রক্তচোষা ভ্যাম্পায়ার
২য় পর্ব
.
বিকাল ৪টা বাজে। মাসুদ রানা সাহেব তার ঘরে বসে বসে টিভিতে শহরের ১৬তম পৈশাচিক খুনের রিপোর্টটা দেখছিলেন। হঠাৎই তার ঘরের কলিং বেলটা বেজে উঠলো। মাসুদ রানা সাহেব দ্রুত গিয়ে দরজাটা খুললেন। দরজা খুলতেই দেখলেন যে শহরের একজন বড় গোয়েন্দা বিভাগের সিনিয়র অফিসার ইকবাল খান তার সাথে দেখা করতে এসেছেন। মাসুদ সাহেব তাকে ঘরে নিয়ে এসে বসতে বললেন। এরপর মাসুদ সাহেব ফ্লাক্স থেকে এক কাপ চা নিয়ে ইকবাল সাহেবকে দিলেন। এরপর একটা সিগারেট ধরাতে ধরাতে ইকবাল সাহেবকে প্রশ্ন করলেন:
-কী ব্যাপার ইকবাল সাহেব? অনেকদিন পর আসলেন! নতুন কোন সমস্যা?
-আপনিতো সবই জানেন। শহরে ঐ ভয়ংকর খুনি এই পর্যন্ত ১৬ জনকে খুন করে ফেলেছে। এই কেসটা নিয়ে আমাদের উপর অনেক চাপ। এবার চাকরি থাকলে হয়! (ইকবাল সাহেব)
- আমার জানামতে আপনাদের গোয়েন্দা বিভাগেতো অনেক বুদ্ধিমান গোয়েন্দা অফিসার রয়েছেন। তাদেরতো এতদিনে এই কেসটা সলভ করে ফেলার কথা ছিলো!
তাহলেতো আর এতগুলো খুন হতো না।
-এটাইতো সবচেয়ে বড় সমস্যা মাসুদ সাহেব! এই নিয়ে ৫ জন সিনিয়র এবং বুদ্ধিমান গোয়েন্দা অফিসারদের এই কেসের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। কিন্তু দুঃখজনক ভাবে তারা কেউ আর বেঁচে নেই।
-ঠিক বুঝলাম না কথাটা! বেঁচে নেই মানে? এইরকম কোন খুনের কথাতো টিভিতে শুনলাম না। টিভিতে শুধু প্রচার করা হচ্ছে সাধারণ ১৬ জনের খুনের কথা!
-হ্যাঁ। আসলে সেই গোয়েন্দা অফিসারদের মৃত্যুর খবরগুলো আমরা চাপা রাখছি। জানাজানি হলে আরো বেশি সমস্যা। আমাদের উপর চাপ আরো বেড়ে যাবে। যদিও সেই গোয়েন্দা অফিসারগুলো কিন্তু খুন হয়নি। তারা নিজে নিজেই মারা গেছে।
-নিজে নিজে মারা গেছে মানে?
-অর্থাৎ তারা এই কেসটা নেওয়ার পর পরেই হঠাৎ করে একটা মানসিক রোগে আক্রান্ত হয়ে পড়েন। এরপর সেটা বদলায় শারীরিক রোগে। তাদের চেহারা ধীরে ধীরে ফেকাসে সাদা রঙের হয়ে যায়। তাদের শরীরের রক্ত ধীরে ধীরে শুকিয়ে যায় এবং এরপর এরা প্রত্যেকেই রক্তশুণ্যতায় ভুগে মারা যায়। এইভাবেই গোয়েন্দা অফিসার গুলো মারা গেছেন। কিন্তু হঠাৎ তাদের শরীরের রক্ত যে কোথায় উধাও হয়ে যায় এটা কেউই ধরতে পারে না। ডাক্তারও না! এই সমস্যার কারণে আর কোন গোয়েন্দা অফিসার এই কেসটা নিচ্ছে না।
তাই এই গোয়েন্দা অফিসারদের মৃত্যুর কথাটা সবার থেকে লুকিয়ে রাখি আমরা!
