গল্প – প্যারাময় লাভ 

       পর্ব – ২৮ 

              লেখিকা – নুরজাহান আক্তার আলো 

    

 


  

     

রুহিঃহুমম আমার ইচ্ছে আছে!আর  আমার বেশ কয়েকটা আনকমন ইচ্ছের মধ্যে একটা ইচ্ছে হলো....

.....বাসরঘরে খাট ভাঙ্গা.... 


-

রুহির কথাশুনে সবাই কিছুক্ষণের জন্য সাইলেন্ট মুডে চলে গিয়েছিল!তারপর মুগ্ধ বাদে সবাই গগন ফাটানো হাসি দিলো।মুগ্ধ আবুলের মত রুহির দিকে তাকিয়ে আছে।মুগ্ধ কল্পনার ক ও করেনি যে রুহি এমন কিছু বলবে।বাকিরা সবাই ওদের নিয়ে মজা করতে শুরু করলো।রুহি মাথা নিচু করে ভাবছে....


-

রুহিঃ খুব তো বড় বড় কথা বললে মিঃ হাজবেন্ড এবার খাট ভেঙ্গে দেখাও তো।আমি দেখি তোমার এক মাএ বউয়ের ইচ্ছে তুমি কি করে পূরণ করো।তোমাকে প্যাচে ফেলতে আমার ১মিঃ সময়ই যথেষ্ট জানেমান।


-

আবিরঃ মু.....গ্ধ.... হা.. হ..  হা... হা.... হা..আ...ম...


মুগ্ধঃআগে কথাটা বল তারপর না হয় হাসতে থাক! আর না হলে আগে হেসে নিয়ে তারপর কথাটা বল। (দাঁতে দাঁত চেপে)


রাহাতঃ ভাই খাট কিন্তু ভাঙ্গতেই হবে হা হা হা। ভাই তুই কিন্তু বলছিস! তুই তোর বউয়ের সব ইচ্ছে পূরণ করবি।


সুমিঃ হা হা হা আমি জানতাম এইরকম আনকমন কিছুই তুই চাইবি।হা হা 


রুহিঃ আমি বলছি খাট ভাঙ্গতে!আমি তো অন্য কিছু মিন করিনি!খাট ভাঙ্গা মানে আমি বসে বসে হাতুরী দিয়েও ভাংতে পারি!আবার দরকার পড়লে খাটের উপর লাফিয়েও খাট ভাংতে পারি। এখানে এত দাঁত কেলানোর কি আজিব তো!আর বড় কথা তোমরা যা ভাবছো আসলে মোটেও তা না! কারন ওই ভাবে খাট ভাঙ্গা যায় না। (জিহবা্তে কামড় দিয়ে)


রাহাতঃ আসলেই কি ভাঙ্গা যায় না.... হা হা হা


আবিরঃরুহি আমরা কিছু ভাবি নি তো.!কি ভাববো বলো তো?হা হা হা


রুহিঃ কি ভেবেছেন আমি জানি..??


মুগ্ধঃ হুম হুম সব বুঝে গেছি!আচ্ছা এই টপিক বাদ দাও কেমন!


-

বেচারা মুগ্ধ বোন আর দুলাভাইয়ের সামনে লজ্জা তো পাচ্ছে! সাথে রুহির দেওয়া শক খেয়ে মাথা নিচু বসে আছে।মুগ্ধ খুব ভাল করেই বুঝতে পারছে রুহির মাথায় অন্য কিছু পাকিয়ে বসে আছে। রাহাত,আবির,তো মুগ্ধকে পচাতেই আছে!তারপর আড্ডা শেষ করে ঘুমাতে চলে যায়!রুহি,সুমি আর ইরা এক বেডে শুয়ে আছে। রুহি সুমির পেট বরাবর পা তুলে দিসে আরামসে ঘুমাচ্ছে।আর মুগ্ধর বেডে আবির,রাহাত আর আরিয়ার শুয়ে আর মুগ্ধ সোফাতে শুয়ে আছে।আবির রাহাতের পেটের  উপর পা তুলে মুগ্ধকে বলছে...


-

আবিরঃ মুগ্ধ কালকে এই সময় কি তুই বিজি থাকবি..?


মুগ্ধঃ এখন রাত ২ঃ৪৫ বাজে!আর এত রাতে মানুষ ঘুমায় আমার জানা মতে...


রাহাতঃ কালকেও ঘুমাবি!!!!!


আরিয়ানঃ মুগ্ধ  ভাই কালকে কি কি করবে??না মানে কি কি ভেবে রাখছো??


