সেরিব্রাল বিবর্তন
Sheikh Tawsif Samin
*
২০২৫ সালের এক সুন্দর সকাল।ব্রাজিলের রিও ডে জেনেরিও।গোপন আন্ডারগ্রাউন্ড কনভেনশন হলে চলছে সব স্তরের চিকিৎসক আর বায়োলজিস্ট দের মিটিং।বিষয় বস্তু হলো গতো দশ বছরে যুক্তরাষ্ট্রের চিকিৎসা খাতে অস্বাভাবিক মন্দা দেখা দিয়েছে।তাঁদের তৈরিকৃত ঔষুধের মূল্য বিশ্ববাজারে অনেক কমে গিয়েছে।জাপান আর রাশিয়া মিলে এইডস এর প্রতিষেধক সহ নানান মহামারী রোগের স্বল্প মূল্যে সার্বজনীন চিকিৎসাসেবা দিচ্ছে।সেই হারে বিশ্ব এখন আর আমেরিকার উপর নির্ভর করে না।এই সমস্যার সমাধান কেউই দিতে পারেন নি।দশ সদস্যের এক গবেষণা দল তৈরি হলো এ অবস্থা থেকে নিরসন লাভের জন্য।
ডাক্তার এবং বায়োকেমিস্ট এশফার্ড রাসেল সেই দশ জনের মধ্যে প্রবীণ এবং অভিজ্ঞ বিজ্ঞানী।যেকোনো সমস্যাতেই তাকে প্রথম সারির বিজ্ঞানী হিসেবে ডাকা হয়।
অনেক গবেষণার পর সিদ্ধান্ত হলো যে,এমেরিকা পৃথিবীর সব দেশ থেকে একজন করে ভলেন্টিয়ার এনে তৈরিকৃত একটা ভাইরাস যার নাম হবে জিনোম-X25 তাঁদের উপর প্রয়োগ করবে।অতঃপর তাঁদেরই তৈরি ভ্যাক্সিন ভিক্টিমদের দেহে প্রবেশ করানো হবে।এখন যে দেশের মানুষ তুলনামূলক ভাবে দেরিতে নিরোগ হবে তাঁদের দেশে ভাইরাস টা মহামারী আকারে ছড়িয়ে দেয়া হবে,মানুষ মরবে।পৃথিবীর কোনো দেশের কাছে এর প্রতিষেধক থাকবে না এমেরিকা ছাড়া।এবং এভাবে তাঁরা বিজনেসের লাল বাতি সবুজ করবে।কী ভয়ংকর সিদ্ধান্ত! সবচেয়ে বড় কথা বিজ্ঞানী এশফার্ডকে এই পুরো প্রজেক্ট পরিচালনা করতে হবে।বৃদ্ধ বিজ্ঞানীর মনটা খুব খারাপ হয়ে গেলো কথাটা শুনে।এতো অমানবিক কাজের তদারকি কীভাবে করবেন তিনি?তাকে বাধ্য করা হবে স্বেচ্ছায় না করলে।ব্রেইন ওয়াশের জন্য এক ডোজ ক্রিস্টাল মেথই যথেষ্ট।একমাত্র ছেলে হার্ভার্ডে পড়ে,সেজন্যই তিনি অবসর নেননি,নতুবা অনেক আগেই এসব কাজ অনেক আগেই ছেড়ে দিতেন।অবশ্য ছেলে যদি জানত কখনোই এসব করতে দিত না।এটাই কি বিজ্ঞান?