-আসলে সমস্যাটা হয়তো গোয়েন্দা অফিসারদের দিয়ে নয়। সমস্যাটা হলো যে যে এই কেসটা নিয়ে লড়বে তারা সবাই এইরকম সমস্যার সম্মুখীন হবে। আমার যতটুকু মনে হয় যে, আপনি এই কেসটার দায়িত্ব যাদের যাদের দিয়েছেন তারা সবাই খুনি পর্যন্ত পৌছাতে পেরেছিলো। কিন্তু এরপরেই সেই পিশাচ খুনি এদের সাথে এমন কিছু করেন যে এরপর থেকে এরা শারীরিক এবং মানসিক ভাবে অসুস্হ্য হতে বাধ্য হয়।
-হয়তো।
-কিন্তু যে সকল ফরেনসিক ডাক্তাররা এই সকল খুনের ভিকটিমদের ময়ণা তদন্ত করার পর উধাও হয়ে গেলো? এদের কোন খবর পেয়েছেন কি? এদের রহস্যটা আবার কী?
-এটাতো আরো বড় রহস্য মাসুদ সাহেব! সেই ১০ জন ফরেনসিক রিপোর্টারও মারা গেছে!
-কী? মানে কী এর?
( কিছুটা উত্তেজিত হয়ে)
-সেই সকল ফরেনসিক ডাক্তারদের নিখোজের পরের দিনই আমরা তাদের রক্তশুন্য লাশগুলো খুঁজে পাই। কিন্তু আমরা তাদের লাশের কথা কাউকে না জানিয়েই শহরের একটা খ্রিষ্ট্রান গোরস্হানে কফিনে করে তাঁদের কবর দিয়ে দেই। তাদের পরিবারের লোকদেরো আমরা এই কথা জানাই না। সবার মাঝে এতগুলো খুনের কথা জানাজানি হলে আমাদের চাপ আরো বেশি বেড়ে যাবে।
-ওহ মাই গড ইকবাল সাহেব! আপনারাতো চাপের ভয়ে এই কেসের প্রায় ৯০ ভাগ অংশই সাধারণ মানুষের থেকে লুকিয়ে গেছেন। এটা আপনাদের একটা বড় ভুল সিদ্ধান্ত ছিলো। সবগুলো খুনের কথা সাধারণ মানুষ জানতে পারলে আপনাদের চাপ উল্টো আরো কমতে পারতো। সবাই তাহলে ভালো করেই এই পিশাচ খুনি সম্পর্কে জানতে পারতো!! হয়তো তাহলে আরো অনেকেই এই খুনগুলো নিয়ে আরো বেশি গবেষণা করতো। আর এই খুনির থেকেও সবাই সতর্ক থাকতো এবং রহস্যের দ্রুত অবসান ঘটতে পারতো। আচ্ছা ইকবাল সাহেব, গল্প কী শেষ ? নাকি এই কেসের আরো কোন গোপন রহস্য রয়েছে? যেটা এখনো মানুষের সামনে আসেনি?
-ইয়ে মানে! আরেকটা জটিল রহস্য রয়েছে! এই গত এক মাসের মধ্যে এই শহরের প্রায় ৪০০ জনের উপর মানুষ রক্তশুন্যতায় ভুগে মারা গিয়েছেন! আমাদের গোয়েন্দা অফিসারদের মত ঠিক একই ভাবে , একই পরিস্থিতিতে পড়ে তারাও মারা যায়। তারা সবাই প্রথমে হঠাৎ করেই একটা মানসিক রোগে আক্রান্ত হন। এরপর রোগটা রুপ নেয় শারীরিক রোগে। রোগটা সৃষ্টি হওয়ার সাথে সাথেই মানুষের রক্তশুন্যতা দেখা দেয় এবং এক পর্যায়ে ফেকাসে চেহারা নিয়ে তারা মারা যায়। আমাদের এক গোয়েন্দা কর্মকর্তার পরিসংখ্যান মতে শহরে এই রোগের মাধ্যমে মৃতের সংখ্যা প্রায় ৪০০ জনেরো বেশি।
-ওহ মাই গড! তাহলেতো এটা একটা মহামারী রোগ। এতজন মানুষ মারা যাচ্ছে তাও এই নিয়ে কোন সংবাদ রিপোর্ট কেন তৈরি হচ্ছে না? মানুষকে সচেতন কেন করা হচ্ছে না?