মুগ্ধঃ মুখে বললে কি তোরা বুঝবি বল? কালকে স্বশরীরে এখানে এসে দেখিস কি করি??(দাঁতে দাঁত চেপে)


আবিরঃ ব্যাপারটা কিন্তু দারুন হবে তাই না!মুগ্ধ খাট ভাংবে আর আমরা সেটা দেখবো।


আবিরঃহা হা হা! রুহি যে এমন কথা বলবে! সত্যি ভাই বিশ্বাস কর আমি কল্পনাও করি নি।


মুগ্ধঃ.... 


রাহাতঃ মুগ্ধ কালকে সারাদিন খেতেই থাকবি কেমন! কারন রাতে বেলায় তো তোকে খাট ভাংতেই হবে।হা হা হা


মুগ্ধঃ বিয়ে করছি আমি!বাট দেখছি আমার থেকে বাসর নিয়ে তোরাই এক্সসাইটেড বেশি!আমি উচিত ছিলো! আগে তোদের বিয়ে দিয়ে তারপর আমার বিয়ে করা।


আবিরঃ একদম কথা কাটাবি না!কালকে কি কি করবি তাই বল???


মুগ্ধঃ.....


রাহাতঃ মুগ্ধ কালকে রুহিকে কি উপহার দিবি রে ভাই??


আবিরঃ কি আর দিবে একেবারে বাবু দিলেই তো হয়! তাই না.. (দুষ্টু হেসে)


আরিয়ানঃ উহুম! উহুম! থাক আমরা এসব কথা বাদ দেই!ওরা যা করবে করবে...


-

মুগ্ধ চুপ করে আছে কারন এদের সাথে এখন কথা বলা মানে নিজের বাঁশ নিজে ঘুরিয়ে নেওয়া!আবিরাও বকবক করতে করতে একটা সময় ঘুমিয়ে পড়ে!মুগ্ধও রুহির কথা ভাবতে ভাবতে একটা সময় ঘুমের জগতে পাড়ি দেয়।


-

পরেরদিন সকালে...

 

আজকে রুহি আর মুগ্ধর বিয়ে...!!


আর বিয়ে বাড়ি মানেই হাইকাউ চেচাঁমেচি! মুগ্ধরা সবাই পড়ে পড়ে ঘুমাচ্ছে! আর রুহির তো হা করে ঘুমাচ্ছে! অনেক রাত পযন্ত  আড্ডা দেওয়ার কারনে কেউ ঘুম থেকে উঠেনি।মুগ্ধর বাসার সবাই রুহিদের বাসায় গিয়ে আড্ডা দিচ্ছে! সকাল ১০ঃ১২ টার ওদের টেনে তোলা হয় সবাইকে ঘুম থেকে!মুগ্ধ, রাহাত,আবির,আরিয়ান ফ্রেশ হয়ে খেতে এসে দেখে কোন খাবারই  রান্না করা নেই কিছু! মুগ্ধ বাসার কাউকে খুঁজেও পাচ্ছে না।মুগ্ধর  আম্মুকে ফোন দিলো!তখন মুগ্ধর আম্মু বাসায় এসে মুগ্ধদের সবাইকে  রুহির বাসায় নিয়ে গেল! কারন রুহির বাপি মুগ্ধদের বাসায় রান্না করতে দেয় নি....


-

মুগ্ধ আর উপায় না পেয়ে রুহির বাসায় গিয়ে খেতে বসলো!আশে পাশে রুহিকে খুঁজলো বাট পেলো না।খাবারের মেনু খিচুড়ি,মাছ ভাজা,গরুর মাংস আর সালাড!মুগ্ধ কেবল খাবার মুখে নিতে যাবে! তখন কোথা থেকে রুহি এসে ধপ করে মুগ্ধর পাশে বসে পড়লো! আর মুগ্ধর হাতে খাবারটা ওর মুখে পুড়ে নিলো!সুমি,ইরাও এসে খেতে বসলো।সবাই যে যার কাজে বিজি তাই ওদের সামনে খাবার সাজিয়ে যে যার কাজে চলে গেছে...ডায়নিং টেবিলে আপাতত ওরা ছাড়া কেউ নেই।


-

রুহি মুগ্ধর দিকে তাকিয়ে ওকে খাইয়ে দিতে বলে।মুগ্ধও আর কথা না বাড়িয়ে নিজেও খায় আর রুহিকেও খাওয়াতে থাকে!রুহি খেতে খেতে বলছে...


রুহিঃউমম ন ন নিজে উমমম (মুখে খাবার নিয়ে)


মুগ্ধঃ মুখের খাবারটা শেষ করে কথাটা বল।তাহলে বুঝতে পারবো তাই না।(দাঁতে দাঁত চেপে)


 রুহিঃ ইয়ে মানে নিজের বিয়ের খিচুড়ি যে এত টেষ্ট না খেলে তো বুঝতেই পারতাম না।


রাহাতঃ আর কত কি শুনবো?একমাএ আল্লাহ জানে...