*
১৯৩ জন ভলেন্টিয়ার আনা হলো।সবাই বিভিন্ন দেশের নাগরিক।সি আই এ এবং সেনাবাহিনী তত্ত্বাধীন এশফার্ড নিজের হাতে ভাইরাসটা সবার মধ্যে ইঞ্জেক্ট করে দিলেন।তাঁর মায়া হচ্ছিলো কারণ যাদের কে ধরে আনা হয়েছে তাঁদের সবার বয়স ১৬-২৪ এর মধ্যে।কিন্তু এটাই সমস্যা,বিজ্ঞানে ভালোবাসা বলে কিছু নেই।যা দৃশ্যমান বা অদৃশ্যমান সবই নিয়ন্ত্রিত হয় হরমোন দ্বারা,কাজেই পক্ষপাতিত্বের জোর কারণ নেই।বাংলাদেশেরও ছিলো একজন।সে শাহজাহান আলী।শাহজাহানের অবশ্য কিছু আসে যায় না,সে এক টোকাই।জন্মগত ভাবে নয়,ক্লাস এইটে পড়াকালীন সময়ে মা বাবা মারা যায়।এরপর থেকেই টোকাই।সে ভুলে গিয়েছে এখানে কেন এসেছে,কিন্তু বুঝতে পারছে কিছু একটা ঘটবে।সে প্রাকৃতিক ভাবেই বাস্তববাদী। বরঞ্চ এরকম পরিবেশ দেখে ভয়ের বদলা তাঁর মধ্যে বিস্ময় জাগছে।যার কেউ নেই তাঁর আবার কিসের ভয়?বরঞ্চ জীবনের অভিজ্ঞতা হিসেবেই নিচ্ছে।তাঁদের কথা বলা নিষিদ্ধ।শুধুই তাঁরা বিজ্ঞানের গিনিপিগ হিসেবে থাকবে।বিজ্ঞান জিনিসটা শাহজাহান খুব ভালো করে এখনও বুঝেনি।
*
ইঞ্জেকশন দেয়ার প্রায় পনেরোদিন পরই শুরু হলো ভয়ংকর অবস্থা।রোগীগুলো কাটা মুরগির মতো ছটফট করতে লাগল,দেহটা যেনো কিছু ছিঁড়ে নিয়ে যাচ্ছে।ইনফেকশন সহ সবধরনের রোগ একসাথে দেখা দিতে লাগল।একেকজনের চিৎকার মাটির নিচটা পর্যন্ত কাঁপিয়ে দিচ্ছে।কিন্তু অদ্ভুত ব্যাপার এই যে বিজ্ঞানীদের কোনো মাথা ব্যাথা নেই!তাঁরা চিড়িয়াখানার পশুদের মতো ওদের গুতোচ্ছে আবার কখনো বা শক দিচ্ছে আর ফলাফল খাতায় লিখে নিচ্ছে।দুদিনেই মারা গেল প্রায় ৫০ জনের মতো।আরো দুদিন পর ভ্যাক্সিন দেয়া হবে।
সবাই মোটামোটি Cytomegal Infection এ আক্রান্ত।এই ইনফেকশন ক্যান্সারের দিকে লিড করে।ইতিমধ্যে মৃতের সংখ্যা প্রায় একশ ছাড়িয়ে গেছে।রোজই মানুষ ধরে আনা হচ্ছে আর যারা মরছে জ্বালিয়ে দেয়া হচ্ছে।যারা সার্ভাইভ করেছে তাঁদের মধ্যে শাহজাহান একজন।
*
ভ্যাক্সিন দেয়া শুরু হলো।জেনেসিস এন্টিভাইরাস।ইনফ
