গল্প – প্যারাময় লাভ 

       পর্ব – ১০ 

              লেখিকা – নুরজাহান আক্তার আলো 

   

    

     


রুহিঃ আমাকে রেখে রেখে কোথায় গিয়েছিলে! আমাকে যদি কেউ কিডন্যাপ করতো তখন কি হতো?? (জড়িয়ে ধরে)

(ভাইয়া জড়িয়ে ধরার জন্য বাহানা করলাম!কিছু মনে করো না। মন চাচ্ছিলো খুব জড়িয়ে ধরতে তাই তোমাকে আসতে দেখেই কাঁদছিলাম। মনে মনে) 


-

মুগ্ধ রুহিকে কাঁদতে নিষেধ করে!তারপর রুহির ধরে বাস থেকে নিচে নামায় আর ফ্রেশ হয়ে নিতে বলে।রুহি বাস থেকে নেমে দেখে একটা রেস্টুরেন্টের সামনে বাস থামানো!রুহি কে ওয়াশরুমে পাঠিয়ে মুগ্ধ খাবার অর্ডার করে!রুহি ওয়াশরুম থেকে এসে চার-পাশে চোখ বুলিয়ে মুগ্ধ কে খুজে! মুগ্ধ চুপচাপ বসে রুহির কান্ড দেখছিলো!রুহি মুগ্ধকে দেখে বিশ্বজয় করা হাসি দিয়ে মুগ্ধর কাছে গেল!মুগ্ধ তাকিয়ে দেখলো রুহি চোখ মুখে পানি দিয়ে মুখটাও মুছে নি!রুহি মুগ্ধর দিকে তাকিয়ে বললো...


-

রুহিঃতোমার কাছে টিস্যু হবে???থাকলে ধার দাও তো...


মুগ্ধঃহুমম!ভেজা মুখে টিস্যু দিয়ে মুছলে টিস্যু মুখে লেগে যাবে!এটা দিয়ে মুছে নে (ওর রুমাল দিয়ে)


রুহিঃতুমি কি এটা দিয়ে মুখ মুছে ছো আমার আগে।


মুগ্ধঃহুমম! কেন??? (ভ্রু কুচকে)


রুহিঃনা মানে তোমার রুমাল দিয়ে মুখ মুছলে যদি আমারোও তোমার মত খোঁচা খোঁচা দাড়ি বের হয় তাই। 

(উফফ জানু আমি তো এটাই চাইছিলাম!মন চাচ্ছে এখুনি তোমাকে চটাস করে একটা আদর করে দেয়।আমার জানু সত্যি অনেক ভালো। মনে মনে)


মুগ্ধঃ আবার শুরু করলি!যাইহোক আমার খুধা লাগছে তারাতারি খাওয়া শুরু কর।এখন পরোটা আর গরুর মাংস, ডাল,সবজি খা আর তা না হলে  বিরিয়ানী অর্ডার দে!আমি বিরিয়ানী খাবো না... (খেতে খেতে)


রুহিঃহুমমম!আমার আবার এসব পরোটাতে ঠিক পোষায় না।ওহহ ওয়েটা ভাইয়া কাম কাম...


ওয়েটাঃজি ম্যম কিছু বলুন??


রুহিঃগরুর মাংসের বিরিয়ানী জলদি নিয়ে আসেন!সাথে একটা দই,একটা মাউন টেন ডিউ,সালাদ,আর চিকেন ফ্রাই....তারাতারি 


রুহিঃওকে ম্যম..


-

মুগ্ধ আর রুহি খাওয়ার শেষ করে বাইরে এসে দাড়ালো!রুহি পেছনে তাকিয়ে দেখে মুগ্ধ নাই।রুহি চারপাশে চোখ বুলিয়ে তাকিয়ে মুগ্ধকে খুঁজছে! ঠিক তখনই মুগ্ধ পেছনে থেকে এসে রুহির দিকে ওয়ান টাইম কাপে চা এগিয়ে দেয়!রুহি রাগী চোখে মুগ্ধর দিকে তাকিয়ে আছে।মুগ্ধ কিছু বলার আগেই...