-আমার মনে হয় এটা কয়েকদিন পর এমনিতেই লোকজনেরা জানতে পারবে। তখন আমাদের চাপ আরো বেড়ে যাবে। তাই এটা আমরা কাওকে জানাচ্ছি না!
-ধুর! এসব আবার কেমন কথা? আপনারা শুধু আছেন চাপের ভয়ে! দেশে একের পর এক ঘটা অদ্ভুত ঘটনার কথা আপনারা গুম করে দিচ্ছেন। এই ভাবে চললেতো প্রাণ যাবে আর হাজারো মানুষের! আর আপনারা এইসব ঘটনা যদি সাধারণ মানুষের কাছে তুলে ধরতে পারেন তাহলেতো উল্টো আপনাদের চাপ অনেক কমবে!
-হ্যাঁ। কিন্তু চাপটা বাড়তেও পারে। সবাই যদি জানে যে ১৬ জন মানুষের সাথে ১০ জন ফরেনসিক ডাক্তার ও কিছু গোয়েন্দা অফিসারো মারা গেছে, তাহলে এলাহি কান্ড বেঁধে যাবে। এইসব তথ্য আপনাকে গোপন রাখতে হবে মাসুদ সাহেব।
নাহলে আমাদের চাকরি চলে যাবে।
-হ্যাঁ। কিন্তু আপনারা একটু বেশিই তথ্য লুকাচ্ছেন মানুষদের থেকে। তবে আমার মনে হচ্ছে, শহরে কোন নতুন মহামারী রোগ দেখা দিয়েছে। এই রোগের কারণেই আপনার গোয়েন্দা অফিসার সহ শহরে প্রায় ৪০০ এর বেশি মানুষ মহামারীতে আক্রান্ত হয়ে রক্তশুন্যতায় পড়ে মারা গেছে। যদিও এত দ্রুত রক্ত শুন্যতায় কারো মারা যাওয়ার ঘটনা আমি এর আগে কখনোই শুনিনি। হয়তো আরো অনেকেই এই রোগে সামনেও মারা যাবে। কিন্তু এই রোগে হঠাৎ মানুষের মারা যাওয়ার সাথে যে সেই ১৬টা খুনের কোন মিল থাকতে পারে। এটা আপনি জানলেন কী করে?
-এই বিষয়ে আমি নিশ্চিত নই। তবে সন্দেহ করছি। তাইতো আপনার কাছে আসা। আমি চাই আপনিই এই রহস্যের কোন একটা সমাধান করুন!
-হুম। সেটা দেখা যাবে। কিন্তু যতটুকু রহস্য আপনারা জানতে পেরেছেন এটা সাধারণ মানুষকে জানানোটা হয়তো জরুরী। তাহলে তারা বেশ সতর্ক থাকতে পারতো।
-এই বিষয়টা নিয়ে আপনার না ভাবলেও চলবে মিস্টার। আপনি শুধু এই রহস্যের পেছনে ছুটুন। সূর্য ডুবলো বলে। আমার এখন উঠা উচিত!
আসা করবো আপনি শীঘ্রই কাজ শুরু করবেন!
.
.