েকশনের জন্য খুব কার্যকরী।এটাই হবে ফাইনাল টেস্ট।যে সবচেয়ে দেরিতে সেরে উঠবে সে দেশে ভাইরাস ছড়িয়ে দেয়া হবে।এশফার্ড চিন্তা করছিলেন কীভাবে কম খরচে যাবতীয় ভ্যাক্সিন তৈরি করা যায়,গুণগত মান ইত্যাদি নিয়ে।হঠাৎ তাঁর দরজা ঠেলে প্রায় ঝড়ের গতিতে ভেতরে ঢুকলেন এক বিজ্ঞানী "Sir,you should see what's going with sample 88",তাঁর কথা বার্তা খুবই ভয়ংকর লাগছিল।এশফার্ড দৌড়ে গেলেন স্যাম্পল ৮৮ এর কেবিনে(বিজ্ঞানের কাছে এক্সপেরিমেন্ট এর জন্য সবই স্যাম্পল।মানুষ বা অন্যকিছু সব)৮৮ নং কেবিন ছিল শাহজাহানের।সেখানে গিয়ে দেখলেন শাহজাহানের অবস্থা খুব খারাপ।সহকারীর বর্ণনা মতে ভ্যাক্সিন প্রয়োগ করায় এখন পর্যন্ত কারো কোনো সমস্যা হয়নি কিন্তু শাহজাহান কে এক ডোজ দেয়ার সাথে সাথেই তাঁর প্রচন্ড খিঁচুনি শুরু হয় সাথে নাক দিয়ে রক্তপাত।ব্যাপারটা খুব রহস্যময়।কোনোমতে তাকে ঘুমের ইঞ্জেকশন দিয়ে ঘুম পাড়ানো হলো।এটা সাধারণ কোনো ঘটনা নয়।অবশেষে তাঁর রক্ত পরীক্ষার জন্য দেয়া হলো।সময় লাগবে রিপোর্ট আসতে।শাহজাহান এখন মোটামোটি ভালো কিন্তু উন্নতি হচ্ছে না।এশফার্ড খুব কৌতূহলী ছিলেন এ ঘটনা দেখার পর থেকেই।হঠাৎই একদিন তিনি গভীর রাতে শাহজাহানের কক্ষে প্রবেশ করলেন।
"তোরা যা করারা একসাথে কর,মেরে ফেললে এখুনি মার।ভালো লাগছে না আর এই কষ্ট।"খুব ঠান্ডা গলায় এশফার্ড কে কথাটা বলল সে যেন কিছুই হয়নি।
এশফার্ডঃ"Sorry I didn't get you what you said.Son I apologies for interrupting you midnight.I need to talk with you.Do you understand me?"
শাহজাহানঃ"Go ahead".
এশফার্ডঃWe are doing a project.It's for saving humanity. You guys are helping us,it's an experiment. We will return you back when it is done."(আমরা একটি মানবতামূলক প্রজেক্ট করছি এবং তোমরা এক্সপেরিমেন্ট এর মাধ্যমে আমাদের সাহায্য করছ।আমাদের কাজ শেষ হয়ে গেলে আবার ফিরিয়ে দেব।)
শাহজাহানঃFuck your humanity.Killing people gonna save human beings?huh?What kind of men you are?You are more moron than a beast.(ঘৃণা করি এই মানবতাকে।মানুষ মেরে তোমরা মানবতাকে বাঁচাবে তাই না?তোমরা পশু থেকেও মূর্খ)
কথাটা শুনে হাত পা ঠান্ডা হয়ে গেল এশফার্ডের।কোনো বন্দিই এখন পর্যন্ত কোনো কথা বলেনি আর এই ছেলে কিনা সব বুঝে এসব বলছে?তাঁর আগ্রহ আরোও বেড়ে গেল।
এশফার্ডঃPlease listen to me.I can help you,ok?You have to believe me.Can you tell me about your early life? like your family?