রুহিঃ আমাকে রেখে দুমদাম করে কোথায় উবে যাও তুমি!আমি বলে যেতে কি সমস্যা হয় তোমার??(রেগে গিয়ে)


মুগ্ধঃতখন বাস থামতেই আবিরকে বাসের সামনে দাড় করিয়ে আমি ওয়াশরুমে গিয়েছিলাম!আর এখন চা খাওয়ার জন্য চা আনতে গিয়েছিলাম।আর এখানে এত রাগের কি আছে??এই নে চা খা ভালো লাগবে।


রুহিঃ বা* খাবে!তোমার চা তুমিই খাও!


মুগ্ধঃ তোকে বলিনি এসব ভাষা না বলতে!এবার শুনলে সত্যি মার খাবি তুই।আচ্ছা তুই তো খাবি না তাহলে আমিই খায়... (রুহির দিক থেকে তাকিয়ে) 


-

মুগ্ধ দুই কাপেই চুমুক দিচ্ছে! রুহি সেটা আড়চোখে দেখে নিলো!তারপর মুগ্ধর হাত থেকে একটা কাপ নিয়ে রুহি খেতে শুরু করলো!মুগ্ধ কোন রকম নিজের হাসিটা চেপে আবার ওর কাপে চুমুক দিতেই রুহি এই কাপের চা নিয়ে ওর কাপটা মুগ্ধর দিকে এগিয়ে দিলো!মুগ্ধ ভ্রু কুচকে কিছু বলার আগেই রুহি বললো.. 


রুহিঃ ওই কাপে চিনি কম তাই!(কথাটা বলে ওখানে থেকে সরে গেল)


মুগ্ধঃআর কত কি দেখতে হবে কে জানে??তুই পারিসও বটে...


-

মুগ্ধ রুহির জন্য আরো কিছু খাবার এনে রুহিকে দিলো!তারপর সবাই বাসে উঠে বসলো আর বাস আবার চলতে শুরু করলো!রুহি সারারাতে অনেক ঘুমিয়েছে তাই আর ওর ঘুম পাচ্ছেনা!ভাঙা রেকর্ডের মত মুগ্ধর কানের কাছে বকবক করেই যাচ্ছে!মুগ্ধ রুহিকে বাসের জানালা দিয়ে এটা-ওটা দেখাচ্ছে !সবাই সবার মত আনন্দ করছে!মুগ্ধও রুহির সাথে গল্প করছে!রুহি মুগ্ধকে বার বার রাগিয়ে দিয়ে নিজেই খিলখিল করে হেসে গড়িয়ে পড়ছে মুগ্ধর গায়ে।


-

তারপর ওরা সাজেকের রাস্তায় ঢুকতেই মনোরম দৃশ্য দেখে রুহি মুগ্ধ হয়ে সেই দৃশ্য দেখছে!চারদিকে সবুজ গাছপালা আর উপরে নীল আকাশ! আর আঁকাবাকা রাস্তা! রুহি বাসের জানালা দিয়ে মুখ বাড়িয়ে প্রকৃতির অপরুপ সুন্দর প্রকৃতির দেখতে ব্যস্ত।রুহির চোখ মুখ বলে দিচ্ছে রুহি ঠিক কতটা খুশি!আর সাজেকের এমন অপরূপ সৌন্দর্য্য দেখলে যে কারো মন ভালো হয়ে যাবে।


-

তারপর বাস থামলো ওদের সবার থাকার জন্য ঠিক করা রিসোর্টের সামনে!এত লং জার্নি করে সবাই টায়ার্ড হয়ে পড়ছে!তিনটা রুম মিলে থাকবে মেয়েরা আর তিনটাতে থাকবে ছেলেরা।মুগ্ধ রুহির দিকে তাকিয়ে দেখে রুহি চারপাশ ঘুরে ঘুরে দেখছে!মুগ্ধ রুহিকে ওর সাথে আসতে বললো।মুগ্ধ রুহির জন্য পরে আলাদা করে রুম বুক করছিলো!মুগ্ধ রুহিকে সেই রুমে নিয়ে গেল!তারপর মুগ্ধ রুহিকে সাওয়ার নিতে বললো। রুহি মুগ্ধর দিকে তাকিয়ে বললো...