এতটুকু কথা বলেই গোয়েন্দা অফিসার ইকবাল সাহেব, মাসুদ সাহেবকে বিদায় দিয়ে বসা থেকে উঠলেন। তারা দুজনে হাঁটতে হাঁটতে ঘরের দরজা পর্যন্ত যাওয়ার পর হঠাৎ মাসুদ রানা সাহেব ইকবাল সাহেবকে প্রশ্ন করলেন:
-আচ্ছা ইকবাল সাহেব, আপনি কী ভ্যাম্পায়ারে বিশ্বাস করেন?
.
ইকবাল সাহেব কিছুটা মৃদু হেসে উত্তর দিলেন:
-ছোটবেলায় গল্পের বইয়ে পড়েছিলাম, এরা রক্ত চুষে খায়। এখনতো বাচ্চা ছেলে-মেয়েরাও এদের কথা শুনে হেসে উড়িয়ে দেয়। আর আমার এইসব কুসংস্কারে বিশ্বাসের কোন প্রশ্নই উঠে না!
.
.
এরপর ইকবাল সাহেব চলে গেলেন। মাসুদ সাহেব ঘরে বসে বসে ইকবাল সাহেবের বলা কথাগুলো স্মরণ করছিলেন আর এর পেছনের রহস্যটা উদঘাঁটন করার চেষ্টা করছিলেন। পাশাপাশি ভাবছিলেন, "ভ্যাম্পায়ার কী আসলেই হয়?"
.
.
৫. রাত প্রায় ১২টা বাজে। জেমস পিটার তার ঘরে একা ঘুমিয়ে রয়েছে। হঠাৎ ঘরের জানালায় কারো জোরে জোরে ধাক্কার আওয়াজে ঘুম ভেঙে যায় তার । পিটার বেশ আৎকেই ঘুম থেকে উঠে! তখনো সে দেখে তার ঘরের জানালা শব্দ করে কাঁপছে। মনে হচ্ছে জানালার ওপাশ থেকে কেউ ভেতরে আসার জন্য জানালা ধাক্কাচ্ছে! পিটার অনেক ভয় পেয়ে যায়। সে এই বাড়িতে তার পরিবারের সাথে এসেছে মাত্র ৩ দিন হলো। কিন্তু এতরাত্রেতো এই জানালার বাহিরে কারো থাকারও কথা না। কারণ পিটারদের ফ্লাটটা ৭ তলায়। কেউ বিপদে পড়ে ৭তলা উপরের একটা বাড়ির জানালায় এসে ধাক্কাবে এটা কল্পনাও করা যায় না। কিন্তু জানালার কম্পন দেখে মনে হচ্ছে কেউ জানালা ধরে ধাক্কাচ্ছে। পিটার বেশ ভয়ে ভয়ে জানালাটার দিকে এগিয়ে যায়। সে যেনো দেখেই ছাড়বে যে, কে জানালা ধাক্কাচ্ছে? আবার ভাবলো, নাকি এই শব্দটা বাতাসের ফলে হচ্ছে! এরপর পিটার হুট করেই জানালাটা খুলে ফেললো । সাথে সাথেই জানালা দিয়ে বেশ কিছু ধুলা-বালি ঢুকলো তার ঘরে। পিটার বুঝতে পারলো যে বাহিরে প্রচুর বাতাস হচ্ছে। এই বাতাসই এসে এতক্ষণ জানালায় আঘাত করে এই রকম কম্পন সৃষ্টি করছিলো। সে যেনো হাফঁ ছেড়ে বাঁচলো! সে ভাবছিলো জানালা খুলে যদি সে অস্বাভাবিক কিছু দেখতো তাহলেতো সে হার্ট এটাক করেই মারা যেতো! এরপর কিছুটা সস্তি নিয়ে পিটার যেই জানালা টা বন্ধ করতে যাবে , হঠাৎ তার চোখ গেলো তার বাড়ি থেকে একটু দুরের একটা গোরস্হানের উপর। তার