শাহজাহানঃI was a son of a business man.We were very rich.I used to study in an English medium school.When I was 13 my 6 uncles conspired and decided to knock out my family for our huge bank balance.One day night they came and burned my house.My parents were spot dead.I was seriously wounded. They took me to the hospital. But I understood that they would kill me after returning home.I was helpless.I escaped and after that I started work as a slave.Sometime day labourer."কথাগুলো বলেই শাহজাহান ডুকরে কেঁদে উঠল।এশফার্ড কথা শুনে স্তব্ধ হয়ে গেলেন।কিছু না বলে উঠে চলে যাচ্ছিলেন এমন সময় সে পেছন থেকে বলে উঠল,"Sir,please spare me.Let me live or kill me like my parents.I can't suffer this anymore"(স্যার দয়া করে আমায় অনুগ্রহ করুন।আমাকে বাঁচতে দিন বা মা বাবার মতো মেরে ফেলুন।আমি আর কষ্ট সহ্য করতে পারছিনা)।এশফার্ড আর পেছনে তাকানোর সাহস পাননি।এখন তাকালেই মায়া জন্মে যাবে।এজন্যই কেবিনে কারো প্রবেশ করা নিষেধ।চোখে ঝাপসা পানি নিয়ে বেরিয়ে যান তিনি।
*
রিপোর্ট আসল।এক যুগান্তকারী রিপোর্ট।এশফার্ড সহ যারাই এটা দেখলেন হাতে নিয়ে পাঁচবার পড়ার পর বিশ্বাস হলো।দেখা গেল ভ্যাক্সিন দেবার ফলে সেগুলো ভাইরাস তো ধ্বংস করছেই সাথে ডিএনএর সাথে সংশ্লেষিত হয়ে তৈরি করছে ভিন্ন ডিএনএ।মানে সাধারণত মানব ডিএনএ নতুন আর পুরাতন বন্ড মিলে অর্ধরক্ষণশীল পদ্ধতিতে সংশ্লেষিত হয়।কিন্তু এই ক্ষেত্রে ভ্যাক্সিন প্রয়োগের ফলে শাহজাহানের ডিএনএ কোনো এক অজানা কারণে এন্টি ভাইরাসের সাথে অনুলিপিত হয়ে নতুন ডিএনএ গঠন করছে।এতে শাহজাহান যদি সন্তান ধারণ করে তবে সেই বংশধর খুব উন্নত প্রজাতির ও শক্তিশালী হবে মানব প্রজাতির মধ্যে।
বিজ্ঞানীরা তৎক্ষণাৎ সিদ্ধান্ত নিলেন তাকে আর এই এক্সপেরিমেন্ট এ রাখা যাবেনা,আলাদা পদ্ধতি দরকার এই বিরল ঘটনার জন্য।কিন্তু এশফার্ডের একটুও মতামত ছিল না এই ব্যাপারে।খুব কষ্টে সই করেন সম্মতি কাগজে।
*
শাহজাহান কে আলাদা করে দেয়া হলো।পরীক্ষা নিরীক্ষা চলছে তাকে নিয়ে।এদিকে ভ্যাক্সিন প্রয়োগের শেষ ধাপ চলে আসছে।বিশ্বের ৩ টা দেশে প্রথমে এবং পরবর্তীতে অন্যান্যগুলোতে ছড়িয়ে দেয়া হবে মহামারী ভাইরাস টি।কঙ্গো,নাইজেরিয়া আর মরক্কো।যারা বেঁচে আছে তাঁদের ব্রেইন ওয়াশ করে নিজ নিজ দেশে ফিরিয়ে দেয়া হবে যাতে তাঁরা কিছু মনে না রাখে সেই ব্যবস্থা করে।শুধু উপর থেকে অর্ডার আসলেই কাজটি করা হবে।
এশফার্ডের প্রায় এক সপ্তাহ ধরে ঘুম হচ্ছে না।আর কয়েকদিন পর তাঁর তৈরি ভাইরাস গুলো দ্বারাই লক্ষ লক্ষ মানুষ মরবে।নিজেকে আর মানুষ হিসেবেই ভাবতে পারছেন না।শাহজাহানের কথা হঠাৎ মনে পড়ল।কাজের চাপে ভুলেই গিয়েছিলেন।তাকে এখন সর্বোচ্চ নিরাপত্তায় রাখা হয়েছে।একমাত্র এশফার্ড ছাড়া কেউ সেখানে অনুমতি না নিয়ে প্রবেশ করতে পারবেনা।যাওয়ার পর দেখলেন শাহজাহান খাতায় বসে কিছু একটা আঁকছে।
"What are you doing son?"