-

রুহিঃআমি কি এখানে একা থাকবো??


মুগ্ধঃহুমম!আমাকে না বলে রুমে থেকে বের হবি না।যদিও আমি তোকে রুমে লক করে রেখেই যাবো।


রুহিঃতুমি সাওয়ার নিয়ে তারপর যাও!আর ওখানে যেয়ে কি করবে??


মুগ্ধঃতোকে ভাবতে হবে না!তুই যা আগে সাওয়া নিয়ে  নে।


-

রুহি ওর ড্রেস নিয়ে ওয়াশরুমে চলে গেল!তারপর রুহি সাওয়ার নিয়ে বের হলে মুগ্ধও সাওয়ার নিলো।তারপর দুজন দুপুরে খেয়ে আসলো!রুহী মুগ্ধকে যেতে দেয় নি তাই মুগ্ধও রুহির পাশেই শুয়ে পড়লো!কারো মুখে কোন কথা নাই!দুজনেই ঘুমিয়ে গেল!রুহির ঘুমের মাঝেই মুগ্ধর গায়ে পা তুলে দিলো!মুগ্ধ সাথে সাথে ঘুম ভেঙে গেল!মুগ্ধ আস্তে করে রুহির পা টা ওর উপর থেকে সরিয়ে উঠে বসলো!তারপর বাইরে থেকে রুম লক করে দিয়ে চলে গেল।


-

মুগ্ধ ওর বন্ধুদের সাথে কাছে আড্ডা দিতে যায়!আজকে যেহেতু সবাই টায়ার্ড এজন্য কেউ আর দুরে কোথাও যায়নি বরং আশে-পাশে ঘুরছে। অনেকটা সময় আড্ডা দিয়ে মুগ্ধ রুহির কি করছে দেখার দেখার রুহির রুমে গেল।মুগ্ধ রুমের লক খুলে ভেতরে ঢুকে দেখে রুহি ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে কাঁদছে! রুহি মুগ্ধকে দেখে মুখ ঘুরিয়ে অন্য দিকে ঘুরে বসলো।মুগ্ধ রুহির কাছে গিয়ে বললো...


-

মুগ্ধঃকি রে বুচি??এভাবে চোখের পানি আর নাকের পানি এক করছিস কেন??(রুহির মাথায় টোকা মেরে)


রুহিঃ.... 


মুগ্ধঃআমি কিছু বলছি??তুই কি আমার কথা শুনতে পাচ্ছিস না।


রুহিঃকি শুনবো হ্যা?কি শুনবো তুমি জানো না একা রুমে আমি ভয় পায় তারপরেও ডোর লক করে চলে গেলে কেন??


মুগ্ধঃতুই তো ঘুমাচ্ছিস এজন্য ডোর করে দিয়ে গেছি!এখানে কান্না করার কি হলো???যাইহোক এবার কান্না থামা যা চোখ মুখে পানি দিয়ে আয়!


রুহিঃ হুমমম!এবার যদি আমার এভাবে বন্দী করে যাও তো আমি বড় বাবা বলে দিবো আর তোমাকে বকবে...


মুগ্ধঃহুমম কথা শেষ হয়ে থাকলে এবার যা..


রুহিঃতার আগে আমাকে প্রমিস করো যে আমাকে এই কয়েকদিন আর মারবেও না বকবেও না।


মুগ্ধঃতুই কি যাবি নাকি আমিই চলে যাবো.!!!