আবিরঃ রুহি তোমরা হানিমুনে কোথায় যাচ্ছো??


রুহিঃ এখনো ঠিক করি নি ভাইয়া! তবে খুব তারাতারি ঠিক করে ফেলবো। তারপর আপনাদের জানাবো কেমন..


রাহাতঃহুমমম!! ..


রুহিঃবাট....


আবিরঃ বাট কি বলো??


মুগ্ধঃ রুহি যা বলতে দ্বিধা করছে সেটা বলতে আর জোর  করিস না!কারন তোরা তো বেঁচে যাবি আমি ফেঁসে যাবো।তাই বলছি খাওয়াতে মন দে...


রাহাতঃরুহি তুমি বলো তো কি বলতে চাচ্ছিলে


আবিরঃ হুম! হুম! আমিও জানতে চাই..বলো! বলো!


রুহিঃআমি বলছিলাম তোমরা সবাই মেরিড হলে ভালো হতো..??


রাহাতঃ কেন?মেরিড হলে কি হতো?


রুহিঃ মেরিড হলে আমরা একসাথে হানিমুনে যেতাম আর... 


মুগ্ধঃ হাফ কথা বলিস আর হাফ ঝুলে রাখিস কেন?পুরোটা কথা বলতে না পারলে কথা বলতে আসিস কেন?


রুহিঃবিয়ের দিনেও তুমি আমাকে বকছো কেন?


আবিরঃ রাতে মিষ্টি মিষ্টি কথা বলে সব পুষিয়ে দিবে।এখন বাকি কথা টুকু বলো।(রুহির দিকে তাকিয়ে) 


মুগ্ধঃ আবির তুই ওকে খোচাচ্ছিস কেন?মনে হচ্ছে কথাটা না শুনলে তো জীবনটাই বৃথা যাবে।


আবিরঃ কথাটা আমি শুনবো তাহলে তোর এত ফাটছে কেন??


মুগ্ধঃদুম দাম করে কিছু বলে দিলে তখন হবে।তখন বুঝবি!কারন রুহি মুখ না তো মেশিন গান...


আবিরঃ আমি শুনতে চাই!তুই চুপ কর তো(মুগ্ধর দিকে তাকিয়ে) 


রুহিঃ আসলে আমরা সবাই মেরিড হলো একসাথে হানিমুনে যেতাম আর একসাথে বাচ্চা নিতাম আর কি...


রাহাতঃ হানিমুনে যেতে ঠিক আছে!বাট বাচ্চা একসাথে!কেমনে কি??? (ভ্রু কুচকে)


 রুহিঃ কেন আগে থেকে যুক্তি করে!আই মিন প্ল্যান করে!মানে ইয়ে করতাম...


-

এবার মুগ্ধর কিছু হয় নি!মুগ্ধ মনযোগ দিচ্ছে খাচ্ছে!আর মুগ্ধ এমন ভাব করছে! ওকে দেখে মনে হচ্ছে এখন যদি মনোযোগ দিয়ে না খায় তাহলে পৃথিবীটা উল্টো পথে ঘুরতে শুরু করবে।বাট রুহির কথা শুনে আবিরের ভীষম লাগছে!এমন ভীষম লাগছে যে আবিরের চোখ দিয়ে পানি ঝড়তে শুরু করছে!আর রুহি দৌড়ে গিয়ে আবিরকে থাবড়ানো শুরু করছে!রুহি আবিরের মাথা,পিঠে ইচ্ছে মত থাপড়াতে আছে।

বেচারা আবির রুহির থাপড়ানো আর কাশি কোনটাই থামতে পারছে না।দুটোই ব্রেক ফেল গাড়ির মত অবস্থা! এত থাবড়ানোর পরও আবিরের কাশি থামছে না দেখে! রুহি দৌড়ে ঝাড়ু আনলো!মুগ্ধ  রুহিকে না বলার আগেই রুহি ঝাড়ু দিয়ে আবিরের পিঠে দুম করে মেরে দেয়!আবির ঝাড়ুর মার খেয়ে মেরুদণ্ড সোজা করে বসে  আর সাথে সাথে কাশিও উবে যায়....

..............

....................

[বাকিটা পরবর্তী পর্বে.........] 

    

     

#প্যারাময়_লাভ #নুরজাহান_আক্তার_আলো #গল্পের_ডায়েরি #Pyaramoy_Love #Nurzahan_Akter_Allo #GolperDiaryOfficial