শাহজাহানঃ"Don't you see?If you have any business with me then make it quick."
শাহজাহানের কথা বার্তায় একটু অস্বস্তি লাগল এশফার্ডের।তবুও সাহস করে বললেন,
"Do you know what we've got from experiment? You are not an ordinary human being.You're unique and something else."
কথাটা শুনে শাহজাহান তেমন বিচলিত হলো বলে মনে হলো না।এশফার্ড আবারো বললেন,"You have extra ordinary genetic system.You're an evolution of human being.Instead of mutation you're DNA is making an evolution!We will keep you here for a few days.But you won't feel any trouble."(তোমার মধ্যে সাধারণের চেয়ে অতিরিক্ত কিছু পাওয়া গিয়েছে।তোমার জিন ক্ষয়ে যাওয়ার বদলা তৈরি করেছে এক বিবর্তন।তুমি মানবজাতির বিবর্তন।আমরা এখানে তোমাকে কিছুদিন রাখব তবে তোমার কোনো অসুবিধা হবেনা।)
শাহজাহান এবার মুখ খুলল,"What did you just say?Evolution of human being?You bitches are killing people for your own benefit and now making me an evolution here?What do you think?Truth won't be revealed?I don't care I die or live.But you are going to kill a millions of people.Is it humanitarian Mr.Scientist?"চ
োখ গুলো লাল হয়ে গেছে শাহজাহানের।
এক মুহূর্ত নীরবতা।এশফার্ডের গলা দিয়ে ঢোক নামছে না।এইটুকু ছেলে নিজের জীবনের কথা চিন্তা না করে মানবতার জন্য এতো মায়া হচ্ছে তাঁর?তিনি আজ ৬০ বছরের বৃদ্ধ ছেলেটির কাছে পশু।শাহজাহান আবার শুরু করল,"Science is for human,to comfort human life.Not for business.I think you have children.If anyone capture them and treat like a pig how you gonna feel then?Science never permits to do experiment with human being at least.You will see how the world dies because of you guys.Saking humanity won't forgive you."
এশফার্ডের মাথা ঘুরছে।এটা কী করতে যাচ্ছেন তিনি?বিজ্ঞান মানবতার হাতিয়ার আর এই বিজ্ঞান কে অপব্যবহার করে নিজেদের পকেট ভারী করবেন?এটা সব বর্বরতাকে হার মানায়।আজ তিনি একটা ছোটো ছেলের কাছে মানবতার প্রশ্নে পরাজিত।অন্যের সন্তান কে এখন গিনিপিগ বানাচ্ছেন,কী নিশ্চয়তা আছে যে কাল তাঁর সন্তান কে অন্য কেউ এরকম কষ্ট দেবে না?আনমনা হয়েই রুম থেকে বেরিয়ে যাচ্ছিলেন।পেছন থেকে শাহজাহান ধিক্কার দিয়ে বলল,"I know you are a fucking coward"...