রুহিঃ রাম গরুদের ছানা!হাসতে তাদের মানা..ওয়েট করো আমি আসছি। (মুখ ভেংচি দিয়ে)


-

মুগ্ধ বসে বসে ওর ফোন টিপছিলো! রুহি ওয়াশরুম থেকে এসে মুখ মুছে মুখে ক্রিম দিলো! তারপর চুল গুলোকে কাটা দিয়ে বেধে নিলো আর ঠোঁট লিপবাম দিলো।তারপর দুইজনে হাঁটতে বের হলো!রুহি আশেপাশে তাকিয়ে দেখছে আর মুগ্ধ রুহির পায়ের তলায় ইট পড়ছে কি না??সেটা খেয়াল করছে কারন রুহি নিচে তাকিয়ে হাটে না উপরে দিকে তাকিয়ে হাটে এজন্য উষ্টা খায় বেশি...


-

মুগ্ধ আর রুহি একটা পাহাড়ে উঠলো!এখান থেকে সূর্যাস্থ ভালো ভাবে দেখা যাবে!চারদিকে লাল আভা ছড়িয়ে পড়ছে!অদ্ভুত সুন্দর একটা রং ধারণ করছে সূর্য টা! সবুজ বনের মধ্য সূর্যটা দেখতে অসম্ভব সুন্দর দেখাচ্ছে! আস্তে আস্তে সূর্যটা ডুবে যাচ্ছে। মুগ্ধ রুহিকে রিসোর্টে ফিরতে বলছে বাট রুহি এখন কিছুতেই যাবে না।রুহি এখনো সূর্যটার দিকে তাকিয়ে আছে!রুহি মুগ্ধর দিকে না তাকিয়ে বললো...


-

রুহিঃআমি যদি এই সূযটার মত লাল টুকটুকে শাড়ি পড়ে বউ সাজি তাহলে আমাকে দেখতে কেমন লাগবে ভাইয়া?? (সূর্যের দিকে তাকিয়ে) 


মুগ্ধঃহুমম ভালো লাগবে!!!(রুহির দিকে তাকিয়ে) 


রুহিঃআমাকে একটা লাল টুকটুকে শাড়ি কিনে দাও না ভাইয়া?? 


মুগ্ধঃতোর বিয়েতে তোকে লাল শাড়ি গিফ্ট করবো কেমন!এখন চল..এখানে তারাতারি সন্ধ্যা নেমে আসে।আর বন্য প্রাণীদের উপদ্রপ খুব..


রুহিঃ তোমার বউ বানাবে...(অসাবধানতায়)


মুগ্ধঃকাকে?? (ভ্রু কুচকে রুহির দিকে তাকিয়ে) 


রুহিঃ কাউকে না চল যায়!

মুগ্ধঃহুমমম!


-

রুহি মুগ্ধকে এতবার করে ওর মনের কথা বোঝানোর চেষ্টা করে বাট মুগ্ধ বুঝেও না বোঝার ভান করে।আর যে বুঝেও না বোঝার ভান করে থাকে তাকে কখনোই কিছু বোঝানো সম্ভব না।সন্ধ্যার পরে সবাই গোল হয়ে বসে আড্ডা দিচ্ছে!সামনে আগুন জালানো আর আগুনের চারপাশে সবাই গোল হয়ে বসে আছে।তাপর হুট করে একজন মুগ্ধ হাতে গিটার ধরিয়ে দিয়ে বললো একটা গাইতে...অনেক জোরাজুরিতে মুগ্ধ গিটারের সুর তুললো....


-

তোর মন পাড়ায় থাকতে দে আমায়!

আমি চুপটি করে দেখবো আর ডাকবো ইশারায় 

তুই চাইলে বল আমার সঙ্গে চল

ওই উদাস পুরের বৃষ্টিতে আজ ভিজবো দুজনায় (।।)

..............

....................

[বাকিটা পরবর্তী পর্বে.........] 

    

     

#প্যারাময়_লাভ #নুরজাহান_আক্তার_আলো #গল্পের_ডায়েরি #Pyaramoy_Love #Nurzahan_Akter_Allo #GolperDiaryOfficial