জানামতে এখানে শহরের খ্রিষ্টানদের কবর দেওয়া হয়। কিন্তু এতরাতে গোরস্হানের চেহারা দেখতে মোটেও স্বাভাবিক ছিলো না। পিটার দুর থেকেই ঝাপসা ভাবে দেখলো একজন বেশ চিকন, লম্বা লোক একটা অদ্ভুত রকমে আলখেল্লা পরে গোরস্হানের সামনে দাঁড়িয়ে রয়েছে। লোকটাকে দেখেই বোঝা যাচ্ছিলো, বেশ ভয়ংকর একটা লোক। নাহলে এতরাতে একা গোরস্থানে কী করবে?! লোকটা গোরস্হানের সামনে দাঁড়িয়ে দুহাত উচু করে চিৎকার করে কী যেনো বলছিলো গোরস্হানবাসীদের। লোকটার কন্ঠ অস্পষ্ট এত দুর থেকে! পিটার দেখলো, লোকটা হাটু গেড়ে বসে চিৎকার করে আবার কী যেনো বলছিলো গোরস্হানবাসীকে। লোকটার আশেপাশে কোন মানুষ দেখা যাচ্ছে না। লোকটা গোরস্হানের সামনে একা একাই চিৎকার করে কথা বলছিলো। পিটার একবার ভাবলো, লোকটা কী পাগল নাকি? পরক্ষনেই পিটার যা দেখলো, তা দেখে সে পুরোই আৎকে উঠলো! সেই অদ্ভুত আলখেল্লা পরা লোকটা হাটু গেড়ে মাটিতে বসে আকাশের দিকে তাকিয়ে বিকট কণ্ঠে চিৎকার করলো। এরপরেই সাথে সাথে কোথা থেকে যেনো অনেক কুয়াশা এসে লোকটাকে ঢেকে দিলো। চোখের পলকে অবিশ্বাস্য ভাবে লোকটা একটা ভয়ংকর সাদা বাঁদুড়ের রুপ নিল। এরপর বিশাল ডানা ঝাপটাতে ঝাপটাতে আকাশে উড়ে গেলো। পিটার যেনো তার চোখকে বিশ্বাস করতে পারছে না! এটা কী করে সম্ভব? ভয়ে তার মাথার পেছনের চুল খাড়া হয়ে গেলো। এতটা ভয় পাওয়ার পরেও পিটার জানালা থেকে বিন্দুমাত্রও নড়লো না। শুধু অপলক দৃষ্টিতে সেই গোরস্হানের দিকে তাকিয়ে রইলো। যেনো সে আরো কিছু রহস্য দেখার অপেক্ষায় রইলো। এরপর পিটার সেই গোরস্হানের যে দৃশ্যটা দেখলো, তা দেখার পর পিটারের রক্ত জমে প্রায় বরফ হয়ে গেলো। সে দেখলো, শুধুমাত্র গোরস্হানে প্রচুর বাতাস বইতে লাগলো। এতজোরেই বাতাস বইছিলো যে বেশ কয়েকটা কবরের মাটি সব উড়ে গিয়ে কবরের ভেতরের কফিনগুলো দেখা যাচ্ছিলো। এরপর হঠাৎ যেনো গোরস্হানটা কাপা শুরু করলো। পরক্ষণেই বেশ কিছু বিকট চিৎকারের শব্দ বেশে এলো পিটারের কানে। তার মনে হচ্ছিলো, শব্দগুলো যেনো কফিনের ভেতর থেকে আসছে! এরপর হঠাৎ করেই কফিনের পেরেকগুলো নিজে নিজেই খুলতে থাকে। কবরের উপর থেকে মাটি সড়ে যাওয়া সবগুলো কফিনের দরজা আপনা-আপনিই খুলে গেল! সাথে সাথেই কফিনগুলোর ভেতরে দেখা গেলো, বেশ কিছু ভয়ংকর লাশের মুখ!