*
প্রায় ছয় মাস হয়ে গিয়েছে।শাহজাহানের এরকম পরিবর্তনের কোনো হদিস কেউ গবেষণা করে পাচ্ছে না।আর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো যে দুদিন পরেই মরক্কো তে ভাইরাসটি পারমানবিক বোমার মতো করে ছাড়া হবে মহাকাশ থেকে।এক ডোজ ভাইরাস শুধু পাঠানো হবে কেনেডি স্পেস স্টেশনে আর সেখান থেকে স্টেপ আপ মিসাইলের মাধ্যমে মহামারী ছড়ানো হবে মরক্কো তে।এশফার্ডের এখন কাজ একটাই,ঠিক সময়ে ভাইরাস ইঞ্জেক্টরে পাঠানো।ঠিক এই কাজটি করার আগের দিন তিনি গোপণে শাহজাহানের কেবিনে প্রবেশ করলেন।"Shahjahan,wake up.I am really a fucking coward.We have a long journey ahead.Come on,hurry!"শাহজাহান এশফার্ডের ইশারা বুঝে গেল।তাকে নিয়ে এশফার্ড পালাবেন।এই রিসার্চ সেন্টার খুব বড় আর তাকে সবাই চেনে তাই কম্পাউন্ডের বাহিরে যেতে কোনো কষ্ট হলো না।দুজনেই গাড়িতে চেপে বসলেন।ড্রাইভ করতে করতেই এশফার্ড বললেন,"I realized that I am doing the most wrong thing.Science is for developing humanity not the increasement of the devils.I have stolen the last piece of that injection.My son is waiting at the airport. We will reach by there at the morning and flee away from this cursed country."কথাগুলো শুনে শাহজাহানের মুখে মুচকি হাসি জাগল।কিন্তু সে ক্রমেই অবসাদ গ্রস্ত হচ্ছে।এখন যতো তাড়াতাড়ি সম্ভব এয়ারপোর্ট পৌছুতে পারলেই হয়।
*
প্রায় ভোর হতে চলেছে।তাঁরা এয়ারপোর্ট পৌছে গিয়েছে।সেখানে ভাড়া করা প্লেন অপেক্ষা করছে।শাহজাহানের অবস্থা খুব খারাপ ভ্যাক্সিন না নেয়ার কারণে।তবুও কোনো মতে প্লেন পর্যন্ত সে পৌঁছালো।সেখানে অপেক্ষমাণ এশফার্ডের ছেলে।হঠাৎ ই সব গোলমাল হয়ে গেল।দূর থেকে দেখা গেল পুলিশের তিনটা হেলিকপ্টার আসছে।চোখের পলকেই পুরো এয়ারপোর্ট ঘিরে ফেলল এফবি আই এর গাড়ি।শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত আর পারা গেল না।এশফার্ড সেই ইঞ্জেকশনটা শাহজাহানের হাতে দিয়ে দিলেন।এফবি আই প্রধান এজেন্ট রিচার্ড গাড়ি থেকে নামলেন,"Well well,here we see.A big humanitarian scientist is trying to escape!But why?",প্রশ্ন করলেন রিচার্ড,"Richard look what we're doing is totally wrong.It will destroy human beings for ever",কথাটা শুনেই জোরে হাসলেন রিচার্ড,"Desert
ion is not tolerared" বলেই হাত দিয়ে ইশারা করলেন।এক মুহূর্ত নিস্তব্ধতা তাঁর পরই গুলিতে ঝাঁঝরা হয়ে গেল এশফার্ড আর তাঁর ছেলের দেহ।শাহজাহান বিস্ফোরিত চোখে তাকিয়ে আছে।রিচার্ড তাকে লক্ষ্য করে বললেন,"I know you have the virus shell.Give us that and we will set you free.You are a unique child so we don't mean any harm to you."
কথাটা শুনে সে একটু ভাবল।এই ইঞ্জেকশনই শেষ ইঞ্জেকশন।এশফার্
ড ছাড়া কেউ এটা বানাতে পারবেন না।শাহজাহান চিন্তা করল যদি একজনের মৃত্যুর জন্য গোটা মানবজাতি বেঁচে যায় তবে সেটা অবশ্যই ভালো।
"For sake of humanity"বলেই হাতে থাকা ইঞ্জেকশনটা নিজের গলায় পুশ করল।সফল মানবজাতি.....
মানবতার বিবর্তনই আসল বিবর্তন।মানুষ পাশবিকতা থেকে মুক্তি পেয়েছে বিজ্ঞানের কল্যাণে;আবার পাশবিকতায় মুখ থুবড়ে পড়ার
