শুধু আমার মূল্যবান সময় নষ্ট করলে তুমি! এখন বাড়িতে চলে যাও! ভ্যাম্পায়ার রূপকথায় হয়! বাস্তবে এর কোন অস্তিত্ব নেই!
.
এরপরেও পিটার অনেক ভাবে ইকবাল খানকে বোঝানোর চেষ্টা করে যে, তার বলা কথাগুলো সব বাস্তব। এগুলো কোন গল্প না! ভ্যাম্পায়ার রা রয়েছে! কিন্তু ইকবাল খান কিছুতেই তার কোন কথা বিশ্বাস করলেন না এবং তাকে তার অফিস থেকে বের করে দিলেন!
.
এরপর পিটার বেশ মন খারাপ করেই আবার তার বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা দিলো।
.
.
১০. ডাক্তার জন আর্ট তার চেম্বারে বসে আছেন। আজ চেম্বারে খুব একটা রোগি আসছে না। অবসরেই সময় কাটছে তার! হঠাৎ তার পিটারের কথা খুব মনে পড়লো। ছেলেটা ৩ দিন আগে একবার এসেছিলো। এরপরে আর কোন খোঁজ নিলো না। ছেলেটা জটিল হেলুসিনেসনে ভুগছিলো। এত সহজেতো তার হেলুসিনেসন থেকে মুক্তি পাওয়ার কথা না। তাহলে সে আবার এখানে আসছে না কেন? তাহলে কী ছেলেটা তার বলা কথাগুলো সেদিন বিশ্বাস করেনি? পিটারের বাড়ির ঠিকানা ছিলো ডাক্তার জন আর্টের কাছে। তাই সে ভাবলো একবার পিটারের সাথে দেখা করে আসলে মন্দ হয় না। ছেলেটা বয়সে অনেক ছোট। এত কম বয়সে এতটা মানসিক চাপ সহ্য করতে বেশ কষ্ট হবে তার।
.
প্রায় বিকাল করেই ডাক্তার জন পিটারদের বাড়ির সামনে গিয়ে পৌছালেন। পৌছে ৭ তলায় উঠে পিটারদের ফ্লাটের সামনে গিয়ে কলিং বেলটা বাজালেন! সাথে সাথেই একটা মাঝবয়সী মহিলা দরজাটা খুললেন। এরপর জনকে তিনি প্রশ্ন করলেন:
-কাকে চাই?
-আমি পিটারের সাথে দেখা করতে এসেছি! পিটার কি বাড়িতে আছে? (জন আর্ট)
-আমি পিটারের মা। পিটারতো ২ দিন আগে মারা গেছে!
-কী? মানে কী এর? কিভাবে মারা গেল সে? (বেশ আৎকে)
-রক্তশুন্যতায় ভুগে মারা গেছে সে।
-কী? সে তো কয়েকদিন আগেই আমার সাথে দেখা করেছে! এতটা দ্রুত কেউ রক্তশুন্যতায় কী করে মারা
যেতে পারে?
-আমরা এ বিষয়ে কোন কথা বলতে চাই না। আপনি আসতে পারেন!
.
.
ডাক্তার জন আর্ট মহিলার কথাটা শুনে পুরেই আৎকে উঠেছিলেন। তিনি বিশ্বাস করতে পারছিলেন না, যে পিটার আর বেঁচে নেই! মহিলাটার কথাটা যেনো তার কিছুতেই বিশ্বাস হচ্ছিলো না। কিছুক্ষণ পর মহিলাটির পেছনে একজন মাঝবয়সী পুরুষও এসে দাঁড়ালেন। জন ভাবলেন, লোকটা হয়তো পিটারের বাবা। এরপর তারা দরজাটা বন্ধ করে দিলো। ডাক্তার জন তাদের চেহারা দেখে বেশ অবাক হয়! দুজনের চেহারাই সাদা এবং বেশ ফেকাসে ছিলো। দেখে যেনো মনে হয় রক্তশুন্যতায় ভুগছে!
. . . . . . চলবে . . . . . .