কফিনগুলো দেখে মনে হচ্ছিলো কবরগুলো বেশ পুরাতন। তবে লাশগুলো দেখে মনে হচ্ছে কিছুক্ষণ আগে এদের কবরে শুইয়ে দেওয়া হয়েছে! লাশ গুলো যেনো জীবন্ত! বেশ অদ্ভুত লাগছিলো ঘটনাটা পিটারের কাছে! এরপর পিটার দেখলো, সেই লাশগুলো চোখ মেলে তাকিয়েছে উপরের দিকে! কী ভয়ংকর লাল চোখ তাদের! এরপর ধীরে ধীরে লাশগুলোর চেহারা ফেকাসে সাদা হয়ে যাচ্ছে, তাদের ঠোঁট ছিদ্র হয়ে ভয়ংকর দুটো সুচালো দাত বেরিয়ে আসছে! সেই লাশগুলো যেনো আবার তাদের জীবন ফিরে পেল। তারা ধীরে ধীরে কফিন ছেড়ে কবরের উপরে উঠে আসতে লাগলো। এরপর প্রায় ১৩-১৪ টা লাশ একত্রে আকাশের দিকে তাকিয়ে হাত তুলে কিছু একটা চিৎকার করে বলছিলো। এরপরে সেই গোরস্হানে আবার প্রচুর বাতাস বইতে লাগলো। লাশশুন্য সেই কফিনগুলো আবার লেগে গেলো। সাথে সাথেই আবার মাটি উড়ে এসে সেই কফিনগুলোকে ঢেকে দিলো। গোরস্হান দেখতে যেনো আবার স্বাভাবিক হয়ে গেলো।
তবে তখনো গোরস্হানের সামনে সেই ১৩-১৪ জন জীবন্ত লাশগুলো ভয়ংকরভাবে সাড়িবদ্ধ হয়ে দাড়িয়ে ছিলো! এরপর তারা সবাই একত্রে মাটিতে হাটু গেড়ে বসে দুহাত উপরের দিকে তুলে বিকট একটা চিৎকার করলো। কি ভয়ংকর সেই চিৎকার!! সাথে সাথেই চারিদিক থেকে অস্বাভাবিক কুয়াশা এসে তাদের ঢেকে দিলো। এরপর চোখের পলকে তারাও ভয়ংকর বড় সাদা বাদুড়ে রুপ নিল। কী ভয়ংকর তাদের চেহারা! ভয়ে পিটারের পুরো শরীর কাপতে লাগলো। এরপর সেই সাদা বাদুঁড়গুলো উড়ে আকাশে মিশে গেলো। তবে একটা বাদুড়ের চোখ যেনো এসে পড়লো পিটারের চোখে। বাদুড়টা দ্রুত ছুটে পিটারের দিকে এগিয়ে আসতে লাগলো। প্রচন্ড ভয়ে পিটার সাথে সাথেই জানালাটা বন্ধ করে দিলো। পিটার কিছুই বুঝতে পারছিলো না! সে এসব কী দেখলো এতক্ষণ? এগুলো কী বাস্তব নাকি তার হেলুনিনেশন হয়েছে। না! এগুলো সে বাস্তবেই দেখেছে! কিন্তু এটা কী করে সম্ভব?!
.
পিটার বুঝতে পারলো তার শরীরের সব কাপড় ঘামে ভিজে গেছে! ভয়ে তার শরীর পুরোটা ঘেমে গেছে! সে যে কখন এতটা ভয় পেল সে এখন মনেই করতে পারছে না! এরপর সে, রাতেই আবার গোসল করে জামা পাল্টে বিছানায় শুয়ে পড়লো। ভয়ে তখনো তার শরীর কাপছে! সে শুধু ভাবছে, "এটা কী বাস্তব ছিলো নাকি হেলুনিনেশন?" ..................
. . . . . . . চলবে . . . . . . . .
